লালমনিরহাটঃ জেলার ৩৩ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই খেলার মাঠ। শ্রেণিকক্ষ ও বারান্দায় বসে খেলতে হয় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। এমনকি ক্লাস শুরুর আগে সম্মিলিতভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ারও কোনো সুযোগ নেই।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের করিডোর ও শ্রেণিকক্ষে খেলছে শিশু শিক্ষার্থীরা। টিফিন পিরিয়ডে খেলার কোনো জায়গা নেই।
লালমনিরহাটের ৩৩টি বিদ্যালয়ের মধ্যে সদর উপজেলার দক্ষিণ খোর্দ্দসাপটানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাপটানা মাঝাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২নং খুনিয়াগাছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টুপামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ১৫টি, আদিতমারী উপজেলার গোবর্দ্ধন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বনচুকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৪টি, কালীগঞ্জ উপজেলার বানীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোপাল রায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৫টি, হাতীবান্ধা উপজেলার নওদাবাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডাউয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৮টি এবং পাটগ্রাম উপজেলায় একটি জগতবেড় কালীবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব বিদ্যালয়ে খেলার কোনো মাঠ না থাকায় পুরো সময় বিদ্যালয়ের ভেতরেই থাকে শিক্ষার্থীরা।
ক্লাস শুরুর আগে সম্মিলিতভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। এমনকি হয় না কোনো ক্রীড়া প্রতিযোগিতাও। জাতীয় পর্যায়ে খেলাধুলায় অংশ নিলেও অনুশীলন না করতে পারায় মেলে না আশানুরূপ ফলাফল। এছাড়া শ্রেণিকক্ষ ও বারান্দায় বসে খেলতে হয় শিক্ষার্থীদের। ফলে ৩৩টি বিদ্যালয়ে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী এসব থেকে বঞ্চিত।
লালমনিরহাটে সদরের দক্ষিণ খোর্দ্দসাপটানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খেলার মাঠ নেই, তাই শ্রেণিকক্ষে বলে লুডু খেলছেন শিশু শিক্ষার্থীরা। ছবি: সময় সংবাদ
মাঠহীন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিনথিয়া, কবির, ময়না ও সুমন বলে, তারা টিফিনের সময় বা ছুটির পরে খেলতে পারে না। খেলাধুলা করতে হলে ক্লাস রুমে বসে লুডু, দাবা খেলতে হয়। এছাড়া বিভিন্ন খেলাধুলার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করলেও বিদ্যালয়ে কোনো মাঠ না থাকায় তারা প্রতিবছরেই হেরে যায়। তাই তাদের দাবি, বিদ্যালয়ে খেলার মাঠের ব্যবস্থা করা হোক।
দক্ষিণ খোর্দ্দসাপটানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিলাদুন্নাহার বলেন, মুক্তভাবে খেলাধুলা করতে না পারায় শিক্ষার্থীদের মেধাবিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া জেলা উপজেলা পর্যায়ে খেলাধুলার যে সব প্রতিযোগিতা হয় সেখানে আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করলেও আশানুরূপ ফল পাই না আমরা।
লালমনিরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে, এখনও কোনো সমাধান মেলেনি।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৬/০৯/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
