মুন্সীগঞ্জঃ তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি শিক্ষকতা করেছেন। এ সময়ে হাজারো শিক্ষার্থীকে পড়িয়েছেন। তাই প্রিয় শিক্ষকের বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে তারা ভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। ঘোড়ার গাড়িতে সোনার মেডেল দিয়ে সেই শিক্ষককে বিদায় সংবর্ধনা দেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বাংলাবাজার বানিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেনকে এমনই সংবর্ধনা দেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) এ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় প্রিয় শিক্ষককে সোনার মেডেল, ক্রেস্ট ও নানা উপহার দেন প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা।
জানা গেছে, কর্মজীবনের ৩৪ বছর জুড়ে মুন্সীগঞ্জের চরাঞ্চল বাংলাবাজারের অসংখ্য ছাত্রছাত্রীর মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেন স্থানীয় বানিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেন। সেই ছাত্রদের কেউ এখন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কেউ জনপ্রতিনিধি কেউ আবার দেশের সুনান ধন্য ব্যবসায়ী। তাই তারা এ বর্ণাঢ্য সংবর্ধনার আয়োজন করেন। শুক্রবার দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সোনার মেডেল পড়িয়ে, রাজকীয় ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে শিক্ষক জাকির হোসেনকে সংবর্ধনা দেন প্রাক্তন ছাত্ররা।
এ সময় ফুলে ফুলে সিক্ত করে এগিয়ে নেওয়া হয় তাদের প্রিয় শিক্ষককে। তাকে ঘিরে বর্তমান সাবেক ছাত্রদের উচ্ছ্বাস। অপেক্ষায় থাকা রাজকীয় ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে পৌঁছে দেওয়া হয় বাড়িতে। অনুষ্ঠানে ১৯৯২ থেকে ২০২২ সালের প্রতি ব্যাচ দলে দলে অংশ নেয়।
এর আগে অনুষ্ঠান মঞ্চে তাকে পড়িয়ে দেওয়া হয় সোনার মেডেল। সঙ্গে ১০ লাখ টাকার চেকসহ বিভিন্ন উপহার। এ সময় বর্তমান-প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন অবদানের কথা তুলে ধরে জানান কর্মজীবনে অসংখ্য শিক্ষার্থীর প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পেছনে তার অবদানের কথা।
প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বলেন, বাংলাবাজার চরাঞ্চলে কোনো শিক্ষক আসলে বেশিদিন থাকতে চাইতো না। কিন্তু শিক্ষক জাকির হোসেন প্রথম থেকেই শ্রম দিয়েছেন। তার কারণেই এবার সদর উপজেলায় প্রথম হয়েছে আমাদের স্কুল। তিনি নিজেও পরপর দুইবার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। বিদ্যালয়ের গরিব ছাত্রদের জন্য বই কেনা থেকে বেতন দেওয়া যেকোনো বিষয়ের খোঁজ রাখতেন তিনি। তার অনেক অবদান এই স্কুলকে সেরা অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে। তাই কৃতজ্ঞতা ও সম্মানের জন্য সকল প্রাক্তন ছাত্র এক হয়ে তার জন্য এ আয়োজন করা হয়েছে।
শিক্ষক মো. জাকির হোসেন বলেন, ১৮৮৯ প্রতিষ্ঠানটিতে যোগদান করে ৩৪ বছর ৪ মাস পরে অবসরে যাচ্ছি। আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি শিক্ষার্থীদের মানুষের মতো মানুষ করতে। এলাকার ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবকরা যে সম্মান দেখিয়েছে এতে আমি গর্বিত। আমি চাই আমার ছাত্ররা যেন ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করতে পারে। সমাজ, দেশ ও জাতির জন্য কাজ করতে পারে। এ ব্যাপারে তারা যেন সর্বদা সজাগ থাকে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জাকারিয়া মিয়াজীর সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের আজীবন দাতা সদস্য খাঁন আবেদা বুশরা। বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আজহারুল ইসলাম খান ও আরিফুল হক সরকারের উপস্থাপনায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আশরাফুর রহমান মামুন, আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন জুয়েল, সদস্য সচিব মো. মিজানুর রহমান মিয়াজী, প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক সাইফুর রহমান টিটু।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৮/১০/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
