এইমাত্র পাওয়া

নালিতাবাড়ী: নিয়োগ জালিয়াতি করে শিক্ষক হাসানুজ্জামানের এমপিওভুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ জাল জালিয়াতি করে শিক্ষক পদে নিয়োগ নিয়ে এমপিওভুক্ত হয়ে সরকারের অর্থ তছরুপ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার গোজাকুড়া নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত শ্রেণি শাখার সহকারি শিক্ষক (সমাজবিজ্ঞান) মোঃ হাসানুজ্জামান হাসানের বিরুদ্ধে। যার ইনডেক্স নম্বর N56807648।

২২ অক্টোবর ২০১৫ সালের পর থেকে ম্যানেজিং কমিটি কিংবা গভর্নিং বডির মাধ্যমে বেসরকারি নিন্ম মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষক (প্রধান শিক্ষক, সহকারি প্রধান শিক্ষক এবং অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ বাদে) নিয়োগে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে পরিপত্র জারি করা হয়। ২২ অক্টোবরের পর থেকে বেসরকারি স্কুল কলেজের নিয়োগের এখতিয়ার একমাত্র এনটিআরসিএর ।  তবে সেই পরিপত্রকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে নিয়োগ নিয়ে ২০১৮ সালের ১৭ আগস্ট যোগদান করেন হাসানুজ্জামান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর গোজাকুড়া নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয় এমপিওভুক্ত হয় এবং বিদ্যালয়টির শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত হন ২০২০ সালে। তবে অতিরিক্ত শ্রেণি শাখার সহকারী শিক্ষক হাসানুজ্জামান হাসান এমপিওভুক্ত হন ২০২১ সালে।

বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হবার আগে হাসানুজ্জামানকে বিদ্যালয়ে কোনো দিন উপস্থিত হতে দেখেননি তারা। এমনকি কবে নিয়োগ পেয়েছেন তিনি তাও জানেন না তারা।

নতুন এমপিওভুক্ত হওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যাকডেটে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ ঠেকাতে উদ্যোগ নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির আবেদনের তথ্যের সঙ্গে ব্যানবেইস সংরক্ষিত শিক্ষক-কর্মচারীদের তথ্য যাচাই করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) ২০১৩ সাল থেকে প্রতি বছর শিক্ষক-কর্মচারীদের তথ্য হালনাগাদ করে।এমপিও-ননএমপিও স্কুল-কলেজে  যে বছরেই নিয়োগ দেওয়া হোক না কেন সে বছর অথবা তাঁর পরের বছর বেনবেইসে অবশ্যই সেই শিক্ষক কর্মচারীর তথ্য হালনাগাদ থাকবে। তবে গোজাকুড়া নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক হাসানুজ্জামানের যোগদান ২০১৮ সালের ১৭ আগস্ট হলেও বেনবেইসে তথ্য হালনাগাদ করা হয়েছে ২০২২ সালে। অর্থ্যাৎ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া পরিপত্র অনুযায়ী তিনি বিগত দিনের নিয়োগ দেখিয়ে এমপিওভুক্ত হয়েছেন। যা নিয়ম বহির্ভুত এবং সরকারি অর্থের তছরুপ।

শিক্ষাবার্তা’র অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের কোনো সেকশনের অনুমোদন না থাকলেও সমাজবিজ্ঞানের সেকশন শিক্ষক হিসেবে হাসানুজ্জামানের নিয়োগ এবং এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। অথচ বিদ্যালয়টিতে ফাতিমা জেসমিন নামে ২০০৩ সাল থেকে সমাজবিজ্ঞানের সহকারি শিক্ষক (এমপিওভুক্ত) হিসেবে কর্মরত আছেন। ২৮ আগস্ট, ২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ছিল ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অন্তর্গত এরপর ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠানে হলে এটি এই বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে দুই বোর্ডেই শিক্ষাবার্তা’র পক্ষ থেকে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, কোনো অতিরিক্ত শ্রেণি শাখার অনুমোদন নেওয়া হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগেও খোঁজ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সেকশন অনুমোদনের কোনো কাগজপত্র পাওয়া যায়নি।

তবে বিদ্যালয়েরে একাধিক শিক্ষক বলছেন, তারা অনুমোদনের কোনো কাগজপত্র দেখেননি শুধু প্রধান শিক্ষক তাদের বলেছেন যে তাদের দুইটি অতিরিক্ত শ্রেণি শাখার অনুমোদন নেওয়া আছে।  কিন্তু কোনো অতিরিক্ত শ্রেণি কার্যক্রম নেই। সেই অতিরিক্ত শ্রেণি শাখার শিক্ষক হিসেবেই হাসানুজ্জামানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পার্শ্ববর্তী কোনো প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত শ্রেণি শাখার স্বারক নম্বর ব্যবহার করে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে মোটা অংকের অর্থের মাধ্যমে এই নিয়োগ প্রধান করা হয়েছে।  শুধু তাই নয় সহকারি শিক্ষক মোঃ হাসানুজ্জামান আদতে স্নাতকধারী না হলেও দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকের সনদ কিনে প্রধান শিক্ষকসহ কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজসে এমপিওভুক্ত হয়েছেন। দারুল ইহসান সনদ নিয়ে বিতর্ক থাকায় বহু শিক্ষক এই সনদে এমপিওভুক্ত হতে পারেননি।

জাল-জালিয়াতি করে নিয়োগ পাওয়া এমপিওভুক্ত হওয়া শিক্ষক হাসানুজ্জামানের কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার সনদ ঠিক আছে। আমি নিয়োগ পেয়েছি ২০১৪  সালে। এমপিওভুক্ত হবার আগ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানে আপনাকে কেউ দেখেনি এবং বেনবেইসে তথ্য হালনাগাদের কথা উল্লেখ করলে তিনি বলেন এটা মিথ্যা কথা। আপনি অফিসে আসেন আপনাকে আমি সব কাগজপত্র দিব।

অনুমোদন ছাড়াই সেকশন শিক্ষক নিয়োগ, কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ বন্ধ থাকলে কিভাবে নিয়োগ দিলেন এবং এমপিওভুক্ত করলেন এসব বিষয়ে জানতে গোজাকুড়া নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: লুৎফর রহমান এর মুঠোফোনে কল করে এমনকি ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে বিদ্যালয়টির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও তারাগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, আমি এর আগে যখন সভাপতি ছিলাম তখন সকল শিক্ষকের এমপিওভুক্ত হয়। আমার সময় কোনো শিক্ষক নিয়োগ হয়নি ফলে বিষয়টি আমি বলতে পারব না। তবে শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির সময় প্রধান শিক্ষক সকল শিক্ষক-কর্মচারীর যে কাগজ পত্র আমাকে দিয়েছিলেন সেখানে শুধু আমি স্বাক্ষর করেছি। আপনি প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বললে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

নালিতাবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর কবীর শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, সেকশনের অনুমোদন না থাকলে সেকশন শিক্ষক হিসেবে এমপিওভুক্ত হবার সুযোগ নেই। তাছাড়া ২০১৫ সালের পরে কিভাবে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ পেলেন সেটাও বোধ্যগম্য না। আমাকে কাগজপত্র দেখতে হবে। তাহলে বলতে পারব। বিষয়টি খতিয়ে দেখব।

সংশ্লিষ্ট খবর

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/১৬/০৯/২০২৩


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.