‘শিক্ষার ব্যয়টা অভিভাবকদের জন্য ক্রমেই বড় বোঝা হয়ে উঠছে’

ঢাকাঃ দেশের অধিকাংশ পরিবারের সদস্যদের আয়ের বড় অংশই সন্তানের শিক্ষার পেছনে খরচ হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরেটাস অধ্যাপক মনজুর আহমেদ। তিনি বলেন, ‘দেশে শিক্ষায় সরকারি বরাদ্দ একেবারে কম। অভিভাবককে অর্থ ব্যয় করে এটি চালিয়ে নিতে হচ্ছে। অধিকাংশ পরিবারের আয়ের বড় একটি অংশ শিক্ষায় ব্যয় হয়ে যাচ্ছে। শহরাঞ্চলে প্রচুর শিক্ষার্থী বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে পড়ে। সেখানে খরচও বেশ। শিক্ষার এ ব্যয়টা অভিভাবকদের জন্য ক্রমেই বড় বোঝা হয়ে উঠছে।’

‘শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে জাতীয় নীতি সংলাপ’ সম্মানীয় অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রবিবার  (২৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়নে এ সংলাপের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে খুলনা বিভাগের দুটি জেলার চার উপজেলার ২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর পরিচালিত গবেষণার প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ওয়েভ ফাউন্ডেশনের ‘এডুকেশন আউট লাউড (ইওএল)’ প্রকল্পের আওতায় এ গবেষণা করা হয়। এতে সহায়তা করে অক্সফাম আইবিআইস এবং স্ট্রিট চাইল্ড-ইউকে।

৮০৪ জন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের ওপর চালানো গবেষণার প্রতিবেদন নিয়েও কথা বলেন অধ্যাপক মনজুর আহমেদ। তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে আমরা একটি দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মধ্যে আছি। গবেষণার একটা বড় সীমাবদ্ধতা থাকে। কারণ যাদের কাছ থেকে মতামত নিয়ে গবেষণা করা হচ্ছে, তারা সবসময় নেতিবাচক কিছু বলতে চান না। তারা সবকিছু ভালোভাবে দেখাতে চান। তাই তৃতীয় পক্ষের মতামত নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

সংলাপে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে আলোচিত নতুন শিক্ষাক্রম প্রসঙ্গে অধ্যাপক মনজুর আহমেদ বলেন, ‘এর আগের শিক্ষা কারিকুলাম আমরা বাস্তবায়ন করতে পারিনি। সৃজনশীল পদ্ধতি করে, তা বাদ দিতে ১০ বছর সময় লেগেছে। নতুন শিক্ষাক্রম নিয়েও নানান প্রশ্ন আছে। সেজন্য প্রস্তুতির কথা বারবার আসছে। প্রস্তুতি ঠিকমতো না হলে বড় বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমরা যদি ব্যর্থ হই, তাহলে শিক্ষার্থীদের বড় একটা ক্ষতি হয়ে যায়।’

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারকদের গবেষণা বিষয়ে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে হবে। শিক্ষকদের সক্ষমতা ও শিক্ষা ব্যয় বাড়ানো, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ, শ্রেণি রুটিন ইত্যাদির সন্নিবেশন শিক্ষার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। শিক্ষা পাঠ্যক্রম যদি বাস্তবসম্মত না হয়, তবে মানসম্মত শিক্ষার প্রাপ্তিটা অপ্রাপ্তিই রয়ে যাবে।

সংলাপের আরেকজন সম্মানীয় অতিথি ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রঞ্জন সাহা পার্থ। তিনি বলেন, আজকের এ সংলাপেও আমার আগে বক্তব্যে সরকারি কর্মকর্তারাও বলে গেলেন তাদের প্রচুর ট্রেনিং পরিচালনা কর হয়। কিন্তু তার কোয়ালিটি কতটুকু রক্ষা করা হয়?

অধ্যাপক রঞ্জন সাহা বলেন, ‘দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা দেখা দিলে সরকার মোবাইলফোনে এসএমএসের মাধ্যমে জনগণকে সতর্ক করে থাকে। আশ্চর্যের বিষয় হলো-যাদের জন্য এ সতর্কবার্তা, সেই দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় তিনদিন আগে থেকে বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে তারা সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাহলে কোটি টাকা খরচ করে আমরা যে তাররবার্তা বা এসএমএস পাঠাচ্ছি, সেগুলো কার কাছে পাঠাচ্ছি? এটা কী অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে?’

সংলাপে সভাপতিত্ব করেন ওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলী। তিনি বলেন, ‘দেশের গার্মেন্টসের বেশিরভাগ কারিগরি দায়িত্বে আছে ভারত ও নেপালের জনবল। তাহলে আমাদের দেশের লোকেরা এ ঘাটতি পূরণ করতে পারছে না কেন? এটা আমাদের শিক্ষার দুর্বলতা। দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলোতে আগে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এরপর পলিসি মেকিং করতে হবে।’

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (কার্যক্রম) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক শাহ শামীম আহমেদ, স্ট্রিট চাইল্ডের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ হৃদয় প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন ওয়েভ ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক কানিজ ফাতেমা।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৫/১২/২০২৩

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.