মাহমুদুল হক আনসারীঃ শিক্ষা একটি জাতির জন্য অত্যাবশ্যকীয় বিষয়। শিক্ষাকে ভাত কাপড়ের পূর্বে স্থান করে দিতে হবে। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির অগ্রগতি মোটেও ভাবা উচিত নয়। শিক্ষার মাধ্যমে পরিবার সমাজ রাষ্ট্র উন্নতি সাধন করে। পরিবার থেকে রাষ্ট্র পর্যন্ত শিক্ষার স্তর কর্মসূচি যতই সুন্দর শৃঙ্খলাপূর্ণ এবং বাস্তবমুখী হবে ততই সেই জাতি সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি অর্জন করবে। স্বাধীনতা প্রাপ্তির অর্ধ যুগ বাঙালি জাতি অতিবাহিত করলেও প্রকৃত পক্ষে শিক্ষা ক্ষেত্রে খুব বেশি অর্জন জাতি দেখছে না।
আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নানামুখী শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত আছে। সরকারি বেসরকারি প্রাইভেট নামক শিক্ষা বাঙালি জাতির মধ্যে চালু আছে। সরকারি প্রাইমারি স্কুল, ইবতেদায়ি মাদরাসা, প্রাইভেট স্কুল ও মাদরাসা, সরকারি হাই স্কুল, বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ও প্রাইভেট স্কুল যেখানে প্লে থেকে দশম শ্রেণি, এইচএসসি প্রাইভেট কলেজ, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি শিক্ষা ব্যবস্থায় ইচ্ছেমতো সিলেবাস তৈরি করে ছাত্রদের ওপর পড়ালেখার চাপ হয়ে যায় এটা ভাবা দরকার। দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রাষ্ট্রীয় একটি নিয়ম নীতিতে পাঠ কার্যক্রম চালালেও প্রাইভেট শিশু নিকেতনগুলো তাদের ইচ্ছেমতো সিলেবাস দিয়ে শিশুদের পাঠ কার্যক্রম চালায়।
সরকারি হাই স্কুল সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় নির্দিষ্টভাবে সিলেবাসের আওতায় চললেও প্রাইভেট স্কুলগুলো তাদের মতো করে তারা পাঠ্যক্রম পরিচালনা করে। প্রায় তিন হাজারেরও অধিক দেশে কওমি মাদরাসা রয়েছে। রাজধানী থেকে গাঁ গ্রাম পর্যন্ত তাদের শাখা প্রশাখা বিস্তৃত। এই সব মাদরাসায়ও হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী লেখা পড়া করছে। তারা তাদের দাওরা হাদিস পর্যন্ত মাদরাসাগুলোতে গিয়ে সর্বশেষ দাওরা পাস করছে।
এই হাজার হাজার কওমি মাদরাসাগুলোর শিক্ষার ভালো মন্দ সঠিকভাবে তদারকি এবং তাদের মাদরাসা থেকে পাস করা ছাত্রগণ কোথায় গিয়ে কর্মসংস্থান হচ্ছে সেই বিষয়েও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের খবরদারি আছে বলে মনে হয় না। নানামুখী শিক্ষা কার্যক্রম থেকে ভিন্ন ভিন্ন মত ও যোগ্যতা অর্জন করে প্রতি বছর লাখ লাখ শিক্ষিত ও অর্ধ শিক্ষিত ছাত্র বের হচ্ছে। তাদের কোথায় কর্ম সংস্থান কোন জায়গায় গিয়ে তারা নিজেদেরকে স্বাবলম্বী ও প্রতিষ্ঠিত করবে সেটিও তারা পায় না। একটি পরিবারের পাঁচজন সন্তান থাকলে তাদেরকে পরিবারের সামর্থ্য মতে স্কুল মাদরাসা ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা অর্জনের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে পাঠানো হয়।
যেহেতু আমাদের দেশে নানামুখী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব সিলেবাস শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে। রাষ্ট্র তাদেরকে সহযোগিতা না দিলেও তাদের সেই কার্যক্রমে কোনো প্রকারের প্রতিবন্ধকতা করছে না। তাহলে ধরে নিতে হবে প্রাইভেটশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম সঠিকভাবে আছে। তা যদি হয় সেখান থেকে পাস করে বের হওয়া গ্র্যাজুয়েট উচ্চ শিক্ষিত যুবকদের অবশ্যই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কোনো শিক্ষাকেই ছোট করে দেখার কারো অধিকার নেই। একজন ছাত্র সে যে বিষয় নিয়ে পড়ালেখা করে সার্টিফিকেট অর্জন করেছে তাকে অবশ্যই সেই বিষয়ের ওপর তার জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। তা যদি না হয় তবে পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্রে সামাজিকভাবে অশান্তি অভাব নানামুখী সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হবে।
যেহেতু দেশে বহুমুখী ও নানা ধরনের সিলেবাসের পদ্ধতিতে শিক্ষার কার্যক্রম চালু আছে, সেহেতু সকল বোর্ড ও প্রতিষ্ঠানের সার্টিফিকেটধারী শিক্ষিত যুবকদের অবশ্যই যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হবে। দল মত গোত্র ও ধর্মের ঊর্ধ্বে মানসিক মানবিক নাগরিক অধিকারের পরিপ্রেক্ষিতে সকল শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থান গুরুত্বের মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাষ্ট্রকে করতে হবে। তবেই রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা অর্থনীতি অগ্রগতি সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে। শিক্ষা নিয়ে অভিভাবকগণ তাদের সন্তানদেও পেছনে লাখ লাখ টাকা খরচ করলেও একটি সময়ে এসে তারা সন্তানদের জন্য দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়। যখন সঠিকভাবে পড়ালেখা শেষ করে সার্টিফিকেট অর্জন করার পরও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের জন্য কোনো কর্ম সংস্থান হয় না। তখন অভিভাবকদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সময় বয়স সব কিছুর একটা নির্দিষ্ট অবস্থান থাকে।
সেই সব বিষয় রাষ্ট্রের যারা কর্মসূচি কর্মপন্থা বাস্তবায়ন ও পরিকল্পনাবিদ রয়েছেন তাদেরকেই এই সব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে চিন্তা বাস্তবায়ন করা চায়। শিক্ষা নিয়ে যথেষ্ট মতবিরোধ ও দুশ্চিন্তা অভিভাবকদের মধ্যে কারণ বর্তমান শিক্ষা কার্যক্রমের যেই সব হাল চাল দেখতে পাচ্ছি সেই জায়গায় মোটেও অভিভাবকগণ সন্তুষ্ট নয়। শিক্ষা কার্যক্রম প্রাইমারি স্কুল থেকে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বর্তমানের চিত্র অভিভাবকদেরকে ভাবিয়ে তুলছে। সেই পঞ্চাশ বছর পূর্বের শিক্ষিত আর আজকের আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সমৃদ্ধ শিক্ষা ব্যবস্থার ফলাফল বিশ্লেষণে অগ্রগতি আর প্রাপ্তি অনেক গুণ পিছিয়ে নাকি এগিয়ে অনেক কথা অনেক প্রশ্ন। ছোট এই লেখাতে এই সব বিষয়ে বিস্তারিত ও বিষয় ভিত্তিক বলা সম্ভব নয়।
আজকের এই লেখাতে যারা শিক্ষা কারিকুলাম পাঠ্য সিলেবাস নিয়ে গবেষণা পরিচালনা এবং বাস্তবায়ন করছেন তাদের উদ্দেশে বলবো, আমাদের সন্তানদেরকে নৈতিক শিক্ষার ব্যবস্থা করুন। বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি অংক ও তথ্যপ্রযুক্তির পৃথিবীসমৃদ্ধ সিলেবাস দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পক্ষে সংকটমুক্ত করুন। শিক্ষা সেক্টর থেকে সব ধরনের দেশি বিদেশি ষড়যন্ত্র চক্রান্ত প্রতিহত করে শিক্ষাকে দেশ জাতি ও বিশ্বের জন্য মঙ্গলময় করার প্রত্যাশা করছি।
লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৩/১২/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
“মুক্তমত ও সাক্ষাৎকার কলামে প্রকাশিত নিবন্ধ লেখকের নিজস্ব। শিক্ষাবার্তা’র সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক, আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের, শিক্ষাবার্তা কর্তৃপক্ষের নয়।”
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
