এইমাত্র পাওয়া

এমপিও নিয়ে তোপের মুখে আমলারা

গতকাল রোববার (২৪ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে একাদশ জাতীয় সংসদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ৭ম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

কমিটির সভাপতি ডা: মো. আফছারুল আমীন এতে সভাপতিত্ব করেন। কমিটির সদস্য হিসেবে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মো. আব্দুল কুদ্দুস, ফজলে হোসেন বাদশা, মোঃ আবদুস সোবহান মিয়া এবং মাহী বদরুদ্দোজা চৌধুরী বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপুমনি ও সিনিয়র সচিব মো: সোহরাব হোসাইন দেশের বাইরে রয়েছেন।

বৈঠকে এমপিওখাতের উদ্বৃত্ত টাকা দিয়ে আরও কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির সুপারিশ করে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এমপিওভুক্তির নীতিমালা সংশোধন করে পশ্চাৎপদ জনপদের সংসদীয় আসনগুলোতে আরও দুটি করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। এছাড়া এমপিওভুক্তির (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) বিদ্যমান নীতিমালায় ত্রুটি থাকার অভিযোগ তুলে সংসদীয় কমিটিতে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।

এছাড়া এমপিওভুক্তির জন্য গঠিত যাচাই-বাছাই কমিটির এক শীর্ষ কর্মকর্তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কয়েকজন সদস্য। আমলাদের অদক্ষতায় দায় কেন রাজনৈতিক দলের ঘাড়ে বর্তাবে সে বিষয়েও আলোচনা হয় প্রায় আড়াইঘন্টাব্যাপী আলোচনায়।

জানা গেছে, বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮’ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এ সময় নীতিমালায় নানা ধরনের ত্রুটি থাকার অভিযোগ করা হয়। এতে বলা হয় যে দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা ও ভৌগলিক অবস্থানের প্রেক্ষাপটে এই নীতিমালা সঠিক হয়নি। এই নীতিমালায় দেশের অনুন্নত অঞ্চল ও উন্নত অঞ্চলকে সঠিকভাবে বিবেচনায় নেয়া হয়নি। কারণ, একটি অনুন্নত অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা আর পাশের হার কখনো উন্নত অঞ্চলের মত হবে না। নীতিমালার ত্রুটির কারণে কোন কোন এলাকার বেশি সংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছে বিপরীতে কোন কোন এলাকার কোন প্রতিষ্ঠানই এমপিওভুক্ত হতে পারেনি বলে বৈঠকে অভিযোগ তোলা হয়।

কমিটির সভাপতি মো. আফছারুল আমীন বলেন, আর্থ-সামাজিক ও ভৌগলিক বিবেচনায় পশ্চাৎপদ জনপদের সংসদীয় আসনগুলোতে কমপক্ষে আরও দুটি করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির পক্ষে কমিটির সদস্যরা মত প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদীয় কমিটির সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, এমপিওভুক্তি নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। দেশের আর্থসামাজিক ও ভৌগলিক প্রেক্ষাপটে এই নীতিমালাটি সঠিক নয় বলে আমাদের কাছে মনে হয়েছে। কারণ, একটি একটি দরিদ্র ও উন্নত এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ও পাশের হার একই ধরনের হওয়ার সম্ভাবনা কম। এ জন্য আমরা এই নীতিমালা পর্যালোচনা করতে বলেছি। তিনি বলেন, যেসব এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তুলনামুলকভাবে এমপিওবঞ্চিত হয়েছে আমরা সেখানকার যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন করে এমপিওভুক্তির জন্য বলেছি। বলতে পারেন একপ্রকার চাপ দিয়েছি।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.