এইমাত্র পাওয়া

ল্যাঙকাউয়ি স্যোসাল বিজনেস ডে অনুষ্ঠানে যোগদান

।। ড. মুহাম্মদ কামাল উদ্দিন।।

মালেশিয়া প্রথমবার যখন যাই তখনই দেশটির প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম। এবারের স্যোসাল বিজনেস ডে অনুষ্ঠানে নানা ব্যস্ততায় যোগদান না করার ইচ্ছে ছিল। অবশেষে পারিনি নোবেলজয়ীর সঙ্গ থেকে দুরে থাকবে। আমাকে যেতেই হল। ভিসা করার পর পরই সিদ্ধান্ত। নানা ব্যস্ত সময় কাটিয়ে ২৬ জুলাই রওনা করলাম।

মালেশিয়ায় ইমিগ্রেশন কিছুটা জটিল। আমি প্রথম রাত কুয়ালালামপুর থাকার প্রস্তুতি নিয়েই গিয়েছি। তাদের প্রশ্ন হল ল্যাঙকাউয়ি প্রোগ্রাম কুয়ালালামপুর কেন থাকব? বুঝিয়ে অবশেষে বের হয়েই টেক্সী নিয়ে হোটেলে চলে গেলাম। পরদিন ভোরে কুয়ালামপুর হতে ফ্লাইট। ভোরে ভোরে গিয়ে ফ্লাইট ধরলাম। বিমান থেকে নেমেই কিছুটা অবাক হলাম। কেন? এতটা অপরূপ? মুগ্ধতা।


ল্যাঙকাউয়ি মালেশিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় গ্রীস্মকালীন দ্বীপ। আমার মনে হয়েছে পুরো মালেশিয়ার পর্যটন বোর্ড এই দ্বীপটিকে সুন্দর করার কাজে বোধহয় ব্যস্ত। আমাদেরও নানা এমন দ্বীপ রয়েছে অথচ সুন্দর করা তো দুরে থাক খবর নেয়ারও কোন সুযোগ কারো হয় বলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় না। ২০০৭ সাল থেকে ইউনেস্কো ল্যাঙকাউয়িকে বিশ্ব জিও পার্ক হিসাবে বিবেচনা করে আসছে বিশেষত অন্য তিনটি জিও পার্কের সাথে। যেমন-ম্যাচিংক্যাং ক্যামব্রিয়ান জিওফরেস্ট পার্ক, কিলিম জিওপরেস্ট পার্ক এবং পুলাও তাসিফ দাইয়াং বান্টিং জিও পার্ক। মালয় উপদ্বীপের উত্তর-পশ্চিম উপকুলে অবস্থিত ল্যাংকাউয়ি ১০৪টি লোকবসতিহীন দ্বীপ দ্বারা ব্যাস্টিত একটি এলাকা।
বিমান থেকে নেমে সরাসরি আমরা তিনজন গাড়ি নিয়ে অনুষ্ঠানস্থল Pelage Resort and Spa, Lang ধরি চলে গেলাম। তখনও অনুষ্ঠান শুরু হয়নি। নোবেলজয়ী নেপালের এক ভদ্রলোকের সাথে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন, আমাকে দেখেই কামাল আসতে কোন সমস্যা হয়নি তো? কেমন আছ? স্বভাব সুলভ তিনি যা করেন। আমার বেলায় ভালোবাসা তো আর ব্যাখ্যার সুযোগও কম। সব খবর দিলাম। বহু খবর। শুনলেন, পরামর্শ দিলেন। সময় হয়ে গেল অনুষ্ঠানের। এটা মনে রাখবেন যে, স্যারের দেশি বেদেশি সকল অনুষ্ঠান সময়মত শুরু ও শেষ হয়। সময়ের বিষয়ে কোন ছাড় তিনি কখনও দেননি। শিখার আছে।


