শিক্ষাবার্তা ডেস্ক, ঢাকাঃ টাকা দিলেই মেলে পাস নম্বর। আবার চাইলেই অর্থের বিনিময়ে নাম তোলা যায় সেরাদের তালিকায়। এই চিত্র রাজধানীর গেন্ডারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের। শুধু তাই নয়, অভিযোগ আছে অর্থ আত্মসাৎ আর প্রশ্ন ফাঁসেরও। এসব নিয়েই শিক্ষক আর ম্যানেজিং কমিটির দ্বন্দ্বে বন্ধ শিক্ষা কার্যক্রম। এমন পরিস্থিতির জন্য একে অপরকে দুষছেন দুই পক্ষই।
সাথী আক্তারের ১১ বছরের কর্মস্থল গেন্ডারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়। কিন্তু এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তার অভিযোগের শেষ নেই। সাথীর মতো এমন একাধিক শিক্ষকের অভিযোগ একই। এরই মধ্যে চাকরি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বিদ্যালয়টির সহকারী প্রধান শিক্ষক আর জোরপূর্বক ছুটিতে পাঠানোর অভিযোগ প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলামের।
শিক্ষকদের বিরুদ্ধেই কেনো এমন বিমাতাসুলভ আচরণ। জানতে বিদ্যালয়ে হাজির প্রতিবেদক। শুরুতেই বাধা, এরপর অনুমতি নিয়ে ভেতরে ঢুকতেই সামনে আসতে থাকে একের পর এক ভয়াবহ চিত্র। শিক্ষক আর ম্যানেজিং কমিটির দ্বন্দ্বে তালা দেয়া বিদ্যালয়টির একাংশে। বন্ধ রয়েছে আইসিটি ক্লাস আর ল্যাব কার্যক্রম। অসহায় শিক্ষক অবিভাবকরাও।
গেন্ডারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, তালাবদ্ধ কক্ষের চাবি তার নিজ কক্ষে। কিন্তু তিনি নিজেই তার কক্ষে প্রবেশ করতে পারছেন না।
নিজেদের দ্বন্দ্বে কেন শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর না পাওয়া গেলেও উত্তর মিলেছে চাকরিচ্যুত হওয়া শিক্ষকদের বিষয়ে। নতুন কমিটি প্রশ্ন তুলেছেন তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে।
গেন্ডারিয়া স্কুলের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মিশু দাবি করেন, ৮০ শতাংশ শিক্ষক এবং বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা উপযুক্ত না।
সাথী আক্তারের শিক্ষার মান যাচাইয়ে নিজেরা পরীক্ষা নিলেও অন্যদের ক্ষেত্রে ভূমিকা ঠিক তার বিপরীত। ২০০৮ সালে শিক্ষা বোর্ড থেকে দেয়া অডিট রিপোর্টে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির অন্য দুই শিক্ষিকার নিয়োগ অবৈধ। আশ্চর্যের বিষয়, এমন অডিট রিপোর্টের পরও গেল ১৬ বছর এই স্কুলেই শিক্ষকতা করে যাচ্ছেন তারা। এমনকি তাদের একজন বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন শিক্ষকদের প্রতিনিধি হিসেবে। অথচ তার কিছুই জানেন না সভাপতি মাহবুবুর রহমান মিশু। দাবি করলেন, এর কিছুই তিনি পাননি।
শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের বেধড়ক পেটানো, প্রশ্ন ফাঁস, টাকার বিনিময়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের উত্তীর্ণ করার মতো সীমাহীন দুর্নীতির একাধিক প্রমাণও এসেছে এর কাছে। এসব নিয়ে বারবার অভিভাবকরা চিঠি দিলেও তার দৌড় টেবিল পর্যন্তই।
এসব ঘটনার কারণ খুঁজতে গেলে যেতে হবে একটু পেছনে। গেল বছর ১১ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব পায় নতুন এই ম্যানেজিং কমিটি। এরপরই শুরু হয় প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয় ছাড়া করার প্রক্রিয়া।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামকে ফোন করে তাকে ঢাকা ছাড়ার হুমকি দেন সভাপতি মিশু। টেলিফোনের ওই কল রেকর্ডে শোনা যায়, ‘দেশের টিকিট কাটতে হইব, ঢাকা ছাড়তে হইব। বোঝেন নাই, আপনি রোহিঙ্গা।’
প্রধান শিক্ষকের দাবি, বিদ্যালয়টির অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় দেড় কোটি টাকাই সব ঘটনার মূলে। তাতে বাধা দিলেই শুরু হয় ছাঁটাই, পদত্যাগে বাধ্য করা আর জোরপূর্বক ছুটিতে পাঠানো। যার সবকিছুই অকপটে স্বীকার করেছেন সেই কমিটিরই এক সদস্য বেবি হওয়া রুমা। এই অবিভাবক প্রতিনিধি বলছেন, বারবার প্রতিবাদ করায় তিনিও বাধ্য হচ্ছেন দায়িত্ব ছাড়তে।
এসব ঘটনা নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো অভিযোগ পড়ছে গেন্ডারিয়া থানায়। যা নিয়ে দুশ্চিন্তার ভাজ শিক্ষার্থী ও অবিভাবকের কপালে। সময় সংবাদ
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০২/০২/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
