শিক্ষাবার্তা ডেস্ক, ঢাকাঃ আসছে বছরে নতুন শিক্ষাক্রমে সন্তানদের নিয়ে শঙ্কিত অভিভাবকরা। আর বিভাগ বিভাজন না রাখার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক বললেও কারিকুলাম বিশেষজ্ঞের আশঙ্কা, অনেক স্কুলে নেই বিজ্ঞান, ব্যবসায় এবং মানবিক শিক্ষার শিক্ষক, নেই ল্যাবরেটরি। ফলে মুখ থুবড়ে পড়তে পারে এ সিদ্ধান্ত।
আগামী বছর থেকে এসএসসিতে থাকছে না বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগের বিভাজন। সব শিক্ষার্থীকেই পড়তে হবে সব বিষয়। নতুন বছরে অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে চালু হবে নতুন শিক্ষাক্রম। এ শিক্ষাক্রমে নবম শ্রেণিতে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষার মতো বিভাগ বিভাজন থাকবে না। সব শিক্ষার্থীকেই মাধ্যমিক পর্যন্ত অভিন্ন সব বিষয় পড়তে হবে। আর উচ্চমাধ্যমিকে হবে বিভাগ বিভাজন।
অভিভাবকরা বলছেন, সব বিষয় পড়তে হলে শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়বে পড়াশোনার চাপ।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড জানিয়েছে, নবম শ্রেণিতে সবাইকে বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগের সব বিষয় পড়তে হবে। এতে করে একজন শিক্ষার্থী মাধ্যমিক স্তরেই সব বিষয়ে ধারণা পাবে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড.মশিউজ্জামান বলেন, আগে যে শিক্ষার্থীদের নানা বিষয় জানার ঘাটতি ছিল, সেটা এখন পূরণ হবে। আমরা আশা করছি, শিক্ষার্থীদের ওই জানার সুযোগটা আরও বিস্তৃত হবে।
অভিভাবকরা বলছেন, এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে একজন শিক্ষার্থী তার পছন্দ অনুযায়ী বিভাগ বা বিষয় নির্বাচনের সুযোগ হারাবে। আর বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিকের সব বিষয়ে একসঙ্গে পড়তে হলে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ বাড়বে।
এক অভিভাবক বলেন, যে শিক্ষানীতি আসছে তাতে আমি শংকিত। কারণ আমার সন্তান যদি চায়, সে শুধু বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করবে কিন্তু সে সেটা পড়তে পারবে না। এখানে সে সুযোগটা থাকছে না। জোর করে শিশুদের সব বিষয় পড়ানো হচ্ছে। এটা তার ওপর বেশি বেশি চাপ বাড়বে। কোনো কিছুতেই সে মনোযোগ দিতে পারবে না।
আরেকজন জানান, সব বিষয় দেয়াতে শিক্ষার্থীরা কোনোটাতেই ভালো ফল করতে পারবে না। এটা তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে।
এছাড়া নবম শ্রেণিতে বিজ্ঞানের জন্য আলাদা বিভাগ না থাকলে উচ্চ মাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগ নিলে কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়তে হবে শিক্ষার্থীদের, এমন মত অভিভাবকদেরও।
অভিভাবকরা আরও বলেন, একই ধরনের অংক সবার জন্য করা হয়েছে। যারা বিজ্ঞান এবং অংক কম বুঝে, তাদের জন্য এটা চাপ, আর যারা ভালো বুঝে, তাদের জন্য কম হয়ে গেল। সব শিক্ষার্থীর মেধা তো এক নয়। এটা বিবেচনা করতে হবে।
বিভাজন না থাকার বিষয়টিকে ইতিবাচক বলছেন কারিকুলাম বিশেষজ্ঞরা। তবে দেশের অনেক স্কুলে বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষক সংকট রয়েছে। বিজ্ঞানের ব্যবহারিক কার্যক্রমের জন্য নেই ল্যাব। ফলে যেসব প্রতিষ্ঠানে এসব সুবিধা নেই সেসব প্রতিষ্ঠান পিছিয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম বলেন, তিনটি বিভাগ (বিজ্ঞান, ব্যবসায় ও মানবিক) এক সঙ্গে মিলিয়ে কারিকুলাম বাস্তবায়ন করার মতো বৈজ্ঞানিক, শিক্ষার দিক থেকে একাডেমিকভাবে এবং আর্থিকভাবে আমাদের বিদ্যালয়গুলো প্রস্তুত না।
বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক ও ল্যাবরেটরিসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ছাড়া নতুন শ্রেণিতে নতুন কারিকুলাম চালু করলে হিতে বিপরীত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন এ বিশেষজ্ঞ। সূত্রঃ সময় টিভি
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৯/১১/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
