ক্লাসে পড়া না পারলে শিক্ষার্থীদের জঘন্য শাস্তি দিতেন এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনি পড়া শিখে না আসা ছাত্র-ছাত্রীদের প্রায়ই জিভ দিয়ে ক্লাসরুমের মেঝে চাটতে বলতেন। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা।
সোমবার দুপুরে পশ্চিবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার পূর্বপল্লী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় এক সংবাদ মাধ্যম জানায়, পূর্বপল্লী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট চারটি শ্রেণি রয়েছে। আশপাশের এলাকার অনেক ছাত্র-ছাত্রী ওই স্কুলটিতে পড়াশোনা করে। কিন্তু স্কুলের শিক্ষক সৌমিত্র রায় তার ক্লাসে পড়া বলতে না পারা ছাত্র ছাত্রীদের জিভ দিয়ে ক্লাসসরুমের মেঝে চাটান। তিনি বেশ কিছুদিন ধরেই শিক্ষার্থীদের ওপর শাস্তির নামে এই অমানবিক আচরণ চালিয়ে আসছিলেন।
গত শনিবার তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্র পড়া না পারায় তাকে একই শাস্তি দেন শিক্ষক সৌমিত্র। বিষয়টি পছন্দ না হলেও শিক্ষকের ভয়ে এই কাজ করতে বাধ্য হয় শিশুটি। পরে বাড়ি ফিরে শিক্ষকের এই অমানবিক শাস্তির কথা অভিভাবকদের জানায় সে। এই শাস্তির কথা শুনে রাগে ফেটে পড়েন শিশুটির অভিভাবকরা। পরে এই ক্ষোভ অন্য অুভিভাবকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে সোমবার বিভিন্ন অভিভাবক ও এলাকার বাসিন্দারা মিলে স্কুলে এসে বিক্ষোভ করেন।
এ সময় এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা জানি, শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা শিক্ষা দিয়ে থাকেন। আর শিক্ষক সৌমিত্র রায় কিনা বাচ্চাদের দিয়ে ময়লা চাটাচ্ছেন। এ কেমন শিক্ষক!’
এই জঘন্য শাস্তির ফলে সম্প্রতি ওই স্কুলের বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে সোমবার কয়েক ঘন্টা বিক্ষোভ চলার পর অভিযুক্ত শিক্ষক সৌমিত্র অভিভাবকদের সামনে এসে ক্ষমা চান। ভবিষ্যতে তিনি আর এমন করবেন না বলেও অঙ্গীকার করেন। এবিষয়ে অভিভাবকদের আশ্বস্ত করেন প্রধান শিক্ষক শুভঙ্কর ঘোষও। এরপরই বন্ধ হয় বিক্ষোভ।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল