ময়মনসিংহঃ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) শ্লীলতাহানির বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা। এদিকে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় পশুপালন অনুষদীয় গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন তালা দেয় বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা।
‘আমার বোন লাঞ্ছিত কেন প্রশাসন জবাব চাই, বোবা প্রশাসনের টনক নড়বে কবে, সিসিটিভি আছে ফুটেজ নাই, নিরাপত্তা কোথায়, ক্যাম্পাসে বহিরাগত কেন’ সংবলিত পোস্টার ও স্লোগান বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীদের হাতে দেখা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল জব্বারের মোড় থেকে শাহজালাল পশুপুষ্টি মাঠ গবেষণাগার সংলগ্ন রাস্তায় শ্লীলতাহানির শিকার হোন পশুপালন অনুষদের তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রী। ইচ্ছাকৃতভাবেই ওই রাস্তায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা প্রবেশ করান চালক। এ সময় তাঁর অটোতে কোনো যাত্রী ছিল না। পরো সেই চালককে ধরার চেষ্টা করা হলে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান।
পরে দুপুর ১টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীরা আলোচনায় বসেন। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কাছে তাঁদের দাবি তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো—বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট রাস্তা ব্যতীত অটো চলাচল নিষিদ্ধ করা এবং রিকশাগুলোর নির্ধারিত কোড ও রিকশাচালকদের নির্দিষ্ট পোশাকের ব্যবস্থা করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মের রাস্তাগুলোতে অবিলম্বে নিরাপত্তা জোরদার করা এবং গতদিনের ঘটে যাওয়া ঘটনার অবিলম্বে বিচার করা।
পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীরা প্রক্টরদের ব্যক্তিগত আক্রমণ করে গালিগালাজ করেছে। আমরা প্রক্টরিয়াল বডির (প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরবৃন্দ) সদস্যরা স্বাক্ষর করে একযোগে পদত্যাগ পত্র প্রক্টরিয়াল অফিসে জমা দিয়েছি।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যৌক্তিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল প্রবেশপথগুলোতে নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে সংযোগ জোরদার করার জন্য সাধারণ নম্বর দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মের রাস্তাগুলোতে কালকে থেকেই নিরাপত্তা জোরদার করা হবে এবং শ্লীলতাহানির এই ঘটনার উপযুক্ত বিচারের জন্য পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।’
প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ বিষয়ে তিনি জানান, প্রক্টর এবং ছাত্রদের মধ্যে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। এটি সাময়িক বিষয়। বিষয়টির সমাধান করা হচ্ছে। দুই এক দিনের মধ্যে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। প্রক্টররা আবার তাদের কর্মস্থলে যোগদান করবে।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১১/০২/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
