শাহনাজ হীরা।।
জাতীয় শিক্ষাক্রম রুপরেখা-২০২১ বাস্তবায়নে সারা বাংলাদেশে একযোগে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতাভিত্তিক এই কারিকুলাম চালু হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ জেলায় নতুন কারিকুলাম নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ২০২৩ সালে জানুয়ারিতে নতুন কারিকুলাম শুরু হলেও অনেক বিদ্যালয়ের নন এমপিও ( খন্ডকালীন) শিক্ষকরা প্রশিক্ষণ পাননি। অথচ নন এমপিও( খন্ডকালীন) শিক্ষকরা যুক্ত রয়েছে শ্রেণি কার্যক্রমে। অভিযোগ রয়েছে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষকরাও যথাযথ ভাবে শিক্ষক সহায়িকা ব্যবহার করেন না।
বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক দিয়ে ক্লাস না করানোর অভিযোগ রয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক দ্বারা ক্লাস পরিচালনার নির্দেশনা থাকলেও প্রধান শিক্ষকদের দূর্বলতা ও শিক্ষক সংকটের কারনে তা সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষকদের একটা বৃহৎ অংশ এই কারিকুলামের সংস্কার চাইলেও প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলছে না।
অন্যদিকে শিক্ষকদের অপর অংশ বলছেন ভিন্ন কথা৷ তাদের মতে নতুন কারিকুলাম শিক্ষায় ভিন্ন মাত্রা যুক্ত করবে এবং একবিংশ শতাব্দীর যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহযোগিতা করবে৷
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অনেকে মনে করেন কোচিং বাণিজ্যে কমে যাওয়ার আশংকায় শিক্ষকদের একটি অংশ নেতিবাচক ধারনা ছড়াতে ভূমিকা রাখছেন। তারা অভিভাবকদের ভুল তথ্য দিয়ে তাদের বিভ্রান্ত করছেন৷
অভিভাবকরা এখনো পুরোপুরি নতুন কারিকুলাম বুঝতে না পারায় তাদের মধ্যে রয়েছে হতাশা। পোষ্টার পেপার, পিঠা উৎসব, বিতর্ক, বইমেলা, কুকিং স্কিলের মত বিষয়গুলো ভালভাবে গ্রহণ করলেও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সন্তানের অর্জিত জ্ঞান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেকে।
প্রতিযোগিতা ও লিখিত পরীক্ষা না থাকায় শিক্ষার্থীরা পূর্বের মত বই পড়ার তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না। সারাক্ষণই ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে বিভিন্ন প্রজেক্ট উপস্থাপনে৷ এতে অনেক শিক্ষার্থী শ্রেণি অনুযায়ী পর্যাপ্ত যোগ্যতা অর্জন করতে পারছে না।
শহরের স্কুলের তুলনায় গ্রামের স্কুল গুলোর শিক্ষার্থীর অবস্থা আরো নাজুক। গ্রামের অনেক শিক্ষার্থী এসব অভিজ্ঞতা ভিত্তিক শিখনে আগ্রহ হারাচ্ছে। অভিভাবকরা চান মূল্যায়ন পদ্ধতির সংস্কার।
ষান্মাসিক মূল্যায়নের পর অভিভাবকদের ভিতর তৈরী হয়েছে নতুন আতংক। অনেক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা কোচিং এ শিক্ষার্থী টানতে ত্রিভুজ, বৃত্ত ও চর্তুভুজকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন, যা নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অনেকে মনে করছেন, মূল্যায়ন প্রতীকগুলোকে হাতিয়ার বানানো হলে তা হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। অনেক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বিরুদ্ধেই রয়েছে এমন অভিযোগ।
নতুন কারিকুলাম এর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা সম্পর্কে বিজ্ঞান বিষয়ে মাষ্টার ট্রেইণার মনোরঞ্জন ধর বলেন কারিকুলামের সুফল পেতে কিছুদিন সময় লাগবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকলের ধৈর্য্য ধরতে হবে। মূল্যায়ন ব্যবস্থারও হয়তো একটা গ্রহণযোগ্য সমাধান আসবে।
প্রশিক্ষণ বিহীন শিক্ষকের শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ নেওয়া ও বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক দিয়ে ক্লাস না নেওয়া সম্পর্কে জেলা শিক্ষা অফিসার ইসমাইল হোসেন মুঠোফোনে শিক্ষাবার্তা ডট কমকে জানা জানান , শিক্ষকদের বাণিজ্য করার কোন সুযোগ নেই আমরা একটা গতানুগতিক প্রথার মধ্য দিয়ে চলে আসছি। নতুন কারিকুলামের বিষয়বস্তু যেটা ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে চালু হয়েছে সেটা বুঝতে কিছুটা কষ্ট হচ্ছে কিন্তু TG বা Teacher’s Guide সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দেয়া আছে।
তিনি আরো বলেন আগে অধ্যায় বা পাঠভিত্তিক পরীক্ষা হতো। এখন প্রায় প্রতিদিনই শিখন কালীন মূল্যায়ন হচ্ছে।
ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ বা বৃত্ত সম্পর্কে তিনি বলেন, শিক্ষক নির্দেশিকায় স্পষ্টত বলা আছে একজন শিক্ষার্থী কি যোগ্যতা অর্জন করলে তাকে ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ বা বৃত্ত দেয়া হবে। এখানে শিক্ষকদের বাণিজ্য করার কোন সুযোগ থাকছে না ।
কারিকুলাম একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া শিক্ষাবিদ অভিভাবকসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকলকে সম্পৃক্ত করে বিশদ আলোচনা করা গেলে এই ভ্রান্ত ধারণাগুলো দূর হবে বলে তিনি মনে করেন।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/১১/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
