এইমাত্র পাওয়া

নেই নিয়মের তোয়াক্কা: শ্বশুর সভাপতি, পুত্রবধু প্রধান শিক্ষক

বাগেরহাটঃ জেলার মোরেলগঞ্জে নিয়ম নীতির কোন তোয়াক্কা না করে হযবরল ভাবে চলছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পুত্রবধু ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে, শ্বশুর সভাপতি মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে ম্যানেজিং কমিটির কার্যক্রম। এ নিয়ে অভিভাবকদের মাঝে বিরাজ করছে চরম ক্ষোভ। স্থানীয় দলাদলিতে বিদ্যালয়ে নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত।

সরজমিনে বৃহস্পতিবার খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার হোগলাবুনিয়া ইউনিয়য়ে ৩০৭ নং দক্ষিণ পাঠামারা হাজীগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০০৬ সালে স্থাপিত হলেও ২০১৩ সালে জাতীয় করণের আওতায় অর্ন্তভুক্ত হয়। সেই সময় থেকেই ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে জমিদাতা বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাসরিন আক্তারের শ্বশুর আব্দুল জলিল শেখ। পরপর দুইবারে ৬ বছর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পরবর্তীতে ওই কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয় ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।

মার্চ মাসে নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হলে কমিটির সভাপতির পদ নিয়ে স্থানীয় দ্বন্ধে কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। ঝুলে থাকে নতুন কমিটির গঠন প্রক্রিয়া। পরে স্বঘোষিত ভাবে পূর্বের সভাপতি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের শ্বশুর জলিল শেখ ম্যানেজিং কমিটির সকল কার্যক্রম অদ্যাবধি পর্যন্ত নিজেদের ইচ্ছা মতো চালিয়ে আসছেন। বিদ্যালয়ের উন্নয়নকল্পের সরকারি বরাদ্দের নেই কোন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। এ নিয়ে নানা ক্ষোভ স্থানীয় অভিভাবকদের।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকল্পে চলতি কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার দুইমাসের মধ্যে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত কমিটি অথবা সর্বসমর্থিত কমিটি হতে হবে। বর্তমান এ প্রজ্ঞাপনে বিদ্যালয়ের সভাপতি পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা নুন্যতম বি.এ পাশ থাকতে হবে। সেখানে রয়েছে সভাপতি এসএসসি পাশ।

নিয়ম অনুযায়ী, নতুন কমিটির গঠনের ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হয় তাহলে নির্দিষ্ট দুই মাসের মধ্যে এডহক কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হবে ম্যানেজিং কমিটি। বর্তমানে এ বিদ্যালয়টির কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে ১০ মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও পূর্বের কমিটির দ্বারা চলছে ম্যানেজিং কমিটির কার্যক্রম। এ নিয়ে স্থানীয় দলাদলিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে আসছে।

কাগজে কলমে এ বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী ৭৬ দেখানো হলেও বিদ্যালয়ের উপস্থিতির চিত্র চতুর্থ শ্রেণিতে ৩ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ৩ জন, ৫ম শ্রেণিতে ৬ জন, শিক্ষার্থী। ২য় শিফটে সরেজমিনে এটি বিদ্যালয়ের চিত্র। বিদ্যালয়ের শিক্ষক মন্ডলীর ৫টি পদ থাকলেও প্রধান শিক্ষকের পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) নাসরিন আক্তার, তার ননদ সহকারি শিক্ষিকা শেফালী আক্তার ও শ্বশুর সভাপতি থাকায় সেই সুবাদে নিজেদের ইচ্ছে মাফিক চলছে বিদ্যালয়টি।

শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বরাদ্দের কোন হিসাব নিকাশ নেই। ছাত্র-ছাত্রী কমলো নাকি বাড়লো এ নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা নেই শিক্ষকদের। কোন মতে মাস পার করতে পারলেই হয়, শিক্ষকরাও সঠিক সময়ে বিদ্যালয়ে আসছে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে একাধিকবার জানিয়েও কোন প্রতিকার মিলছে না।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাসরিন আক্তার বলেন, গত বছরের ক্ষুদ্র মেরামতের বরাদ্দ থেকে বিদ্যালয়ের রঙের কাজ করানো হয়েছে। সভাপতি পদে তার শ্বশুর জলিল শেখ ২বারে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার, সংশ্লিষ্ট ক্লাষ্টার, সহকারী শিক্ষা অফিসার সহ একটি টিম স্কুলে এসেছিলেন। জটিলতার কারনে কমিটি গঠন হয়নি।

তবে পূর্বের কমিটিই ম্যানেজিং কমিটির কাজ করছেন। ধান কাটা মৌসুমে বেশীরভাগ ছেলে মেয়েরা ধান সংগ্রহে মাঠে নেমে যায়। তাই শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কম।

এ সম্পর্কে উপজেলা শিক্ষা অফিসার শেখ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, দক্ষিণ পাঠামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটি গঠন হয়নি। গত বছর মার্চ মাসে এবিষয়ে বিদ্যালয় পরিদর্শন করা হয়েছিলো। আমার জানামতে জটিলতার কারনে নতুন কমিটির তালিকা ঝুলে ছিলো। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট ক্লাষ্টার সহকারী শিক্ষা অফিসার বিষয়টি অবহিত না করায় হ্যাঙ্গিং অবস্থায় রয়ে গেছে।

তবে এখন নতুন করে একজন সহকারী অফিসারকে ওই ক্লাষ্টারের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন বলে এ কর্মকর্তা জানান। জনকণ্ঠ

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৮/০১/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.