শিক্ষাবার্তা ডেস্ক, ঢাকাঃ দেশে উচ্চশিক্ষার হার বাড়ছে। সঙ্গে বাড়ছে বেকারত্বও। যে বিষয়ে শিক্ষার্থীরা তত্ত্বীয় পড়ালেখা করছে, সে বিষয়ে ব্যবহারিক জ্ঞান না থাকায় গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেও মিলছে না চাকরি। বহুজাতিক কোম্পানিগুলো জনবল নিয়োগে ডিগ্রির চেয়ে দক্ষতাকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। তারা চাকরি দিতে দক্ষ গ্র্যাজুয়েট খুঁজছেন। অথচ কোনোমতে স্নাতক শেষ করে বেশিরভাগ গ্র্যাজুয়েট সরকারি বিভিন্ন চাকরির পেছনে ছুটছেন। এতে উচ্চশিক্ষিত বেকার বাড়ছে।
ইউজিসি বলছে, একজন শিক্ষার্থী যে বিষয়েই পড়ালেখা করুক না কেন, স্নাতক পর্যায়ে ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলকর করলে তাদের দক্ষতা বাড়বে। এতে চাকরিবাজারে তাদের চাহিদাও বৃদ্ধি পাবে। ফলে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে বেকার থাকার হার কমবে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তদারককারী সংস্থাটি এ নিয়ে সরকারের কাছে সুপারিশও তুলে ধরেছে। ৪৯তম বার্ষিক প্রতিবেদনে যে ১৪টি সুপারিশ করা হয়েছে, তার মধ্য অন্যতম হলো শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করা।
ইউজিসির সুপারিশমালার ১০ নম্বরে উল্লেখ করা হয়েছে, স্নাতকদের চাকরির বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে জ্ঞান ও দক্ষতা উন্নয়নের জন্য শিক্ষা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা স্থাপন করতে হবে। এক্ষেত্রে তিন থেকে ছয়মাসের বাধ্যতামূলক ও কার্যকরী ইন্টার্নশিপ চালু করলে তা স্নাতকদের দক্ষতা বাড়াবে। একই সঙ্গে এটা চাকরিতে প্রবেশ ও ক্যারিয়ার গঠনের ক্ষেত্রেও সহায়ক হবে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
ইউজিসি সচিব ড. ফেরদৌস জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের তত্ত্বীয় শিক্ষার পাশাপাশি হাতে-কলমে শেখাটাও জরুরি। চাকরির বাজারে দক্ষ গ্র্যাজুয়েটদের চাহিদা বেশি। বহুজাতিক অনেক কোম্পানি ভালো বেতনে চাকরি অফার করলেও তারা দক্ষা গ্র্যাজুয়েট পান না বলে অভিযোগ করে থাকেন। এ সমস্যা নিরসন ও বেকার কমাতে শিক্ষার্থীদের স্নাতক পর্যায়ে যেকোনো সময়ে অন্তত ৩ থেকে ৬ মাসের ইন্টার্নশিপ করানো যেতে পারে। সেটাই সুপারিশে বলা হয়েছে।’
পেশাজীবীদের দিয়ে ক্লাস করানোর সুপারিশ
শিক্ষার্থীদের আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে ইন্ডাস্ট্রির অভিজ্ঞা পেশাজীবীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সুযোগ দেওয়ার সুপারিশ করেছে ইউজিসি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের সুযোগ সৃষ্টিরও প্রস্তাব করা হয়েছে।
ইউজিসির সুপারিশে আরও বলা হয়, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার লক্ষ্যে উন্নত বিশ্বের আদলে বাংলাদেশের জন্য নীতি ও কৌশল প্রণয়ন করা প্রয়োজন। ইন্ডাস্ট্রি-বিশ্ববিদ্যালয় যৌথ গবেষণা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আয়ের একটি অংশ শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন, স্টার্ট আপ এবং পণ্যের বাণিজ্যিকীকরণের বিধান রেখে সরকার নীতিমালা প্রণয়ন করতে পারে।
একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যান
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা প্রয়োজন। মাস্টারপ্ল্যানে বিষয়বস্তু, গবেষণাগার, কোন বিষয়ে কতজন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে, ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত কেমন হবে- তা উল্লেখ থাকতে হবে। মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কৌশলগত শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন কর্মপরিকল্পনা থাকতে হবে, যা পর্যায়ক্রমে অনুসরণ করে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুণগত মান অর্জন নিশ্চত করবে। এ বিষয়েও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দের সুপারিশ
শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো কোয়ালিটি এস্যুরেন্স সেল প্রতিষ্ঠিত হয়নি, সেখানে দ্রুত তা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একইসঙ্গে সেলের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে তদারকি করতে হবে। এছাড়া দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক তৈরি করতে ইউনিভার্সিটি টিচার্স ট্রেনিং একাডেমি, উন্নতমানের গবেষণার জন্য সেন্ট্রাল রিসার্চ ল্যাব এবং গবেসণার প্রয়োজনীয় ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ করতে পারে।
গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি ঠেকাতে নীতিমালা
দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণায় প্লেজিয়ারিজম বা চৌর্যবৃত্তি ঠেকাতে জাতীয় পর্যায়ে কোনো নীতিমালা নেই। এজন্য গবেষণাপত্রে চৌর্যবৃত্তির বিষয়টি সংজ্ঞায়িত করাও যাচ্ছে না। প্লেজিয়ারিজম বা চৌর্যবৃত্তি বিষয়ক সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করা আবশ্যক।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৯/০২/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
