সুনামগঞ্জের শিক্ষাঙ্গণের সবচেয়ে বির্তকিত প্রধান শিক্ষক মাশহুদ চৌধুরী

সুনামগঞ্জঃ সরকারি বিদ্যালয়ের ফেসবুক পেজ থেকে সাংবাদিকদের গালাগাল করলেন সুনামগঞ্জ সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের বেয়াদব, কুলাঙ্গার, ভূখা-নাঙ্গা, জামায়াত প্রেমিক ও সংবাদপত্রকে টিস্যু পেপার উল্লেখ করে ফেসবুকে বিদ্যালয়ের পেজ থেকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক হাফিজ মো. মাশহুদ চৌধুরী। বিদ্যালয়ের ফেসবুক পেজে করা পোস্টটি তিনি আবার তার ব্যক্তিগত আইডি থেকেও শেয়ার করেছেন।

সুনামগঞ্জের শিক্ষাঙ্গণের সবচেয়ে বির্তকিত প্রধান শিক্ষক হাফিজ মো. মাশহুদ চৌধুরী। গত কয়েক বছর ধরে তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের অনুপস্থিতি, ভর্তি বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়, অভিভাবকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। এসব সংবাদ প্রকাশের জের ধরে তিনি সব সময় ফেসবুকে সাংবাদিকদের গালাগাল দিয়ে লেখালেখি করেন। এর প্রতিকার চেয়ে ইতোপূর্বে মৌখিকভাবে জেলা প্রশাসক ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরীর কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন গণমাধ্যমকর্মীরা।

সম্প্রতি সাড়ে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দে বিদ্যালয়টির প্রধান ফটকে তোরণ নির্মাণ করছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। সরকারি বরাদ্দ থাকার পরও তোরণ নির্মাণের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাথাপিছু ৩০০ টাকা চাঁদা উত্তোলন করেন তিনি। এ নিয়ে অভিভাবকরাও ক্ষোভ জানান। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়।

সংবাদ প্রকাশের পর বিদ্যালয়ের ফেসবুক পেজ থেকে সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে পোস্ট করেন প্রধান শিক্ষক মাশহুদ চৌধুরী। ঐতিহ্যবাহী সরকারি বিদ্যালয়ের একজন প্রধান শিক্ষকের এমন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে সকল অনিয়মের তদন্তের দাবি জানান গণমাধ্যমকর্মীরা।

এ বিষয়ে আরটিভি ও দৈনিক আমাদের সময়ের সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি বিন্দু তালুকদার বলেন, ‘একটি স্বনামধন্য ও প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফেসবুক পেজ থেকে ঢালাওভাবে গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে কটাক্ষ ও আক্রমণাত্মক কথাবার্তা প্রচার করা মোটেও কাম্য নয়। গণমাধ্যম বা এর কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে প্রেস কাউন্সিল বা প্রচলিত আইনে প্রতিকার না চেয়ে এভাবে বিষেদাগার করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে আশা করি।’

সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি পঙ্কজ দে বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠান প্রধানকে নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে আর্থিক দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। সংবাদ প্রকাশের পর অন্যায়ভাবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা টাকা তিনি ফেরতও দিয়েছেন। সম্প্রতি ফটক নির্মাণের কথা বলে আবার নির্লজ্জভাবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায় শুরু করেছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে টিফিনের টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য না দিয়ে সাংবাদিকদের গালিগালাজ করে কী ম্যাসেজ দিতে চান তিনি?

‘আসলে তার লজ্জ্বা-শরম কম, এজন্য এমন করতে পারছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে যাবেন।’

বিটিভির সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি সচেতন নাগরিক কমিটির (টিআইবি) সভাপতি অ্যাডভোকেট আইনুল ইসলাম বাবলু বলেন, ‘একজন সরকারি কর্মকর্তা কোনো অবস্থাতেই গালিগালাজ করে পোস্ট দিতে পারেন না। সংবাদে ভুল থাকলে আইনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ আছে।’

দৈনিক সুনামকণ্ঠের সম্পাদক ও প্রকাশক বিজন সেন রায় বলেন, ‘প্রকাশিত সংবাদে ভুল থাকলে তিনি প্রতিবাদ বা আইনি পদক্ষেপ নিতে পারতেন। তিনি সেটা না করে বিদ্যালয়ের ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে অকথ্য ভাষায় সাংবাদিকদের গালিগালাজ করেছেন, যা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের কাজ হতে পারে না। এরকম হলে শিক্ষকদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা কমে যাবে। বিষয়টির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজ মো. মাশহুদ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে সুনামগঞ্জের কোনো সাংবাদিকের সঙ্গে তিনি কথা বলতে চান না বলে মন্তব্য করেন। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পেজ থেকে গালিগালাজ করে প্রতিষ্ঠান প্রধান এমন পোস্ট দিতে পারেন কি না- জানতে চাইলে, ‘পারি বলেই দিয়েছি’ বলে উত্তর দেন তিনি।

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘রোববার ডিসি অফিসে আমাদের সমন্বয় কমিটির সভা ছিল। সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা শিগগিরই কমিটি করে বিষয়টি দেখব।’

জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী বলেন, ‘এটা উনার ব্যক্তিগত স্ট্যাটাস। এর দায়-দায়িত্ব আমার নয়। আমরা আমাদের মতো করে ব্যবস্থা নেব।’

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৩/০৮/২০২৩  

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.