সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহারে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, কর্মচারি ও শিক্ষকদের আরো সর্তক থাকার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার (২০ নভেম্বর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার সংক্রান্ত নির্দেশিকা ২০১৬’অনুসরন করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারি ও শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের অনুরোধ করা হলো।
জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের একটি নীতিমালা জারি করা হয় ২০১৬ সালে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা ওই নির্দেশিকায় ব্লগ, মাইক্রোব্লগস, নানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও নেটওয়ার্ক এবং ভিডিও শেয়ারিং সাইট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এডুকেশন বাংলার পাঠকদের জন্য নীতিমালায়র গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো:
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকসহ অন্যান্য কোথাও ব্যক্তিগত একাউন্ট পরিচালনার বিষয়ে নীতিমালায় যা বলা হয়েছে:
* ব্যক্তিগত একাউন্ট পরিচালনার বিষয়ে সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্বশীল নাগরিক সুলভ আচরণ ও অনুশাসন মেনে চলতে হবে।
* বাস্তব বা স্বাভাবিক অবস্থায় একজন সরকারি কর্মচারীর আচরণের মতোই প্রকাশ হবে সামাজিক মাধ্যমে।
* বক্তব্য ও বন্ধু নির্বাচনে সতর্কতা অবলম্বন, প্রয়োজনীয় ট্যাগিং ও রেফারেন্সিং পরিহার করতে হবে।
* নিজস্ব পোস্টে দেয়া তথ্য-উপাত্তের যথার্থতা এবং নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে।
* সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার এবং নিজ একাউন্টের ক্ষতিকর কন্টেন্ট এর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারী দায়ী হবেন এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
* সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া সব তথ্য অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে। যেমন তথ্য, ছবি, বা ভিডিও গুরুত্বের সঙ্গে বাছাই করতে হবে।
ওই নির্দেশনা অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের সময় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যেসব বিষয় পরিহার করতে হবে:
* জাতীয় ঐক্য ও চেতনার পরিপন্থী কোনো মন্তব্য।
*কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে বা ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি পরিপন্থী কোন বক্তব্য।
* রাজনৈতিক মতাদর্শ বা আলোচনা সংশ্লিষ্ট কোনো বক্তব্য।
* বাংলাদেশে বসবাসকারী ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্যমূলক বক্তব্য।
* কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রকে হেয় করে, এমন মন্তব্য বা কন্টেন্ট।
* লিঙ্গ বৈষম্যমূলক বক্তব্য বা কন্টেন্ট।
* জনমনে অসন্তোষ বা অপ্রীতিকর মনোভাব সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো বিষয়।
- সরকার প্রতিষ্ঠানে ত্রৈমাসিক এবং বার্ষিক ভিত্তিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের বিষয়টি পর্যালোচনারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল