চুয়াডাঙ্গাঃ জেলায় এমপিওভুক্তির এক বছরেও বেতন-ভাতা পাননি শিক্ষক-কর্মচারীরা। বিভিন্ন প্রক্রিয়ার ফাঁদে ঝুলে অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনও বেতনভাতার জন্য আবেদনই করতে পারেনি। কবে নাগাদ এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন-ভাতার সরকারি অংশ পাবেন তাও কেউ বলতে পারছেন না। ফলে অনেক শিক্ষক-কর্মচারীর পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। উপজেলা পর্যায়ের যাচাই-বাছাইয়ে কালক্ষেপণ ও গাফিলতিকে দায়ী করছেন অনেক প্রতিষ্ঠানপ্রধান।
জানা গেছে, গত বছরের ৬ জুলাই সারা দেশে ২ হাজার ৭১৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত (মান্থলি পে অর্ডার) হয়। এর মধ্যে ছিল নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এমপিওভুক্তির আদেশের পর মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বেতনভাতার জন্য বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করে এবং কিছুদিনের মধ্যেই বেতনভাতার সরকারি অংশ পাওয়া শুরু করে। কিন্তু স্কুল ও কলেজের জন্য ওই বছরের ৩০ অক্টোবর আলাদা পরিপত্র জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
উপজেলা, জেলা ও অঞ্চল পর্যায়ে যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করে ওই পরিপত্র জারি করা হয়। তিন সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা যাচাই কমিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরজমিনে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে প্রত্যয়নপত্র দেবে মর্মে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়। সে অনুসারে চুয়াডাঙ্গার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে উপজেলা পর্যায়ের কমিটির কাছে ধরনা দিয়ে প্রত্যয়নপত্র নিতে হয়। এমপিওভুক্তির ৮ মাস পর গত এপ্রিলে প্রত্যয়নপত্র হাতে পায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। এরপর জেলা কমিটি প্রত্যয়ন দিতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় নেয়। প্রত্যয়নপত্র প্রদানে কালক্ষেপণের কারণে বেতনভাতার আবেদনে এই বিলম্ব বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষকরা। পরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরপ্রধানরা বিভাগীয় অর্থাৎ অঞ্চল পর্যায়ের প্রত্যয়নের আশায় দৌড়-ঝাঁপ করেন। সেখান থেকে প্রত্যয়ন বা আইডি-পাসওয়ার্ড পেতে সময় লেগে যায় এ বছরের জুন পর্যন্ত। গত জুনের ১-৮ তারিখ পর্যন্ত বেতনভাতার জন্য অনলাইনে আবেদন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। তবে অধিকাংশ আবেদনই বিভিন্ন ত্রুটি দেখিয়ে রিজেক্ট করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আবার যাদের আবেদন সঠিক বলে গ্রহণ করা হয়েছে তাদের বেতনভাতা পেতে আরও কয়েক মাস লেগে যাবে।
এ ব্যাপারে আলমডাঙ্গার সৃজনী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের সহকারী প্রধান শিক্ষক আতিকুল হক বুলবুল জানান, ‘আমাদের বিদ্যালয়টি ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত। প্রতিষ্ঠার ২৪ বছর পর গত বছর জেলার আরও ২৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হয়। বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর গত জুনে আমরা বেতন-ভাতার জন্য আবেদন করি। কিন্তু ১৭ শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে মাত্র চারজন শিক্ষক-কর্মচারীর ফাইল সঠিক বলে গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। বাকি ১৩ শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য পুনরায় আবেদন করতে হবে। কবে নাগাদ আমরা সরকারি বেতনভাতা পাব তা এখনই বলতে পারছি না।
আলমডাঙ্গার পোলতাডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ের যাচাই কমিটি প্রত্যয়নপত্র দিতে গাফিলতি ও গড়িমসি করে। এ কারণে আমরা পিছিয়ে পড়েছি।’
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কাথুলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক এবং দামুড়হুদার তালসারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা বেতন-ভাতার জন্য মাধ্যমিক পর্যায়ে আবেদন করি। কিন্তু আমাদের সবার ফাইলই রিজেক্ট হয়েছে। পুনরায় আবেদন করা লাগবে। আবেদন করা মানেই ফের টাকা ব্যয়।’
এ ব্যাপারে আলমডাঙ্গা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জিয়াউল হক বলেন, ‘আমরা আমাদের মতো চেষ্টা চালাচ্ছি যাতে নতুন এমপিওভুক্তির আদেশ পাওয়া শিক্ষক-কর্মচারী দ্রুত বেতন-ভাতা পান।’
চুয়াডাঙ্গা জেলা শিক্ষা অফিসার আতাউর রহমান বলেন, ‘আমরা উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই হয়তো নতুন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনভাতা চালু হয়ে যাবে।’
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৭/০৭/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
