প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি বিক্রির অভিযোগ

ঢাকাঃ সাভারের ইমান্দিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাজী শাহানা ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার এক পত্রের মাধ্যমে তাকে কৈফিয়ত তলব করেছেন। এছাড়াও এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন খাতে ব্যাপক দুর্নীতির কথা মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ইমান্দিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাজী শাহানা ইসলাম গত ১৪ জুন বিদ্যালয়ের পুরাতন রড গোপনে বিক্রি করেছেন। সংবাদটি উপজেলা শিক্ষা অফিসার জানার পরে স্বারক নং উশিঅ/সাভার/ঢাকা/৩১৫ পত্রের মাধ্যমে এ ব্যাপারে কৈফিয়ত তলব করেন।

পত্রে উল্লেখ করা হয়, সরকারি সম্পত্তি বিক্রি করা সরকারি চাকুরী বিধি (শৃংখলা ও আপিল ২০১৮) এর পরিপন্থী।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে কেন গাজী শাহানা ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তার জন্য ৩ কর্ম দিবসের মধ্যে কৈফিয়ত তলব করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্কুলের একাধিক শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও এলাকাবাসী জানান, ইমান্দিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাজী শাহানা ইসলাম স্কুলটিকে স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলেছেন। তার ইচ্ছেমত স্কুলটি পরিচালনা করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় তিনি দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। বারবার এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলেও তিনি অদৃশ্য ক্ষমতাবলে স্বপদে বহাল রয়েছেন।

আরও জানা গেছে, গাজী শাহানা ইসলাম স্কুলের ল্যাপটপ বাসায় নিয়ে ব্যবহার করে আসছিলেন। এ নিয়ে ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলে এবং অভিযোগ করা হলে তিনি ল্যাপটটি আবার স্কুলে নিয়ে আসেন। স্কুলের ফ্যান সরকারি সম্পত্তি হওয়ার পরেও তিনি তার বাসায় স্কুলের ফ্যান ব্যবহার করে আসছেন। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে স্লিপ ফান্ডের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। যা নিয়েও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ রয়েছে। স্কুল ক্যাম্পাসে থাকা গাছ তিনি বিক্রি করে সেই টাকাও আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ আছে।

সূত্র আরও জানায়, স্কুল শিক্ষার্থীদের ডিআর ভূক্ত করেছে ৭৫ জনকে। প্রধান শিক্ষক গাজী শাহানা ইসলাম ৭৫ জনের পরিবর্তে ৯৫ জনের তালিকা দিয়ে সেই টাকা আত্মসাৎ করেছেন। শিক্ষার্থী ভর্তির সময় শাহানা ইসলাম নিজের ইচ্ছেমত ফি নির্ধারণ করেন। সরকারি স্কুল হওয়ার পরেও ৫’শ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত ভর্তি ফি নেন তিনি। পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের উপর চাপিয়ে দেন চড়া ফি। এভাবে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করে বিদ্যালয়টিকে স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলেছেন এই প্রধান শিক্ষক।

সম্প্রতি, বিদ্যালয়ের পাশের একটি ছোট্ট কক্ষ ভেঙে তার রড ও ইট বিক্রি করেছেন গাজী শাহানা ইসলাম। এ বাবদ তিনি হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় লক্ষাধিক টাকা। বিষয়টি প্রথমে উপজেলা প্রকৌশলীর নজরে আসে। পরে উপজেলা শিক্ষা অফিসার অবহিত হলে তাকে কৈফিয়ত তলব করা হয়।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে ইমান্দিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাজী শাহানা ইসলামের বক্তব্যের জন্য পরপর ২ দিন বিদ্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ প্রতিবেদন লেখাকালে তাকে মোবাইল ফোনে কল করলে গাজী শাহানা জানান, তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। রবিবার সাভারে এসে তার বক্তব্য দেবেন। মোবাইল ফোনে এ ব্যাপারে কোন বক্তব্য দেবেন না বলেও জানান তিনি।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৯/০৭/২০২৩   

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.