এইমাত্র পাওয়া

মেঘনার পানি বিপদসীমার ওপর প্রবাহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

ভোলার মনপুরায় নিম্নচাপের প্রভাবে মেঘনার পানি বিপদসীমার ওপর প্রবাহিত হয়ে নিম্নাঞ্চলসহ চারগ্রামের বেড়িবাঁধের বাইরে ৩-৪ ফুট জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়। এতে ওই সব এলাকার দুই হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে। এছাড়াও জোয়ারে পানিতে মনপুরা উপজেলার বিচ্ছিন্ন বেড়িবাঁধহীন চরকলাতলী ও চরনিজামে প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ওই সব চরাঞ্চলে ৩-৪ ফুট জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউপি সদস্য আবদুর রহমান ও আমিন।

এদিকে বুধবার দুপুর ২টায় মেঘনার পানি বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর প্রবাহিত হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ডিভিশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ। বুধবার দুপুর ১২ থেকে একটানা ২টা পর্যন্ত জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয় উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চার গ্রামের বেড়ি বাঁধের বাইরের নিম্নাঞ্চলসহ বিচ্ছিন্ন বেড়িবাঁধহীন চরাঞ্চল।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের দাসেরহাট, চরজ্ঞান, চরযতিন ও সোনারচর গ্রামের বেড়ির বাইরে ৩-৪ ফুট জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও জোয়ারের ওই সব এলাকার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জোয়ারের বেড়ির বাইরে বসবাসরত আনুমানিক ২ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এছাড়াও দাসেরহাট এলাকার বেড়িসংলগ্ন দাসেরহাট জামে মসজিদ জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হতে দেখা গেছে। প্লাবিত এলাকার বাসিন্দা বাছেদ, শমিরন, কালির টেকের কালিসহ অনেকে জানান, জোয়ারের পানি ঘরের মধ্যে প্রবেশ করেছে। তারা ঘর ছেড়ে বেড়ির ওপর আশ্রয় নিয়েছে।

এই ব্যাপারে উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন হাওলাদার জানান, জোয়ারের পানিতে বেড়ির বাইরে প্লাবিত চার গ্রাম প্লাবিত হয়। দুই হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিভিশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ জানান, মেঘনার পানি বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর প্রবাহিত হয়ে বেড়ির বাইরে কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়াও জোয়ারের পানিতে বেড়িবাঁধ রক্ষায় ইমার্জেন্সি কাজ হাত নেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে মনপুরা উপজেলার নির্বাহী অফিসারের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা চরফ্যাশন উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নওরীন হক জানান, জোয়ার প্লাবিত হওয়ার খবরটি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত দুর্গত এলাকার মানুষদের সহযোগিতা করা হবে।

নিখোঁজ ১৩ জেলে জীবিত উদ্ধার
এদিকে ভোলার মনপুরার নিখোঁজ ১৩ জেলেকে বুধবার ভোর রাত ৪টায় সাগরে ভাসমান অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করে হাতিয়া ও সন্দীপের ফিসিংবোট। জেলার জীবিত উদ্ধার হওয়ায় পরিবারের মধ্যে স্বস্তি বিরাজ করছে। উদ্ধার হওয়া জেলেরা হাতিয়া ও সন্দ্বীপে নিরাপদে রয়েছে বলে নিশ্চিত করেন উদ্ধার হওয়া জেলেদের পরিবার ও আড়তদাররা।
এছাড়াও বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় মুঠোফোনে এই প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় উদ্ধার হওয়া জেলেদের সাথে। এই সময় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে।

তারা জানান, ট্রলার ডুবে যাওয়ার সময় হাতিয়া কোস্টগার্ডের কাছে মুঠোফোনে সহযোগিতা চান জেলেরা। তখন কোস্টগার্ড উদ্ধারে সাগর মোহনায় আসছে বলে জানালেও কোস্টগার্ড আসেনি। একপর্যায়ে হাতিয়ার উড়িরচরসংলগ্ন পূর্বপাশে সাগর মোহনায় জামাল মাঝির ট্রলার ও সাঙ্গু গ্যাস ফিল্ডসংলগ্ন সাগর মোহনায় প্রবল ঝড়ো বাতাসে সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিনের ট্রলার ডুবে যায়।

তখন দুই ট্রলারে নিখোঁজ ১৩ জেলেকে প্রবল ঢেউয়ে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। পরে কেউ ট্রলারে কাঠ, কেউ ভাসমান গাছ ধরে সমুদ্রে ভাসতে থাকে। এক পর্যায়ে হাতিয়া ও সন্দ্বীপের ফিশিং বোট ফেরার পথে সাগরে ভাসতে দেখে আমাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে।
বুধবার বিকেলে সাড়ে ৩টায় জামাল মাঝির ট্রলারে ৭ জেলে ও সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিনের মৎস্য আড়তের ট্রলারে ছয় জেলে মনপুরার উদ্দ্যেশে রওয়ানা করেছেন বলে মুঠোফোনে নিশ্চিত করেন।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.