নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ জন সমুদ্রে পরিণত হয়েছে জাতীয় প্রেসক্লাব অঙ্গন। মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে সারাদেশ থেকে আসা শিক্ষকদের উপস্থিতিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে প্রেসক্লাব ও এর আশেপাশের এলাকা। জাতীয়করণের দাবিতে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত রয়েছে প্রেসক্লাব অঙ্গন। স্লোগান, স্লোগান শেষে বক্তব্য এবং এর ফাঁকে ফাঁকে জাতীয়করণের দাবিতে বাঁধা গান এভাবেই চলছে জাতীয়করণের একদফা আন্দোলন।
রবিবার সকাল থেকেই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সরব উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। কয়েক হাজার শিক্ষক যোগ দিয়েছে এই আন্দোলনে। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ) এর ব্যানারে এই আন্দোলন হলেও জাতীয়করণ প্র্যতাশী সাধারণ শিক্ষকদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে।

অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে সরকারের উদ্দেশে শিক্ষক নেতারা বলেন, এখনো সময় আছে। মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবি মেনে নিন। নইলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে। জাতীয়করণের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত স্কুলের তালা খুলবে না বলে ঘোষণা দেন শিক্ষক নেতারা।
শিক্ষকদের দাবি, দেশের সিংহভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী দ্বারা। পরিতাপের বিষয় আমরা এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এক হাজার টাকা বাড়িভাড়া, ২৫ শতাংশ উৎসবভাতা এবং ৫শ টাকা চিকিৎসাভাতা পাই। অথচ একই কারিকুলামের অধীন একই সিলেবাস, একই একাডেমিক সময়সূচি, একইভাবে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজে নিয়োজিত থেকেও আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছে পাহাড়সম বৈষম্য।

এছাড়া, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের বেতন স্কেল সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বেতন স্কেলের এক ধাপ নিচে দেওয়া হয়। সহকারী প্রধান শিক্ষকদের উচ্চতর স্কেল না দেওয়ার ফলে উচ্চতর স্কেলপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষকদের বেতন স্কেল ও সহকারী প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল সমান হওয়ায় সহকারী প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ রয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষকরা বলছেন, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরে যাওয়ার পর অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। ফলে অনেক শিক্ষক-কর্মচারী টাকা পাওয়ার আগেই অর্থাভাবে বিনাচিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করছেন। কয়েক বছর ধরে কোনো ধরনের সুবিধা না দিয়েই অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্ট খাতে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কর্তন করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।
এর আগে গতকাল শনিবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বিটিএ) এই চলমান কর্মসূচীর আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন জাতীয়করণ প্রত্যাশী দশটি শিক্ষক সংগঠন। একাত্মতা প্রকাশ করা শিক্ষক সংগঠনগুলো হলো- বাংলাদেশ শিক্ষক ইউনিয়ন (বাশার, জসিম), বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারি ফোরাম (সাইদুল ইসলাম), এনটিআরসিএ সুপারিশপ্রাপ্ত বাংলাদেশ শিক্ষক ফোরাম (বাশিফ), বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বাশিস), বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (প্রিন্স), জাতীয়করণ প্রত্যাশী মহাজোট, বেসরকারি ভোকেশনাল শিক্ষক সমিতি, বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠান প্রধান পরিষদ ও বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম (অপর অংশ)।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ বজলুর রহমান মিয়া বলেন, আমাদের এক দফা দাবি, মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ। দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা এখানে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করবো। শুক্র শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি ছিল। আজ রবিবার স্কুল খুললেও অধিকাংশ স্কুলই ছিল তালাবদ্ধ। জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত এই তালা খুলবে না। আমরা শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে কিছু করতে চাইনি। কিন্তু আমরা বাধ্য হয়েছে। সরকারকে সময় দিয়েছি কিন্তু জাতীয়করণ ঘোষণা করা হয়নি। এখন আমাদের আর কোন পথ খোলা না থাকায় আমরা স্কুলে তালা ঝুলিয়ে প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়েছি।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৬/০৭/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল

