ময়মনসিংহঃ জেলার নান্দাইলে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত সিংরইল হরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারটি শ্রেণিকক্ষ আগুনে পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবনটির ভেতরে-বাইরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের একটি দল ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে আগামীকাল রবিবার ‘রিবন্ড হ্যামার’ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটির বিভিন্ন জায়গা পরীক্ষা করবে বলে জানা গেছে।
দ্বিতল ভবনটির নিচতলার চারটি শ্রেণিকক্ষের ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীদের বেঞ্চ, শিক্ষকদের সামনে থাকা টেবিল ও ব্ল্যাকবোর্ড আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এমনকি আগুনের উত্তাপে শ্রেণিকক্ষের বৈদুতিক পাখাগুলোর কাঠামোও গলে নিচে পড়ে রয়েছে। এ ছাড়া লোহার জানালা ও লোহার গ্রিল আগুনের উত্তাপে বাঁকা হয়ে বাইরের দিকে বেরিয়ে এসেছে। শ্রেণিকক্ষে শুধু আসবাবের নিচে থাকা লোহার কাঠামোগুলো পুড়ে বাঁকা হয়ে পড়ে রয়েছে। এছাড়া কক্ষের চারপাশের দেয়াল ও ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। আগুনে পুড়ে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত শ্রেণিকক্ষ ছাড়াও সামনের দেয়াল কালো হয়ে আছে। শ্রেণিকক্ষের ভেতরে পড়ে রয়েছে বেঞ্চের কাঠামো। ছাই পড়ে রয়েছে পুরো শ্রেণিকক্ষে। দপ্তরি না থাকায় বিদ্যালয়ে আসা পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের দিয়ে শিক্ষকরা পানি এনে টুকরা কাপড় দিয়ে একটি কক্ষের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়া কয়েকটি বেঞ্চের ছাই পরিষ্কার করাচ্ছেন।
ওই সময় দেখা যায়, নতুন বই ও নতুন পোশাক পরে আসা শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের অবস্থা দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে। পুড়ে যাওয়া চারটি কক্ষের সর্বত্র পোড়া উৎকট গন্ধ। শিক্ষকেরা অভিভাবকদের বুঝিয়েও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে পারছেন না, ফলে কমেছে উপস্থিতি। খুদে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে গিয়ে পোড়া ভবন দেখে ভয় পাচ্ছে বলেও জানান অভিভাবক বৃন্দ।
তাইয়িবা নামের এক শিশু শিক্ষার্থী বলে, ‘নতুন বই পাইয়া ইস্কুলে গেছলাম। কিন্তু গিয়া দেহি সব পোড়া। অহনো পোড়া গন্ধ বের হইতাছে। এইতা দেইখ্যা কান্দন আইছে। এমুন কামডা কেরে আমরার ইস্কুলো করলো। আমরা অহন কই পড়বাম? ক্লাস করবাম কই?’
বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তার বলে, ‘আমরার ইস্কুলডা খুব সুন্দর আছিন। কিন্তু অহন চাওন যায় না। দেখলেই কান্দন আয়। চাইরপাশে খালি আগুনের গন্ধ পাওয়া যাইতাছে। যে বেঞ্চো বইতাম হেই বেঞ্চগুলি পুইর্যা গেছে। অহন ইস্কুল আইতে ডরাই (ভয়)।’
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেগম নুরুন্নাহার জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৫০ লাখ টাকার মতো হবে। তিনি ক্ষয়ক্ষতির এই তালিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে পাঠিয়েছেন।
নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজিলাতুন্নেছা জানান, এ ঘটনার পর তিনি গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে প্রধান শিক্ষককে বিকল্প অবস্থায় পাঠদান নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৩/০১/২০২৪
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সর্বশেষ সংবাদ, শিরোনাম, ছবি ও ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তা’য়।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
