নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবানঃ কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টির কারনে পাহাড় ধসে এবং পাহাড়ি ঢলে ভেসে গিয়ে বান্দরবান জেলায় বিদেশি পর্যটকসহ ৯ জনের মৃত্যুর হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) দুপুরে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে খোলা কন্ট্রোল রুম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কন্ট্রোল রুম থেকে পাওয়া তথ্য মতে, নাইক্ষ্যংছড়ি ও আলিকদমে একজন করে মারা গেছেন। এছাড়া বান্দরবান সদরে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে শহরে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তায় জমে আছে কাদামাটি। কোথাও কোথাও পাহাড় ধসে রাস্তায় পড়ে রয়েছে মাটির স্তুপ। শহরে অভ্যন্তরীণ সড়ক ছাড়া কোথাও যান চলাচল নেই। শহরে বালাঘাটার ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ এলাকায় এবং বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়কের রামজাদি এলাকায় এখনও বুকসমান পানি রয়েছে। সেখানে নৌকায় করে পারাপার করতে দেখা গেছে স্থানীয়দের।
জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা জানান, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় বান্দরবান জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আংশিক উন্নতি হয়েছে। অধিকাংশ প্লাবিত এলাকা ও সড়ক থেকে বন্যার পানি নেমে গেছে। তবে বান্দরবান-কেরানীহাট-চট্টগ্রাম মহাসড়কের হলুদিয়া, বায়তুলইজ্জত এলাকায় সড়কে পানি উঠায় সারা দেশের সঙ্গে বান্দরবান জেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে তিন দিন ধরে।
এছাড়া পাহাড় ধসে রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাও বন্ধ রয়েছে। জেলা সদরের মেম্বার পাড়া, আর্মিপাড়া, শেরেবাংলা নগর, ইসলামপুর, ওয়াপদা ব্রিজ এলাকা এবং লামা, আলীকদম উপজেলায় এখনো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে হাজার হাজার পরিবার। জেলায় দুই শতাধিক আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে ২০ হাজারের বেশি মানুষ। বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) সকালে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার থেকে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে টানা বৃষ্টির কারনে বান্দরবান শহরে রোববার রাত থেকে বিদ্যুৎ চলে যায়। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং ইন্টারনেট সেবা এখনও বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে দেখা যায়, গোটা বিদ্যুৎ অফিসে কাদামাটি লেগে আছে। এলোমেলো হয়ে পড়ে রয়েছে বিভিন্ন সরঞ্জাম। অফিসের কর্মচারীরা কাদামাটি পরিস্কার করে গুছিয়ে নিতে দেখা যায় সকালে।
বিদ্যুৎ অফিসে কর্মরত মো. নাছির উদ্দিন নামে এক কর্মচারী সাংবাদিকদের জানান, বিদ্যুৎ অফিসের প্রকৌশলীরা সকাল থেকে যার যার লাইনে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন তদারকি করছে। এখানে মেইন ট্রান্সফরমার পানির নিচে ছিল। এগুলো ঠিক করার জন্য ঢাকা থেকে একটা কারিগরি টীম আসার কথা। তারা এসে ঠিক না করা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবার চালু করার কোন সুযোগ নেই।
এদিকে বুধবার দুপুরে বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরৈ জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, পরিস্থিতি অনেকটা উন্নতি হয়েছে। তবে দুর্যোগকালীন পরিস্থিতি পর এখন দুর্যোগ পরবর্তী কাজ নিয়ে আগানো হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আশ্রয় নেওয়া লোকজনদের শুকনো খাবার, রান্না করা খাবার এবং বিশুদ্ধ পানি দেওয়া হচ্ছে। তারপরও কোন পরিবার যাতে অনাহারে না থাকে- খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তার পাশাপাশি সেনাবাহিনীও প্রশাসনের সাথে একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১০/০৮/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
