এইমাত্র পাওয়া

বোর্ডের সার্ভার ডাউন: এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষায় বিশৃঙ্খলা

চুয়াডাঙ্গাঃ জেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে নির্বাচনি পরীক্ষা গ্রহণে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। পরীক্ষার প্রথম দিন শিক্ষাবোর্ডের সার্ভার সমস্যার কারণে প্রশ্নপত্র ডাউনলোডে সমস্যা দেখা দেয়। ফলে সকাল ১০টার পরীক্ষা দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ১২টায় শুরু হয়। এ সময় প্রধান শিক্ষকদের বিভিন্ন কম্পিউটারের দোকানে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়।

প্রতিবারই শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিতে গিয়ে এ ধরনের বিড়ম্বনায় পড়তে হয় বলে প্রধান শিক্ষকদের অভিযোগ। তাছাড়া বোর্ড প্রদত্ত প্রশ্নের কোনো নিরাপত্তা থাকে না বলেও সাধারণ অভিভাবকদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ভুক্তভোগীরা বোর্ডের ডাউনলোড করা প্রশ্নে পরীক্ষা গ্রহণ পদ্ধতি থেকে পরিত্রাণ চান।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালে অনুষ্ঠেয় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের নির্বাচনি পরীক্ষা শুরু হয় রবিবারথেকে। বোর্ডের রুটিন অনুযায়ী প্রথম দিন সকাল ১০টায় গণিত পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, যশোরের ওয়েবসাইটে সকাল সাড়ে ৯টায় প্রশ্নপত্র ছাড়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকরা প্রশ্নপত্র ডাউনলোড করতে যান। কিন্তু দেখা যায়, যশোর শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইটই ওপেন হচ্ছে না। এ কারণে যথাসময়ে পরীক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। এ সময় প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা লক্ষ্য করা যায়। কোথাও কোথাও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।

আলমডাঙ্গার বটিয়াপাড়া-শিয়ালমারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহজাহান আলী বলেন, প্রশ্নপত্র ডাউনলোডের পর আমাদের ফটোকপি করতে হয়। এতে এমনিতেই বিলম্ব ঘটে। কিন্তু প্রথম দিনের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ডাউনলোডই হচ্ছে না। সার্ভার সমস্যা দূর হয় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে। সেক্ষেত্রে আমাদের দুপুর ১২টা বেজে যায় পরীক্ষা শুরু করতে। একই উপজেলার সৃজনী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের সহকারী প্রধান শিক্ষকও একই ধরনের অভিযোগ করেন।

একাধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, প্রতিবারই শিক্ষাবোর্ডের প্রশ্ন ডাউনলোডে ছোটখাটো ত্রুটি থাকেই। এতে আমাদের ভোগান্তির শেষ থাকে না। তাছাড়া সব বিদ্যালয়ে ফটোকপির ব্যবস্থা থাকে না। তাই বিভিন্ন ফটোস্ট্যাটের দোকানে গিয়ে ধরনা দিতে হয়। এতে পরীক্ষা সময়মতো নেওয়া সম্ভব হয় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক বলেন, বোর্ডের প্রশ্নের কোনো নিরাপত্তা থাকে না। আমরা দেখি অনেক বিদ্যালয়ের পাসওয়ার্ড বিভিন্ন ফটোস্ট্যাটের দোকানে থাকে। দোকান কর্মচারীরা প্রশ্নপত্র ডাউনলোড করে। ফলে পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র সাধারণ মানুষের কাছে চলে যায়। এ ধরনের পদ্ধতি থেকে প্রধান শিক্ষকরাও বেরিয়ে আসতে চান। তাদের দাবি প্রয়োজনে শিক্ষাবোর্ড প্রশ্ন প্রিন্ট করে পরীক্ষার আগে বিদ্যালয়ে সরবরাহ করুক।

এ বিষয়ে যশোর শিক্ষাবোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘একই সময়ে যশোর বোর্ডের অধীন সব বিদ্যালয় একবারে চাপ দেওয়ার ফলে বোর্ডের ওয়েবসাইট ডাউন হয়ে পড়েছিল। এ কারণে প্রশ্নপত্র ডাউনলোডে বিঘ্ন ঘটে।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০২/১০/২০২৩   

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.