ঢাকাঃ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেল এবং সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিটনের দখলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি আবাসিক হলের পাঁচটি কক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মওলানা ভাসানী হলের ৩২০ ও ৩২২ নম্বর কক্ষ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহেলের দখলে। দুই কক্ষে আটজনের আসন। কিন্তু কক্ষ দুটি তিনি একাই দখল করে রেখেছেন।
৩২২ নম্বর কক্ষে নিজে থাকেন এবং ৩২০ নম্বর কক্ষকে বানিয়েছেন আড্ডার রুম।
আকতারুজ্জামান সোহেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগে ভর্তি হন ৪২তম ব্যাচে (২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষ)। ওই ব্যাচের শিক্ষার্থীরা অন্তত ছয় বছর আগে স্নাতকোত্তর শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়েছেন। কিন্তু সোহেল এখনো ক্যাম্পাসে রয়ে গেছেন।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লিটন থাকেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ৩৪৭ নম্বর কক্ষে। দখল করে রেখেছেন ৩৪৯ নম্বর কক্ষও। দুই কক্ষ মিলিয়ে মোট আটটি সিট তাঁর একার দখলে। তিনি দর্শন বিভাগের ৪৩তম ব্যাচের (২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী।
এই ব্যাচ স্নাতক শেষ করেছে ২০১৯ সালে। তিনি পোষ্য কোটায় ভর্তি হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী পোষ্য কোটায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের হলে থাকার নিয়ম নেই, তবু হলে থাকেন লিটন।
তা ছাড়া কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের ছোট ভাই আরমান খান যুবু থাকেন মওলানা ভাসানী হলের ১২৬ নম্বর কক্ষে। তিনি এই কক্ষে থাকছেন আকতারুজ্জামান সোহেলের নির্দেশনায়।
এ ছাড়া ছাত্রত্ব নেই এ রকম কমপক্ষে ১৫০ জন শাখা ছাত্রলীগের নেতা অবৈধভাবে কক্ষ দখল করে থাকছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেল বলেন, ‘আমি যে রুমে থাকি সেখানে বৈধ শিক্ষার্থীরাও মাঝে মাঝে এসে থাকেন। আমি একা দখল করে রাখিনি।’
আরমান খান যুবুর ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘না উনি এখন আর হলে থাকেন না। ওই কক্ষের ব্যাপারে জানি না।’
পোষ্য হওয়া সত্ত্বেও হলে থাকার বিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিটন বলেন, ‘আগে নিয়মিত হলে থাকতাম না। ছাত্রলীগের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে সাংগঠনিক কাজ করার জন্য হলে থাকি।’
দুই রুম দখলে রাখার বিষয়ে জানান, এটা ভুল তথ্য, ওই রুমে অন্যদের অ্যালটমেন্ট আছে।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছাত্রত্ব না থাকার পরও ছাত্রলীগের নেতাদের ক্যাম্পাসে থাকার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের অজানা নয়। তবু কর্তৃপক্ষ কখনোই কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ‘ছাত্র না থাকলে তার ছাত্র সংগঠনে পোস্ট থাকে কিভাবে? অবৈধভাবে হলে থাকা এসব ছাত্র চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে যুক্ত হয়। এদের হলে অবস্থানের দায়ভার প্রভোস্টদের।’
এর মধ্যে গত রবিবার সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত হয় আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে অছাত্রদের ক্যাম্পাস ছাড়তে হবে। কিন্তু অছাত্র নেতাদের ক্যাম্পাস ছেড়ে যাওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো আলামত দেখা যাচ্ছে না।
মওলানা ভাসানী হলের প্রাধ্যক্ষ হোসাইন মো. সায়েম বলেন, ‘আমরা অভিযান চালাচ্ছি অবৈধ শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে দেওয়ার ব্যাপারে।’
আরমান খান যুবুর হলে থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার জানা মতে সে হলে থাকে না, আমরা ওই কক্ষে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের অতিদ্রুত তুলে দেব।’
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ ইস্রাফিল বলেন, ‘আমরা অভিযান চালাচ্ছি। অবৈধভাবে হলে কেউ অবস্থান করতে পারবে না। সে যেই হোক, যেকোনো সংগঠনের হোক।’ কালের কণ্ঠ
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৭/০২/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
