গোপালগঞ্জঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) কর্মচারীরা গুচ্ছ পরীক্ষার টাকা বন্টনে বৈষম্য ও অনিয়মের অভিযোগ এনে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছে।
রবিবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন কর্মচারীরা। সেখানে অবস্থান নিয়ে গুচ্ছ পরীক্ষার টাকা বন্টনে বৈষম্য ও অনিয়মের অভিযোগ এনে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান এবং গান দিয়ে কর্মবিরতি শুরু করে।
আন্দোলনরত কর্মচারীরা বলেন, এ বছর (২০২২-২৩) শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ পরীক্ষা বাবদ গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বরাদ্দ পেয়েছিল ৩ কোটি ৯ লাখ ১৩ হাজার ২৩০ টাকা। ওই টাকা থেকে ১ কোটি ৮৮ লাখ ২৭ হাজার ৪৩৫ টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে বন্টন করা হয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষকরা ৫০ শতাংশ, কর্মকর্তা ৩১.২৫ শতাংশ, কর্মচারীরা ১৮.৭০ হারে শতাংশ পেয়েছেন। এই আনুপাতিক হার অনুযায়ী ভাগাভাগি করা নিয়েই কর্মচারিদের মধ্যে এই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
কর্মচারী সমিতির সভাপতি তরিকুল ইসলাম বলেন, যখন স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হতো তখন শিক্ষকেরা প্রশ্ন করতেন, পরীক্ষায় ডিউটি দিতেন এবং খাতা দেখতেন। তাদের অনেক কাজ থাকতো। এখন গুচ্ছ পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক বা কর্মকর্তাদের কোনো কাজ নেই। কেন্দ্র থেকে (বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন) প্রশ্ন আসে এবং তারাই খাতা দেখেন। তবে কেন এই বৈষম্য করবেন? শিক্ষকরা খেয়ে দেয়ে উচ্ছিষ্ট অংশই আমাদের দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ভর্তি কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে নিয়েছেন এক লক্ষ টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হিসেবে পেয়েছেন ৪৯ হাজার, কোর কমিটির সদস্য হিসেবে ৩০ হাজার টাকা, ফ্যাকাল্টির ডিন হিসাবে ৮ হাজার টাকা, চেয়ারম্যান হিসেবে ৫ হাজার টাকা, প্রক্টর হিসেবে ৩ হাজার টাকা, প্রভোস্ট হিসেবে ৩ হাজার টাকা করে নিয়েছেন। অনেক ফ্যাকাল্টি আছে যিনি ডিন আবার বিভাগের চেয়ারম্যান ও তিনি কোন হলের প্রভোস্ট। একজন শিক্ষক তিন-চার ধাপে টাকা নিয়েছে। আমরা কেন এত কম টাকা পাবো?
নওরীন আফরোজ এ্যানি বলেন, শিক্ষকরা ভাগাভাগি করে অবশিষ্ট যা ছিল তাই কর্মচারিদের দিয়েছেন। এই বৈষম্য মানি না। তারাও ডিউটি করেছে কর্মচারীরাও ডিউটি করেছে তাহলে কেন বৈষম্য হবে?
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার মো. দলিলুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা গুচ্ছ পরীক্ষার অর্থ বন্টন নিয়ে কর্মবিরতি পালন করছে। আমি এ বছর প্রথম এসেছি। আমি জানতে পেরেছি এর আগেও এই অনুপাতে এই টাকা ভাগ করা হতো। এখন উপাচার্য স্যারের সঙ্গে আলোচনা করে এর একটা সমাধান করা হবে।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৪/১২/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
