ঢাকাঃ নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী নবম শ্রেণিতে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাজন নাই। নতুন নিয়মে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীকে ১০টি অভিন্ন বিষয় পড়তে হবে। এত দিন অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সবাইকে অভিন্ন বিষয় পড়ে নবম শ্রেণিতে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা নামে আলাদা বিভাগ অর্থাৎ বাধ্যতামূলক কয়েকটি বিষয়ের পাশাপাশি বিভাগভিত্তিক বিশেষায়িত কয়েকটি বিষয় পড়তে হতো। নতুন নিয়মে উচ্চমাধ্যমিকে গিয়ে বিভাগ বিভাজন হবে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন পদ্ধতিতে অভিন্ন বিষয় হওয়ায় নবম-দশম শ্রেণিতে বিজ্ঞানের অংশ কমে যাচ্ছে। ফলে উচ্চ মাধ্যমিকে গিয়ে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা হোঁচট খেতে পারে।
১৯৫৯ সাল থেকে নবম শ্রেণিতে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ চালু হয়েছিল। নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী, নবম ও দশম শ্রেণির বই পৃথক। এত দিন নবম ও দশম শ্রেণির বই একই ছিল। গত বছরের জানুয়ারি থেকে প্রথম, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম শুরু হয়েছে। চলতি ২০২৪ শিক্ষাবছরে দ্বিতীয়, তৃতীয়, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম শুরু হয়েছে। এরপর ২০২৫ সালে চতুর্থ, পঞ্চম ও দশম শ্রেণিতে চালু হবে। উচ্চ মাধ্যমিকে একাদশ শ্রেণিতে ২০২৬ সালে ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ২০২৭ সালে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হবে। সর্বশেষ ২০১২ সালে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষাক্রম পরিমার্জন হয়েছিল।
এ বছর ৩ কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার ৩২৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৩০ কোটি ৭০ লাখ ৮৩ হাজার ৫১৭ কপি নতুন বই বিতরণ করা হচ্ছে। এতে সরকারের ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে ৪৬৪ কোটি ৭৮ লাখ ২৯ হাজার ৮৮৩ কপি বই বিনামূল্যে বিতরণ করেছে। ২০১৭ সাল থেকে সরকার সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর শিশুদের তাদের মাতৃভাষায় অধ্যায়নের জন্য চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো এবং সাদরি ভাষার বই বিতরণের পাশাপাশি অন্ধ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও বেইল পদ্ধতির বই বিতরণ করছে।
নতুন বইয়ের ভুলত্রুটি ই-মেইলে জানানোর আহ্বান এনসিটিবির: শিক্ষার্থীদের হাতে দেওয়া পাঠ্যবইয়ে কোনো ভুলত্রুটি থাকলে, তা ই-মেইলে জানানোর অনুরোধ জানিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। পাশাপাশি কেউ চাইলে সশরীরও এনসিটিবি কার্যালয়ে গিয়ে বইয়ের সংশোধনী দিতে পারবেন। এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ফরহাদুল ইসলামের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১ জানুয়ারি সারা দেশে পাঠ্যপুস্তক উৎসব উদ্যাপন করা হয়েছে। প্রাক্-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা নতুন পাঠ্যপুস্তক হাতে পেয়েছে।
এবার প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা নতুন শিক্ষাক্রমে এবং চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ২০১২ সালের শিক্ষাক্রম অনুসারে পাঠ্যপুস্তক পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ এসব পাঠ্যপুস্তকে কোনো ধরনের ভুলভ্রান্তি, ত্রুটি-বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হলে কিংবা পাঠ্যপুস্তকের মানোন্নয়নে কোনো ধরনের পরামর্শ থাকলে নিচের ই-মেইল অথবা এনসিটিবি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের ঠিকানায় জানালে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নতুন বইয়ে ভুলত্রুটির সংশোধনী ইমেইলে (chairman@nctb.gov.bd) পাঠাতে হবে। এ ছাড়া চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের ঠিকানা পাঠ্যপুস্তক ভবন, ৬৯-৭০, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০২/০১/২০২৪
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
