আল আমিন হোসেন মৃধা, ঢাকাঃ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর ও ভেড়ামারা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সদ্য পদত্যাগপ্রাপ্ত মিরপুর উপজেলা পরিষদের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান (দেশ সেরা উপজেলা চেয়ারম্যান) ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামারুল আরেফিন। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) সহকারী রিটার্নিং ও মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: জহুরুল ইসলামের কাছে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ২০১৯ সালে বাংলাদেশের সেরা উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে সম্মাননা লাভ করেছেন কামারুল আরেফিন। ২০১৯ সালের ১৩ মার্চ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে তিনি সম্মাননা গ্রহণ করেন। এছাড়া বিভিন্ন কৃত্বিতের জন্য উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সম্মাননা লাভ করেছেন তিনি।
কামারুল আরেফিন মিরপুর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর সেখানে প্রাথমিক শিক্ষার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে। ছাত্র-ছাত্রীদের বিনামূল্যে শতভাগ রঙিন বই, স্কুল ড্রেস, কাব ড্রেস, ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ, বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, বেঞ্চ, ল্যাপটপ, মডেম, ইন্টারনেট কানেক্ট, পর্যাপ্ত শিক্ষকসহ বিভিন্ন রকমের উন্নয়নমূলক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন তিনি। এ সব কর্মকাণ্ডের ফলে উপজেলাটিতে ঝরে পড়ার হার শুন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। শতভাগ স্কুলে ল্যাপটপ, মডেম, ইন্টারনেট ব্যবস্থা রয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার মিরপুর ও ভেড়ামারা উপজেলায় আওয়ামী লীগের শক্ত অবস্থান রয়েছে। নেতা–কর্মী ও সর্মথক থাকার পরও শরিকদের কারণে ১৯৭৩ সালের পর আওয়ামী লীগের কেউ এ আসনে প্রার্থী হতে পারেননি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু মহাজোটের হয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে জয়ী হন। এরপর ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য হন। সম্প্রতি ভেড়ামারায় একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা এককাট্টা হয়ে জাসদকে আর সুযোগ না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। এর আগে মিরপুর উপজেলার নেতা–কর্মীরাও বিভিন্ন সভা–সমাবেশে হাসানুল হক ইনুকে মনোনয়ন না দেওয়ার দাবি জানান। তারা অনেকাংশে একাট্টা হয়ে মাঠে নেমেছেন কামারুল আরেফিনকে বিজয়ী করতে।
কামারুল আরেফিনের সমর্থকরা জানান, “নির্বাচনের মাঠে মিরপুর-ভেড়ামারা আসনে অন্য প্রার্থীর চেয়ে ‘বহুগুণ’ এগিয়ে আছেন কামারুল আরেফিন। তিনি খুবই জনপ্রিয় নেতা। তাছাড়া জাসদের প্রতি আমাদের নেতাকর্মীদের নানা ক্ষোভ রয়েছে। আওয়ামী লীগের ভোটে ইনু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখেন না। এছাড়া হামলা-মামলা দিয়েও আওয়ামী লীগ নেতাদের কোণঠাসা করে রাখার চেষ্টা করেছে জাসদ। এসব নিয়ে কর্মীদের মনে কষ্ট ও ক্ষোভ এবং হতাশা রয়েছে। তাই আরেফিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও আমরা তার নির্বাচন করতে চাই। তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন।”
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, জানান, জনপ্রিয় প্রার্থীদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে গ্রিন সিগন্যাল রয়েছে। মিরপুর-ভেড়ামারা আসনে অন্য প্রার্থীর চেয়ে ‘বহুগুণ’ এগিয়ে কামারুল আরেফিন। তিনি খুবই জনপ্রিয় নেতা। তাই তিনি নির্বাচনের মাঠে লড়াই করতে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সদরপুর গ্রামের এক সম্ভান্ত মুসলিম পরিবারে কামারুল আরেফিন জন্ম । পিতা আলহাজ্ব আব্দুল্লাহ মোঃ আলাউদ্দিন ছিলেন এলাকার এক প্রাইমারী স্কুলের জনপ্রিয় প্রধান শিক্ষক । ১৯৮০ সালে আমলা সরকারি কলেজে এইচএসসিতে ভর্তি হওয়ার পরই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন আমলা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে তিনি দু’বছর দায়িত্ব পালন করেন, এইচএসসি পাশ করার পর তিনি মেহেরপুর কলেজে ভর্তি হলে মেহেরপুর সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯৪ সালে তিনি মিরপুর থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক, ২০০৩ সালে তিনি মিরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগনিক সম্পাদক ও ২০১১ সালে মিরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। একই সালে তিনি বিপুল ভোটে সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৪ সাল এবং ২০১৮ সালে তিনি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামারুল আরেফিন বলেন, আমাদের দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি ঘোষণা দিয়েছেন নির্বাচন উৎসবমুখর ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে হবে। তাই আমি উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করে জনতার কাতারে চলে এসেছি। জাসদ নেতা ইনু সাহেব আওয়ামী লীগের ৮০ ভাগ ভোটের ওপর ভর করে বিগত তিনবার এমপি নির্বাচিত হয়েছে। ওনার ২০ ভাগ ভোট নিয়ে এবার নির্বাচন করতে হবে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাই তাকে আর এমপি হিসেবে দেখতে চায় না। দুই উপজেলার নেতাকর্মীরা মুখিয়ে আছে আমাকে ভোট দেওয়ার জন্য। নেতাকর্মী ছাড়াও দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের নেতা আমি, আমি জনগণের সঙ্গে থাকতে চাই।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/১২/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.