শিক্ষাবার্তা ডেস্ক, ঢাকাঃ গত ২৫ নভেম্বর (শনিবার) “অধ্যক্ষ ও সভাপতির অডিও ফাঁস: অনিয়মে ডুবছে মতিঝিল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ” শিরোনামে শিক্ষাবার্তা’য় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে মতিঝিল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ।
রবিবার বিকেলে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান স্বাক্ষরিত পত্রে তিনি এই প্রতিবাদ লিপি প্রেরণ করেন। যার স্বারক নং- এম.এম.এস.সি/১০০৫২০২৩।
প্রকাশিত সংবাদ মিথ্যা, বানোয়াট, পক্ষপাতমূলক ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত উল্লেখ করে প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, “প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের একটা বড় অংশ এমপিও প্রাপ্যতা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যাপারে কার্যত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। বর্তমান গভর্নিং বডি শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়মানুযায়ী এমপিও প্রাপ্তির বিষয়ে কার্যত উদ্যোগ গ্রহণ করে। এ লক্ষ্যে গভর্নিং বডির সভায় সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি একাধিক মিটিং করে যথাযথ নিয়ম অনুসরণপূর্বক এমপিও প্রত্যাশী শিক্ষক-কর্মচারীদের কাগজপত্র প্রস্তুত করে। কমিটি সবসময় বলে এসেছে এবং এমপিও প্রত্যাশীদের নিশ্চিতার্থে বলেছে এমপিও প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোথাও কোনো অবস্থায় কোনো টাকা পয়সা লাগবে না। প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কাজে মন্ত্রণালয়ের স্বচ্ছতা ইতিমধ্যে প্রমাণিত। এমপিও প্রাপ্তির জন্য বিগত সময়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় উঠে আসে-যাতে কোনো অবস্থাতেই কোনো শিক্ষক-কর্মচারী যেন আর্থিক লেনদেনে জড়িয়ে না পড়ে। কমিটি সকল সদস্য এমনকি গভর্নিং বডি’র সম্মানিত সভাপতি মহোদয় এই বার্তাটিই জোরালোভাবে সকলের কাছে দিয়েছেন।”
“কিন্তু অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক বিষয় হলো বিভিন্ন সময়ে মিটিং এর বিভিন্ন আলোচনা অনৈতিকভাবে একটি চিহ্নিত কুচক্রীমহল মোবাইলে অডিও ধারণ করে এবং তা এডিট করে প্রকাশ করে যা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ (সংশোধিত-২০২৩) এর ধারা ২৩ অনুযায়ী আইন বহির্ভূত। নিয়ম বহির্ভূতভাবে যারা এমপিওভুক্ত হতে চায় তারাই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধন দিয়ে এই ঘৃণ্য কাজটি করে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে।”
“শিক্ষাবার্তা সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে আরো দায়িত্বশীল ও অনুসন্ধানী হবে এটাই প্রতিষ্ঠানের তথা জাতির প্রত্যাশা। কিন্তু কোনো ব্যক্তি ও ব্যক্তিবর্গ সুবিধা নিয়ে বা কোনো প্রলোভনে এ ধরনের সংবাদ পরিবেশনে দেশসেরা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হতে পারে তা বিবেচনায় নেওয়া উচিত। আমরা এ ধরনের সংবাদ পরিবেশনে ক্ষুব্ধ, মর্মাহত এবং তীব্র প্রতিবাদ করছি এবং এর প্রকৃত সত্য সংবাদ পুনরায় প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি।”
প্রতিবেদকের বক্তব্যঃ
শিক্ষাবার্তা সব সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠ ও সুন্দরভাবে পরিচালনার স্বার্থে সহযোগী ও সহযাত্রী হিসেবে কাজ করে আসছে, অতীতে করেছে এবং অদূর ভবিষ্যতেও এই নীতির পরিপন্থী কোন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকবেনা। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ব্যক্তি কিংবা কোন গোষ্ঠীর হীণ স্বার্থ চরিতার্থ করার লক্ষে কোন ধরণের সংবাদ প্রকাশ করেনি। ‘শিক্ষাবার্তা’ কোন অনিয়মের বিরুদ্ধে যতবার কলম ধরেছে তার সত্যতা যাচাই, তথ্য প্রমাণ হাতে থাকা স্বাপেক্ষে তার প্রতিবেদন প্রকাশিত করেছে।
গত ২৫ নভেম্বর (শনিবার) “অধ্যক্ষ ও সভাপতির অডিও ফাঁস: অনিয়মে ডুবছে মতিঝিল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ” শিরোনামে শিক্ষাবার্তা’য় যে সংবাদ প্রকাশিত তাতে যে অডিও রেকর্ডের কথা বলা হয়েছে সেখানে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা ক্যাডার অধ্যক্ষ মাহফুজুর রহমান খান, গভর্নিং বডির সভাপতি আবদুল মতিন ভূঁইয়া ও গভর্নিং বডির বিদ্যোৎসাহী সদস্য কোচি এবং শিক্ষক প্রতিনিধি কামরুজ্জামানের কথোপকথনের। যার অডিও রেকর্ডটি শিক্ষাবার্তা’র হাতে রয়েছে।
পাঠানো প্রতিবাদ লিপিতে বলা হয়েছে, “প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের একটা বড় অংশ এমপিও প্রাপ্যতা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যাপারে কার্যত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। বর্তমান গভর্নিং বডি শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়মানুযায়ী এমপিও প্রাপ্তির বিষয়ে কার্যত উদ্যোগ গ্রহণ করে। এ লক্ষ্যে গভর্নিং বডির সভায় সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি একাধিক মিটিং করে যথাযথ নিয়ম অনুসরণপূর্বক এমপিও প্রত্যাশী শিক্ষক-কর্মচারীদের কাগজপত্র প্রস্তুত করে।”
প্রকৃতপক্ষে যে ৩৫ জন শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিওভুক্তির চেষ্টা চালানো হচ্ছে তারা মূলত ২০১৫ সালের আগে নিয়োগ পেলেও আর্থিক অনিয়ম ও বিভিন্ন জাল জালিয়াতির মাধ্যমে করার কারণে পূর্বের গভর্নিং বডি তাদের এমপিওভুক্তি করাতে পারেননি। যদি প্রাপ্যতা থাকে ও নিয়োগ সঠিক থাকে তাহলে দীর্ঘ আট বছরের অধিক সময়েও কেন এমপিওভুক্তি করতে ব্যর্থ হলো প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করা “স্বনামধন্য” প্রতিষ্ঠানটি।
প্রেরিত প্রতিবাদ লিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, “কমিটি সবসময় বলে এসেছে এবং এমপিও প্রত্যাশীদের নিশ্চিতার্থে বলেছে এমপিও প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোথাও কোনো অবস্থায় কোনো টাকা পয়সা লাগবে না। প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কাজে মন্ত্রণালয়ের স্বচ্ছতা ইতিমধ্যে প্রমাণিত। এমপিও প্রাপ্তির জন্য বিগত সময়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় উঠে আসে-যাতে কোনো অবস্থাতেই কোনো শিক্ষক-কর্মচারী যেন আর্থিক লেনদেনে জড়িয়ে না পড়ে। কমিটি সকল সদস্য এমনকি গভর্নিং বডি’র সম্মানিত সভাপতি মহোদয় এই বার্তাটিই জোরালোভাবে সকলের কাছে দিয়েছেন।”
শিক্ষাবার্তা’র হাতে যে অডিও রেকর্ড সংরক্ষিত আছে, সেখানে গভর্নিং বডির সদস্য কোচি শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রণালয় হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। তিনি বলছেন, টাকা ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয় কোন কাজ করে না। এবং অধ্যক্ষের কথোপকথনে বোঝা যাচ্ছে তিনি বিদ্যোৎসাহী সদস্য কোচি এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে যে অর্থ প্রয়োজন সে বিষয়টিকে সম্মত জানিয়ে যাচ্ছেন। গভর্নিং বডির সভাপতি বলছে, এমপিওভুক্তিতে আমরা অর্থ ব্যয় করব (নিশ্চয়ই নিজের পকেট থেকে তিনি এই অর্থ ব্যয় করবেন না আর এমপিওভুক্তিতে কোন অর্থের প্রয়োজন পরেনা)। শিক্ষক প্রতিনিধি কামরুজ্জামানের কথোপকথনে তার উপর এমপিওভুক্তির জন্য অর্থ আদায় করার দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও স্পষ্ট উঠে এসেছে। এতে প্রতিয়মান হয় যে, এমপিওভুক্তির জন্য শিক্ষক-কর্মচারীদের নিকট থেকে যে অর্থ আদায় করা হচ্ছে তা বাস্তব। এছাড়াও একাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর সাথে বলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এছাড়াও এই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষকদের নিয়োগ বাণিজ্য ও জালিয়াতির অভিযোগে সনদ যাচাইয়ের উদ্যোগ নেই এনটিআরসিএ। গত বছরের ৪ অক্টোবর এনটিআরসিএর সহকারী পরিচালক ফিরোজ আহমেদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে অধ্যক্ষকে চিঠি প্রদান করেন। চিঠিতে মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের নাম, বাবা-মায়ের নাম, নিয়োগের তারিখ, যোগদানের তারিখ, বিষয়. শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও পরীক্ষার বছর এবং নিয়োগের ধরণ উল্লেখ করে একটি তালিকা এনটিআরসিএকে পাঠাতে বলা হয়। তবে সেই প্রতিবেদন আজও আলোর মুখ দেখেনি।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন অনিয়মে ডুবতে বসা এক সময়ের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানটি নিয়োগ বাণিজ্য, আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে একাধিকবার শিরোনাম হয়েছে।
পরিশেষে, শিক্ষাবার্তা’ বহুল প্রচারিত ও শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বহুল আকাঙ্ক্ষিত একটি গণমাধ্যম। এখানে কোন ব্যক্তির প্রলোভনে প্রলোভিত হওয়ার কোন ধরণের সুযোগ নেই।
আরও পড়ুনঃ
- প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে মতিঝিল আইডিয়ালের শিক্ষক বরখাস্ত
- মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ: সভাপতি-অধ্যক্ষের স্বেচ্ছাচার
- আরও এক বেসরকারি কলেজে সরকারি অধ্যক্ষ নিয়োগ!
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৭/১১/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
