এইমাত্র পাওয়া

যে কারণে ক্লাস লেকচারের নোট টাইপ না করে কাগজে লেখা ভাল

এখনকার সময় অনেকেই হাতে লেখার চেয়ে টাইপ করতে পারে বেশি দ্রুত। বিশেষ করে যারা ল্যাপটপ ব্যবহার করে বেড়ে উঠেছেন। এটা এমন একটা দক্ষতা যা সহজে এবং দ্রুত প্রচুর তথ্যবহুল নোট নিতে সাহায্য করে। এটা নিশ্চয়ই খুব ভাল একটা ব্যাপার, তাই না?

সম্ভবত, না।

গবেষক পাম মুয়েলার প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটিতে একটি গবেষণা পরিচালনা করেন- একদল শিক্ষার্থীকে টেড টকের ভিডিও লেকচার দেখতে দেয়া হয় এবং নোট নিতে বলা হয়।

অর্ধেক শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ দেয়া হয়, বাকী অর্ধেক শিক্ষার্থীকে দেয়া হয় কাগজ-কলম।

আপনি হয়তো তাদের নোটগুলোর মধ্যে সামান্যই পার্থক্য আশা করবেন, যেহেতু শিক্ষার্থীরা এখনকার দিনে কীবোর্ড ব্যবহার করতে খুবই অভ্যস্ত। কিন্তু বাস্তবে সেখানে পার্থক্য ছিল। যে শিক্ষার্থীদের কীবোর্ড দেয়া হয়েছিল তারা লেকচারের নোট নেন অক্ষর অক্ষরে টাইপ করে। অন্যদিকে হাতে ধীরে ধীরে লেখা শিক্ষার্থীদের সারসংক্ষেপ তৈরীর জন্য তথ্যের সাথে নিবিড়ভাবে সংযুক্ত থাকা ছাড়া উপায় ছিল না।

এরপর শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিমত্তা যাচাইয়ের জন্য কিছু ধাঁধা দেয়া হয়, এবং লেকচারের বিষয়বস্তু সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। মুখস্থের বেলায় দেখা যায় কোন পদ্ধতিতে তারা নোট নিয়েছিল সেটা কোন পার্থক্য তৈরী করেনা। কিন্তু যখন তাদের লেকচারের ধারণাগুলো ব্যাখ্যা করতে বলা হয় তখন দেখা যায় যে শিক্ষার্থীরা হাতে লিখে নোট নিয়েছিল তারা বেশি ভালো করেছে।

যারা অক্ষরে অক্ষরে নোট নেন তাদের একটা ভাসা-ভাসা বোঝাবুঝি তৈরী হয়। এমনকি এটা বিষয়বস্তুর ব্যাপারে মোটেও না ভেবেও করা যায়। কিন্তু আপনি যখন নোট নেয়ার সময় কাগজ-কলম ব্যবহার করবেন তখন আপনাকে তথ্যগুলো নিগূঢ়ভাবে প্রক্রিয়াকরণ করতে হবে যেহেতু আপনি পুরা লেকচার অক্ষরে অক্ষরে লেখার সময় পাবেন না।

কাগজ-কলম ব্যবহারের আরেকটা সুবিধা হলো আপনি পৃষ্ঠার যেকোনো জায়গায় যেতে পারেন, সার্কেল তৈরী করতে পারেন, আন্ডারলাইন করতে পারেন এবং মার্জিনে অতিরিক্ত তথ্য যুক্ত করতে পারেন।

গবেষণা টিম লক্ষ্য করে, ল্যাপটপ ব্যবহার করাটা সমস্যার বিষয় না, কিন্তু সমস্যা হলো শিক্ষার্থীরা অক্ষরে অক্ষরে নোট নেয়। পরবর্তীতে তারা একইরকম একটা পরীক্ষা চালান। এবার শিক্ষার্থীদের অক্ষরে অক্ষরে নোট নেয়ার ব্যাপারে সতর্ক করে দেয়া হয়। যখন নোটগুলো বিশ্লেষণ করা হয় দেখা যায়, পূর্ব সতর্কতা সত্বেও ল্যাপটপ ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীরা অক্ষরে অক্ষরে নোট বেশি নিয়েছেন এবং এবারো তারা ধারনাকেন্দ্রিক প্রশ্নগুলোর ভাল উত্তর করতে পারেনি।

ক্লাস নোটগুলো যদি বেশি পুঙ্খানুপুঙ্খ হয় তাহলে কি সেটা রিভিশন দেয়ার সময় বেশি কাজে আসে?

সম্ভবত না।

এক সপ্তাহ পর পরীক্ষা নেয়ার আগে যখন শিক্ষার্থীদের নোটগুলো রিভাইস করতে দেয়া হয় দেখা যায়, কাগজ-কলম গ্রুপ বেশি ভাল করেছে। কারণ, বোঝাবুঝির মধ্য দিয়ে তৈরীকৃত নোটগুলো পরবর্তীতে গভীরভাবে আত্মস্থ করতে ও স্মরণ করতে সাহায্য করে। যদি পরবর্তীতে নোটগুলো আর না ও দেখা হয় তারপরও ক্লাসে পুঙ্খানুপুঙ্খ না নিয়ে বুঝে বুঝে নোট নেয়াটা কাজে আসে।

আপনি যদি দ্রুত টাইপ করতে পারেন এবং চান যে লেকচারের একটা প্রতিলিপি তৈরী করবেন তাহলে অবশ্য ল্যাপটপই আদর্শ উপায়। আর যদি উদ্দেশ্য হয় লেকচারের উপাদানগুলো ভালো ভাবে বোঝা তাহলে হাতে লিখেই নোট নিন।

বিবিসি থেকে অনুবাদ করেছেন হাসান আল মাহমুদ।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.