আমরা চট্টগ্রাম হতে ১৭জন গিয়েছি সবাই বসলাম অনুষ্ঠান উপভোগ কলাম। স্যারের বক্তব্য শুরুর সাথে সাথে মনেহল এই বুঝি নতুন ইতিহাস গড়ে উঠল। কয়েকটি বিষয় তিনি পরিস্কার করলেন, তিনশূণ্যের পৃথিবী, যুদ্ধের জন্য এত আয়োজন থাকলে শান্তির জন্য আয়োজন নয় কেন? প্রশ্ন করলেন বিশ্ব নেতাদের। অথনীতির নানাদিক নিয়ে আলোচনা ও কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার কাছে মানসভ্যতা হারিয়ে যাবে কিনা প্রশ্ন রাখলেন। তারপর চা বিরতি। আবার শুরু হল সিডিউল অনুযায়ী অনুষ্ঠান।
বিকেলে কান্ট্রি ফোরম। বাংলাদেশ ফোরামে আমি আছি। কিন্তু হোটেলে গিয়ে আসতে দেরী হয়ে গেল। এরই মধ্যে স্যার বক্তব্য শেষ করে অন্যদেশের ফোরামে গেলেন। কিন্তু বাংলাদেশ ফোরামে নানাভাবে আমাকে খুঁজলেন, আমার কর্মকান্ড নিয়ে সবাইকে অবহিত করলেন, জানালেন। আহ! কি মিস করলাম। প্রথম এই বিষয়ে বললেন, স্যোসাল বিজনেস সেন্টারের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী।

সন্ধ্যায় আমার সিডিউলে যোগ দিলে সেখানে থ্রি জিরো ক্লাব নিয়ে প্রসঙ্গ আসতেই হলভর্তি সকলের সামনে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিলেন। বললেন। রাতে খেতে বসে সেখানেও খবর নিতে ভুললেন না। এমন এক মহা মনিষিকে নিয়ে আমরা আসলে কি করছি? আমাদের আসলে কী করা উচিত ছিল? আমরা কি করতে পেরেছি।
পরদিন ২৮ জুলাই সকালের সেশনে মালেশিয়ার স্থপতি, বিশ্ব রাজনীতির সুপুরুষ ড. মাহাথীর বিন মুহাম্মদ প্রধান অতিথি। তাঁর বক্তব্যেও উঠে এল পুরো বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাস।

যুদ্ধ। গরীব রাষ্ট্র গুলোর উপর শোষনের কথা। তিনি বক্তব্য রেখে চলে গেলেন ডিসকাসনে। সেখানে সুযোগ হল আমার থাকার। স্যার বললেন ছবি তুলে নাও। মিস করিনি। পাশে বসে ছবিটি শেষ হল। সালাম দিলাম, খবর নিলাম। মনেহল খুব কম কথা বলেন তবে মনোযোগ দিয়ে শুনেন ও হাসেন। মুগ্ধ সময়। খুব ইচ্ছে ছিল বরেণ্য এই রাজনৈতিকের সাথে এইটুকুন সময় অতিবাহিত করবার।

২৯ তারিখ থ্রি জিরো ক্লাব কনভেনশন। সেখানও নানাভাবে স্যার আমাকে উপস্থাপন করলেন। বললেন, মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলাম। ২৯ তারিখ প্রোগ্রামছিল Tanjug Ryu Resort এই এলাকটিও দেখার মত। প্রকৃতি নানাভাবে সাজিয়েছে নিজহাতে। কি পরিস্কার? প্রোগ্রাম শেষে আবার কুয়ালালামপুর চলে এলাম, কারণ পরদিন দেশের পথে আসতে হবে।

এবারের সামাজিক ব্যবসার বার্ষিক এই পারিবারিক অনুষ্ঠানে বিশ্বের শতশত ডেলিগ্রেট অংশ নিলেন অনেকের সাথে পরিচয় ঘটল। যাঁদের অনেকেই আমার নাম শুনেছে স্যারের মুখে। অনেকেই ছবি দেখেছে নানা কর্মকান্ডে, অনেকের সাথে আগেও পরিচয় ছিল। এমন এক সুন্দর পৃথিবীর সন্ধ্যানে যেই প্রিয় সুপার হিরোটি আমার, তিনি হলন শান্তিতে নোবেলজয়ী বিশ্ববরেণ্য অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর হাত ধরে বিশ্ব নতুনভাবে নতুন করে জেগে উঠুক। ভাল থাকুক আমাদের প্রিয় মানুষটি।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.