এইমাত্র পাওয়া
শরিফুল কবির স্বপন। ছবিঃ সংগৃহীত

কুষ্টিয়া-১ আসনের হেভিওয়েট প্রার্থী জাসদের শরিফুল কবির স্বপন

আল আমিন হোসেন মৃধা, ঢাকাঃ  আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসন থেকে লড়ছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ মনোনীত প্রার্থী ও জাসদ কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির জনসংযোগ বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় যুব জোট কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সভাপতি শরিফুল কবির স্বপন। বৃহস্পতিবার তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

জানা গেছে, ২০০৯ ও ২০১৪ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জাসদের প্রার্থী হয়ে দৌলতপুর উপজেলা পরিষদে নির্বাচন করে ব্যাপক আলোচিত হোন শরিফুল কবির স্বপন। ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ী হতে না পারলেও ব্যাপক ভোটে সারা ফেলেন তিনি। ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাসদ দলীয় প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র দাখিল এবং ১৪ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীকে সমর্থন প্রদান করে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন এ নেতা।

কুষ্টিয়া-১ আসনে যে কয়জন হেভিয়েট প্রার্থী আছে তাঁদের মধ্যে অন্যতম তিনি। এলাকাবাসী বলছেন, নৌকার যদি নিকতম শক্ত কোন প্রার্থী থাকেন তিনি হচ্ছেন জাসদের স্বপন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাধ্যমিক থেকে ছাত্র রাজনীতি করে উঠে আসা শরিফুল কবির স্বপন জাসদের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক,  কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্র সংসদ জিএস, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সহ-সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কুষ্টিয়া জেলা শাখার আহ্বায়ক, কুষ্টিয়া জেলার শাখার এবং জাসদ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হন। জাসদের সহযোগী যুব সংগঠন জাতীয় যুব জোট কেন্দ্ৰীয় কার্যকরী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ দৌলতপুর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক,  জাসদ কুষ্টিয়া জেলা কমিটির সদস্য ছিলেন। বর্তমানে তিনি জাসদ কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির জনসংযোগ সম্পাদক এবং  জাসদের যুব সংগঠন জাতীয় যুব জোট কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সভাপতির দায়িত্বে আছেন।

জানা গেছে, এরশাদ সামরিক স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া এবং পুলিশী নির্যাচনের স্বীকার, সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ, ১৯৮৯ সালে কুষ্টিয়ায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আজম্মদের আগমনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল থেকে গ্রেফতার এবং নির্যাতনের স্বীকার,  ৭১ এর ঘাতক-দালালদের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনে অংশগ্রহণ,  খালেদা জিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনে অংশগ্রহণ,  সারের দাবিতে কৃষকদের আন্দোলন,  সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী ও শিক্ষার আন্দোলন এবং  ২০০৪ সালে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে ‘সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী’ ছাত্র সংগঠনসমূহের জোট গঠন করে আন্দোলন গড়ে তোলায় নেতৃত্ব দেওয়া সহ স্থানীয় এবং জাতীয় পর্যায়ের একাধিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় বায়োজ্যেষ্ঠ সাধারণ ভোটাররা জানান, সেই ছোট বেলা থেকেই স্বপনকে আমরা বিভিন্ন আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে দেখে আসছি। আমাদের যে কোন বিপদে আপদে তাকে পাসে পেয়েছি। উপজেলা নির্বাচনে তিনি যেভাবে ভোটের রাজনীতিতে সাড়া ফেলেছিলেন আমরা মনে করছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তেমনি সাড়া ফেলবে এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবে।

আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আ কা ম সরওয়ার জাহান বাদশা, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী ও কুষ্টিয়া জেলা জাপার সাধারণ সম্পাদক শাহারিয়ার জামিল জুয়েল, বাংলাদেশ জাকের পার্টি মনোনীত প্রার্থী আসাদুজ্জামান, মুক্তিজোট মনোনীত প্রার্থী সাজেদুল ইসলাম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ রেজাউল হক চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য আফাজ উদ্দিন আহমেদের বড় ছেলে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হুদা পটল বিশ্বাস, আওয়ামী লীগ নেতা ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফিরোজ আল মামুন ও ফারুক হোসেন এই আসনে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/১২/২০২৩ 

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.