রাজশাহীঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে সহকর্মীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বিভাগের ৪৬৪তম একাডেমিক কমিটির সভায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি মো. নুরুজ্জামান। ভুক্তভোগী শিক্ষকও একই বিভাগে চাকরি করেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার বিভাগের ৪৬৪তম একাডেমিক কমিটির সভা দুপুর ১২টায় শুরু হয়। সভায় বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের পরীক্ষা কমিটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা কমিটিতে একজন সভাপতি এবং চারজন সদস্য থাকে। সদস্যদের মধ্যে একজনকে বাইরে থেকে আনা হয় (এক্সটারনাল শিক্ষক)।
বিভাগের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণত পরীক্ষা কমিটির সভাপতি তাঁর পছন্দমতো এক্সটারনালের নাম সুপারিশ করেন।
তবে বিভাগের বর্তমান সভাপতি, পরীক্ষা কমিটির সভাপতির সুপারিশ না নিয়ে আগেই একজন এক্সটারনাল শিক্ষককে কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন। পরীক্ষা কমিটির সভাপতি এ বিষয় নিয়ে সভায় আপত্তি জানান। এ সময় তাঁর পক্ষ নেন সভায় উপস্থিত অধিকাংশ শিক্ষক। তখন ভুক্তভোগী শিক্ষক পরীক্ষা কমিটির সভাপতির পক্ষ নিয়ে কথা বলা শুরু করেন। ফলে ভুক্তভোগী শিক্ষক ও বিভাগের সভাপতির মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে বিভাগের সভাপতি নিজ চেয়ার থেকে উঠে ভুক্তভোগীর গলা চেপে ধরেন। পরে সভায় উপস্থিত শিক্ষকরা তাঁকে থামান।
ভুক্তভোগী শিক্ষক বলেন, ‘সভাপতির বিপক্ষে কথা বললে তাঁর সঙ্গে আমার তর্ক হয়। পরে তিনি আমার গলা চেপে ধরেন। আমি পাল্টা আক্রমণ না করে তাঁকে নিষেধ করি। কিন্তু তার পরও আমাকে মারার চেষ্টা করেন তিনি। পরে উপস্থিত শিক্ষকরা তাঁকে থামান। এতে আমি অপমানিত হয়েছি। এর আগেও একজন শিক্ষক ও ছাত্রকে লাঞ্ছিত করেন তিনি।’
নাম প্রকাশ না করে শর্তে বিভাগের এক শিক্ষক বলেন, ‘ভুক্তভোগী শিক্ষক একটু উঁচু গলায় কথা বলেছেন। তবে বিভাগের সভাপতির উচিত হয়নি তাঁকে লাঞ্ছিত করা। তাও ভালো ভুক্তভোগী শিক্ষক কোনো পাল্টা আক্রমণ করেননি। যদি হতো তাহলে বিষয়টি অন্য দিকে মোড় নিত।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি মো. নুরুজ্জামানকে কল করা হলে তিনি তা রিসিভ করেননি।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৪/০১/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
