নেত্রকোনাঃ জেলার গ্রামের নাম চোরের ভিটা। আর সে নামেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামকরণ। নেতিবাচক এই নামে লজ্জায় পড়তে হতো শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের। অবশেষে কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে সাড়া দিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করলো। এখন থেকে আলোর ভুবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে পরিচিত হবে প্রতিষ্ঠানটি। এতে খুশি শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, গ্রামের নামটিও পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
জেলার পূর্বধলা উপজেলার একটি গ্রামের নাম চোরের ভিটা। সেই গ্রামে শিক্ষা প্রসারে ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠা হয় চোরের ভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কিন্তু চোরের মতো একটি নেতিবাচক নাম কোমলমতিদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিদ্যালয়ের নামটি নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
২০২১ সালে বিদ্যালয়টির তৎকালীন প্রধান শিক্ষক আন্দোলন করেন এমন নাম পরিবর্তনের। শিশুসহ অভিভাবকরাও এতে সায় দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী নাম বদলের উদ্যোগ নেয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ১৪ সেপ্টেম্বর দেশের তিনটি স্কুলের নাম পরিবর্তন করে। সেখানে চোরের ভিটার নামটিও পরিবর্তন করা হয়। এখন বিদ্যালয়টির নাম হবে আলোর ভুবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এতে খুশি প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী।
শিক্ষার্থীরা জানায়, এতদিন আশপাশের স্কুলের শিক্ষার্থীরা তাদের স্কুলের নাম নিয়ে মজা করতো। এখন নিজেদের স্কুলের নাম পরিবর্তন হওয়ায় বেশ আনন্দিত তারা। এখন তারা আনন্দের সঙ্গে নিজেদের স্কুলের পরিচয় দিতে পারবে।
অভিভাবকরা জানায়, জ্ঞানের আলোয়ে আলোকিত করতে সন্তানদের স্কুলে পড়ান। কিন্তু স্কুলের এমন নেতিবাচক নাম ছিল যে, সে নাম বলতে অস্বস্তি হত। এখন তারা বেশ আনন্দিত।
এ বিষয়ে স্কুলটির বর্তমান প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আজিজুল হক বলেন, ‘নামের কলঙ্ক থেকে কোমলমতি শিশুসহ সবাই মুক্তি লাভ করেছে। এখন বাস্তবায়ন চিঠি হাতে পেলেই স্কুলের নামটি পরিবর্তন করতে পারবো।’
বারহাট্টা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, ‘নামটি শুনতেই কেমন লাগে। এই স্কুলের শিশুরা বিভিন্ন সময় খেলায় চ্যাম্পিয়ন হলেও তাদের মধ্যে একটা নিরুৎসাহিত ভাব ছিল। কোনো উৎফুল্লতা ছিল না। এবার তাদের চেহারায় আনন্দ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।’
পূর্বধলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মফিজুল হক জানান, ‘আমরা সিদ্ধান্ত পেয়েছি। এখন গেজেট হওয়ার আশায় আছি। গেজেট হয়ে গেলেই আমরা বাকিটা শেষ করে ফেলতে পারবো।’
কথিত আছে, বৃটিশ আমলে এই গ্রামের খাজনা আদায়ের রশিদ চুরি হওয়ায় এটিকে চোরের ভিটা বলে ডাকা হতো। সে থেকেই গ্রামটির এই নামকরণ। এখন গ্রামটির নাম শান্তি নগর গ্রাম হিসেবে পরিবর্তনের জন্য গণ স্বাক্ষরসহ বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ হোসেন প্রিন্স জানান, স্কুল শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ স্থানীয়দের আবেদনের প্রেক্ষিতে যাচাই বাছাইয়ের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর পছন্দের নামসহ আবেদন পাঠালে কর্তৃপক্ষ সেটি আমলে নিয়ে পরিপত্র জারি করে। তবে বাস্তবায়ন করতে মাস খানেক সময় লাগবে।
তিনি আরও জানান, এরইমধ্যে গ্রামের নামটিও শ্রুতিকটু চোরের ভিটা থেকে শান্তি নগর গ্রাম হিসেবে পরিবর্তনের জন্য গ্রামের মানুষের গণ স্বাক্ষরসহ পরিবর্তন কার্যক্রম হাতে নেয়া হচ্ছে।
আলোর ভুবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৬৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৪/০৯/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
