এইমাত্র পাওয়া

মিথ্যা অভিযোগ: তদন্তে শিক্ষক মাইনুলের বিরুদ্ধে প্রমাণ মেলেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ সনদ জালিয়াতির অভিযোগ তুলে একাধিক  দপ্তরে মিথ্যা নামে  চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর পপুলার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষক মোহাম্মদ মাইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা লিখিত অভিযোগের তদন্ত করেছে  মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। তবে তদন্তে জালিয়াতির অভিযোগের কোন সত্যতা মেলেনি।

জানা গেছে, নারায়ণপুর পপুলার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন সহকারী শিক্ষক মোঃ মাসুম প্রধান নামে আইসিটি শিক্ষক মোহাম্মদ মাইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে শিক্ষার একাধিক দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগ আমলে নিয়ে গত বছর ৮ নভেম্বর মাউশি থেকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসকে।

মাউশির বেসরকারি মাধ্যমিক শাখার সহকারী পরিচালক কাওছার আহমেদ স্বাক্ষরিত তদন্তের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলাধীন নারায়ণপুর পপুলার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কর্তৃক সহকারী শিক্ষক (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) জনাব মোহাম্মদ মাইনুল ইসলাম এর ভুয়া সনদে অবৈধ নিয়োগ প্রদান করায় দায়িত্বহীন ও দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষক ও ভুয়া সনদধারী সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জনাব মো: মাসুম প্রধান (সহকারী শিক্ষক- প্রাক্তন), গ্রাম+পো: নারায়ণপুর, মতলব দক্ষিণ, চাঁদপুর এ অধিদপ্তরে আবেদন করেছেন।   এমতাবস্থায়, বর্ণিত ও সংযুক্ত অভিযোগ বিষয়ে তদন্তপূর্বক মতামতসহ প্রতিবেদন আগামী ০৭ (সাত) কর্মদিবসের মধ্যে প্রেরণ করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ আজিজুল হক তদন্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে।

জানা গেছে, নারায়ণপুর পপুলার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন সহকারী শিক্ষক মোঃ মাসুম প্রধান নামে যে অভিযোগটা দায়ের করা হয়েছিল বাস্তবে তিনি কোন লিখিত অভিযোগ করেননি। তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট তিনি তার লিখিত বক্তব্যে জানিয়েছেন। শিক্ষাবার্তা’কে তিনি নিশ্চিত করেন তিনি কোন লিখিত অভিযোগ দেননি। কে বা কারা তার নামে এই লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তা তিনি জানতে পারেননি।

জানা গেছে, সনদ জালিয়াতির অভিযোগ তুলে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তে সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে এসএসসি এবং ১৯৯৭ সালে এইচএসসি পাস করে এরপর দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (বিএসসি) পাস করেন মোহাম্মদ মাইনুল ইসলাম । এরপর ১২ তম এনটিআরসিএ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় আবেদন করে পাস করেন এবং ২০১৯ সালে এনটিআরসিএ কর্তৃক সহকারী শিক্ষক (আইসিটি) পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হন এবং এমপিওভুক্ত হয়ে তার দায়িত্ব পালন করছেন। তবে যে সনদ জালিয়াতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি এই তদন্তে।

এ বিষয়ে মাইনুল বলেন,, আমি এনটিআরসিএ থেকে নিজের যোগ্যতায় শিক্ষক নিবন্ধন সনদ অর্জন করি। একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হওয়ায় আমি এই বিদ্যালয়ে অফিস করণিক পদে চাকরিরত অবস্থাতেই কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এই সনদ নিজ মেধায় অর্জন করি। এরপর ২০১৮ সালে এনটিআরসিএ আমাকে শিক্ষক হিসেবে সুপারিশ করলে আমি অত্র প্রতিষ্ঠানে যোগদান করি। যে প্রতিষ্ঠানে একজন অফিস করণিক হিসেবে কর্মরত ছিলাম সেই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে সুপারিশ প্রাপ্ত হলে এলাকাবাসীসহ বিদ্যালয়টির শিক্ষক শিক্ষার্থী অভিভাবক, ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং শিক্ষা অফিসের কর্মরত কর্মচারীগণ আমাকে নিয়ে গর্ববোধ করেন। আমার কঠোর পরিশ্রম এবং সাফল্যে তাঁরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। অভিভাবকেরা তাদের সন্তানকে আমার পরিশ্রমের সাফল্যে আদর্শ হিসেবে বর্ণনা করেন। কে বা কাহারা মিথ্যা নামে অভিযোগ দায়ের করেছেন তা আমি জানতে পারিনি। তবে অভিযোগে তদন্তে আমার কাছে যা জানতে চাওয়া হয়েছে এবং যে যে কাগজপত্র দেওয়ার কথা বলা হয়েছে আমি তা দিয়েছি। আমি কোন মিথ্যার আশ্রয় নেয়নি। আজ এ পর্যন্ত আসা আমার কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে।

মাউশির সূত্র নিশ্চিত করেছে, যে অভিযোগের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হয়েছে আসলে সেই অভিযোগের কোন সত্যতা মেলেনি তদন্ত প্রতিবেদনে।

জানতে চাইলে মাউশির মাধ্যমিক শাখার উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আজিজ উদ্দিন বলেন, তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়, মাউশি তাদের শোকজ করে। তদন্তে প্রমাণ না পাওয়া গেলে তাদের অভিযোগের ফাইল ক্লোজ করে দেওয়া হয়। যেহেতু বিষয়টি তদন্ত প্রবিদেন চলে আসছে এবং শোকজ করা হয়নি তাহলে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৮/০১/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.