এইমাত্র পাওয়া

৯০ দিনে গ্রামীণফোনকে ২ হাজার কোটি টাকা শোধ করতেই হবে

আগামী তিন মাসের মধ্যে ২ হাজার কোটি টাকা দিতেই হবে মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনকে (জিপি)। বিটিআরসির পাওনা সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার মধ্যে আপাতত এই টাকা পরিশোধের জন্য ঐ ফোন কোম্পানিকে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এ সংক্রান্ত এক আবেদনের শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির বেঞ্চ গতকাল রবিবার এই আদেশ দেন। এই সময়ের মধ্যে ২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ না করলে বিটিআরসির চিঠির ওপর হাইকোর্টের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার আদেশ বাতিল হয়ে যাবে বলেও জানায় আদালত।

আদেশের পর বিটিআরসির আইনজীবী ব্যারিস্টার খন্দকার রেজা-ই-রাকিব বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ অনুযায়ী এখন গ্রামীণফোনকে ২ হাজার কোটি টাকা দিতেই হবে। যদি অর্থ না দেয় তাহলে বিটিআরসি যে কোনো অ্যাকশন নিতে পারবে। তাতে আইনগত আর কোনো বাধা থাকবে না। তিনি বলেন, আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে ঐ অর্থ না দিলে হাইকোর্ট যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল তাও প্রত্যাহার হয়ে যাবে।

ব্যারিস্টার রেজা-ই রাব্বী খন্দকার বলেন, এটাতো ফাইনাল সেটেলমেন্ট নয়। আদালতের আদেশে আমরা আপাতত সন্তুষ্ট। সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা নিয়ে কোর্টে মামলা চলছে। ঐ মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার পরে জানা যাবে বিটিআরসি আর কত টাকা পাবে, কি পাবে না।

গ্রামীণফোনের কৌঁসুলি ব্যারিস্টার মেহেদী হাসান চৌধুরী বলেন, ২ হাজার কোটি টাকা না দিলে তিন মাস পরে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হয়ে যাবে। আমরা আদেশ পাওয়ার পরে গ্রামীণ ফোনের সঙ্গে আলাপ করব, রিভিউ করব কি না। তিনি বলেন, আমরা ২০০ কোটি টাকা দিতে চেয়েছিলাম।

বিভিন্ন খাতে ১২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা পাওনা আদায়ে গ্রামীণফোনকে গত ২ এপ্রিল চিঠি দেয় বিটিআরসি। এর বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে মামলা করে ঐ ফোন কোম্পানি। একইসঙ্গে পাওনা আদায়ে দেওয়া চিঠির ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়। গত ২৮ আগস্ট গ্রামীণফোনের ঐ আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে ঐ ফোন কোম্পানি। ১৭ অক্টোবর আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা আদায়ের ওপর দুই মাসের অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দেয় হাইকোর্ট। এই আদেশ স্থগিত চেয়ে লিভ টু আপিল করে বিটিআরসি।

গত কয়েক কার্যদিবস ঐ আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিকালে ইতিপূর্বে গ্রামীণফোনের আইনজীবীর উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, এদেশে ব্যবসা করাটা সহজ। যখন টাকাপয়সার ব্যাপার আসে তখন আদালতে এসে একটা আবেদন করে স্থগিতাদেশ নিয়ে টাকা দেওয়া হয় না। গড়িমসি করা হয়। মামলাগুলো করাই হয় যাতে টাকা দিতে না হয়। এসব মামলার কারণে অর্থঋণ আদালতগুলোতে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা আটকে আছে। ব্যবসা করবেন টাকা দেবেন না, তা হয় না। আদালতে বিটিআরসির পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, খন্দকার রেজা-ই-রাকিব এবং গ্রামীণফোনের পক্ষে আইনজীবী এ এম আমিনউদ্দিন ও শেখ ফজলে নূর তাপস উপস্থিত ছিলেন।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.