মো. লিটন হোসেনঃ সবার জন্য উন্মুক্ত কর্মমুখী, গণমুখী ও জীবনব্যাপী শিক্ষা এই প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে দেশের একমাত্র দূরশিক্ষণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। বাংলাদেশের সকল পর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বস্তরের জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে বাউবি এক অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে।
তবে সফলতার পাশাপাশি কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাউবি কার্যকর ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে বাউবিতে স্থগিত হওয়া আইন অনুষদ।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ২০০৫ সালে বাউবিতে ‘স্কুল অব ল’ অনুমোদন করেন। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই বিভাগটি স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে ৪ বছর মেয়াদি আইন অনার্স প্রোগ্রাম সামাজিক বিজ্ঞান মানবিক ও ভাষা স্কুলের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে বাউবিতে ৪ বছর মেয়াদি আইন অনার্স ও এলএলএম প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। তা ছাড়াও সামাজিক বিজ্ঞান মানবিক ও ভাষা স্কুলে বাংলা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইতিহাস, দর্শন, সমাজতত্ত্ব, ইসলামের ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান প্রভৃতি বিষয়ের ৪ বছর মেয়াদি অনার্স ও মাস্টার্স প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। একটা অনুষদের অধীনে ৮টি বিষয়ের অনার্স ও মাস্টার্স প্রোগ্রাম চালানো খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।
অসহনীয় সেশনজট, সময় মতো পরীক্ষা না হওয়া, প্রায় ৩ মাস ব্যাপী দীর্ঘমেয়াদি রুটিন, ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব এবং কোনো একাডেমিক গতিশীলতা না থাকায় শিক্ষার্থীরা মারাত্মক হতাশার মধ্যে আছে।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় আইন প্রোগ্রাম ২০১৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। যেখানে ২০১৩-১৪ সেশনে ১ম ব্যাচ শুরু হয়। পরে ২০২১-২২ সেশনে এলএলএম প্রোগ্রাম চালু করা হয়।
বাউবিতে আইন প্রোগ্রামই একমাত্র বিষয় যেখানে শুক্র-শনি ব্যাচের পাশাপাশি নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য রবি-বুধ ব্যাচ রয়েছে। আইন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরা তাদের স্থগিত হওয়া স্কুল অব ল চালুসহ প্রত্যেকটা যৌক্তিক দাবি-দাওয়া আদায়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছে। কিন্তু কষ্টদায়ক ব্যাপার হচ্ছে দাবি-দাওয়ার ব্যাপারে বারবার আশ্বাস মিললেও তার যথাযথ বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
এমতাবস্থায় বাউবি আইন প্রোগ্রামের প্রতিটা শিক্ষার্থী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি-দাওয়া আদায়ে আন্তরিক হবেন, অনতিবিলম্বে স্কুল অব ল চালু করবেন এবং তার বাস্তবায়ন ঘটাবেন। যা এখন বাউবি আইন প্রোগ্রামের প্রতিটা শিক্ষার্থীর প্রাণের দাবি।
লেখকঃ শিক্ষার্থী, আইন প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
“মতামত ও সাক্ষাৎকার কলামে প্রকাশিত নিবন্ধ লেখকের নিজস্ব। শিক্ষাবার্তা’র সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে মতামত ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক ও আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের;- শিক্ষাবার্তা কর্তৃপক্ষের নয়।”
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২০/০১/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
