নেত্রকোনাঃ টিউশনির টাকায় এসএসসির গণ্ডি পার হয়েছে রাত্রী সরকারের। পেয়েছে জিপিএ ৫। এখন অর্থের অভাবে কলেজে ভর্তি অনিশ্চিত হয়েছে পড়েছে তার। অদম্য এই শিক্ষার্থী মদন পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আশকিপাড়া এলাকার দিনমজুর স্বপন সরকারের মেয়ে।
জানা গেছে, আশকিপাড়া এলাকার দিনমজুর স্বপন সরকার দুই সন্তানের বাবা। ভিটেবাড়ি ছাড়া আর কিছুই নেই তাদের। থাকার মতো আছে একটি টিনের ছাপড়া ঘর। অন্যের জমিতে কৃষিকাজ ও বাজারে তরকারি বিক্রি করে সংসার চালান স্বপন। অভাবে টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে নিয়েছে তাঁর মেয়ে রাত্রী সরকার। মদন শহীদ স্মরণিকা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২৩ সালে এসএসসিতে মানবিক শাখায় জিপিএ ৫ পেয়েছে সে।
রাত্রী সরকার বলেন, ‘এতদিন নিজে টিউশনি করে পড়ালেখার খরচ জুগিয়েছি। বাবার বই কিনে দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না। স্যাররা আমাকে বই দিয়ে ফ্রিতে প্রাইভেট পড়ার সুযোগ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। আমার ইচ্ছা একটি ভালো কলেজে ভর্তি হওয়া। ভালো কোনো কলেজে ভর্তি এবং পড়ালেখার খরচ চালানো আামর দিনমজুর বাবার পক্ষে সম্ভব নয়।’
রাত্রীর মা দীপ্তি সরকার বলেন, ‘অভাব-অনটনের মধ্যেও মেয়েটি অন্য বাচ্চাদের প্রাইভেট পড়িয়ে ভালো ফলাফল করেছে। ভালো ফলাফল শোনে খুশি হইছিলাম ঠিকই; কিন্তু মেয়েটি ভালো কলেজে পড়ার জন্য কান্নাকাটি করছে। কেমনে ভর্তি করব? দিনমজুরি এবং মাঝেমধ্যে সবজির ব্যবসা করে কোনোরকম সংসার চলে আমাদের। ভালো কলেজে ভর্তি করার সামর্থ্য নাই।’
প্রধান শিক্ষক আক্কাস উদ্দিন বলেন, রাত্রীর পরিবার দরিদ্র হওয়ায় স্কুল থেকে তার ফি নেওয়া হতো না। এখন অর্থের অভাবে ভালো কলেজে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তার সহায়তায় সমাজের বিত্তশালী ও প্রশাসনের এগিয়ে আসা দরকার।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১২/০৮/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
