নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে রবিবার (১৬ জুলাই) থেকে সারা দেশের মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তালাবদ্ধ করে বন্ধ রাখার কর্মসূচি শুরু করেছে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ)।
এরই অংশ হিসেবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষকদের লাগাতার অবস্থান চলছে। শিক্ষকদের অবস্থানের কারণে প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তাসহ আশেপাশের বেশ কয়েকটি সড়ক ব্লক হয়ে গেছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, হাইকোর্ট মোড় থেকে সচিবালয় পর্যন্ত প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে শিক্ষকরা অবস্থান নিয়েছেন। লাগাতার অবস্থানের ষষ্ঠ দিনে আজ বিগত দিনগুলোর চেয়েও বেশিসংখ্যক শিক্ষক অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তাদের অবস্থানের কারণে এই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী গণপরিবহন বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করছে।
সকাল থেকে রাজধানী ও এর আশেপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা দলে দলে যোগদিন এই অবস্থান কর্মসূচীতে। বেলা বৃদ্ধির সাথে সাথে দেশের বিভিন্ন জেলার শিক্ষক নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ শিক্ষকরা এই সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন। জ
অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে সরকারের উদ্দেশে শিক্ষক নেতারা বলেন, এখনো সময় আছে। মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবি মেনে নিন। নইলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে।
এর আগে গতকাল শনিবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বিটিএ) এই চলমান কর্মসূচীর আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন জাতীয়করণ প্রত্যাশী দশটি শিক্ষক সংগঠন। একাত্মতা প্রকাশ করা শিক্ষক সংগঠনগুলো হলো- বাংলাদেশ শিক্ষক ইউনিয়ন (বাশার, জসিম), বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারি ফোরাম (সাইদুল ইসলাম), এনটিআরসিএ সুপারিশপ্রাপ্ত বাংলাদেশ শিক্ষক ফোরাম (বাশিফ), বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বাশিস), বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (প্রিন্স), জাতীয়করণ প্রত্যাশী মহাজোট, বেসরকারি ভোকেশনাল শিক্ষক সমিতি, বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠান প্রধান পরিষদ ও বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম (অপর অংশ)।
শিক্ষকদের দাবি, দেশের সিংহভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী দ্বারা। পরিতাপের বিষয় আমরা এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এক হাজার টাকা বাড়িভাড়া, ২৫ শতাংশ উৎসবভাতা এবং ৫শ টাকা চিকিৎসাভাতা পাই। অথচ একই কারিকুলামের অধীন একই সিলেবাস, একই একাডেমিক সময়সূচি, একইভাবে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজে নিয়োজিত থেকেও আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছে পাহাড়সম বৈষম্য।
এছাড়া, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের বেতন স্কেল সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বেতন স্কেলের এক ধাপ নিচে দেওয়া হয়। সহকারী প্রধান শিক্ষকদের উচ্চতর স্কেল না দেওয়ার ফলে উচ্চতর স্কেলপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষকদের বেতন স্কেল ও সহকারী প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল সমান হওয়ায় সহকারী প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ রয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষকরা বলছেন, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরে যাওয়ার পর অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। ফলে অনেক শিক্ষক-কর্মচারী টাকা পাওয়ার আগেই অর্থাভাবে বিনাচিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করছেন। কয়েক বছর ধরে কোনো ধরনের সুবিধা না দিয়েই অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্ট খাতে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কর্তন করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ বজলুর রহমান মিয়া বলেন, আমাদের এক দফা দাবি, মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ। দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা এখানে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করবো। আমরা পুলিশের সাথে কথা বলেছি। তাদের অবগত করেছি কর্মসূচির বিষয়ে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা কর্মসূচি চালিয়ে যাবো।
তিনি বলেন, আমাদের এ আন্দোলনের সরকারের বিরুদ্ধে নয়। সরকারের বিরুদ্ধে মিছিল স্লোগান দিতে আমরা এখানে আসিনি। আমরা জাতীয়করণের দাবিতে এসেছি। আমাদের দাবি আদায় হলে আমরা স্কুলে ফিরে যাব। জাতীয়করণের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত স্কুলে তালা খুলবে না বলে তিনি জানান।
এদিকে শিক্ষাবার্তা’র প্রতিনিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত প্রায় দুই হাজারের অধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়েছে জাতীয়করণ প্রত্যাশী শিক্ষকরা। তাঁরা বলছেন জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত এই তালা খুলবে না।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৬/০৭/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল

