গড়াই নদীর উপর ‘পদ্মা সেতু’ পেয়ে খুশি কুমারখালীবাসী

কুষ্টিয়াঃ জেলার কুমারখালী উপজেলার শহীদ গোলাম কিবরিয়া সেতু খুলে দেয়ার পরই দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় হয়েছে। ফলে বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে কুমারখালী-যদুবয়রা সেতু এলাকা। পরিবার-পরিজন, বন্ধুকে সাথে নিয়ে অনেকেই সেতুতে ঘুরতে আসছেন। সবার মুখে মুখে শহীদ গোলাম কিবরিয়া সেতু কুমারখালীবাসীর জন্য যেন গড়াই নদির উপর ‘পদ্মা সেতু’। পদ্মা সেতু চালুর পর সারাদেশের মানুষ যেমন হুমরি খেয়ে পড়েছেন একনজর দেখার এবং সেতুর উপর হাটার জন্য তেমনই এই সেতুটিও এলাকাবাসীর কাছে পদ্মা সেতুর চেয়ে কোন অংশে কম নয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর ওপরে যত্রতত্র যানবাহন রাখা, থামানো এবং অতিরিক্ত মানুষের চাপে সেতু, সংযোগ সড়ক ও আশপাশে প্রায় দেড় কিলোমিটার জুড়ে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। তবে ভোগান্তি হলেও সেতুতে ঘুরতে আসা মানুষেরা বেশ খুশি। ঈদের আগের দিন সকালে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে সেতু চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়। হেঁটে পাড়ি দেন কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ। প্রায় ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৬৫০ মিটার দৈর্ঘের এই সেতুতে সংযোগ সড়ক আছে ৫৫০ মিটার।

সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নানা বয়সী দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়, পা ফেলার জায়গা নেই। কেউ এসেছেন ঈদ উপলক্ষে ঘুরতে, কেউ এসেছেন নতুন সেতুটি দেখতে। স্মার্টফোনে সেলফি তোলার দৃশ্য ছিল চোখে পড়ার মতো। এর মধ্যেই যানজট নিরসনে সেখানে কাজ করছিলেন পুলিশের সদস্যরা।

আকাশ হোসেন নামে এক দর্শনার্থী বলেন, ৪০ মিনিট ধরে যানজটে ছিলেন। যানবাহন নিয়ে এগোনোর সুযোগ ছিল না। কিছুটা ভোগান্তি হলেও যানজট নিয়ে তার কোনো অভিযোগ বা দুঃখ নেই। তিনি বলেন, নতুন সেতুর উদ্বোধন ও ঈদের উৎসব একসাথে সত্যিই আনন্দের। ষাটোর্ধ্ব আক্কাস আলী বলেন, নাতির সাথে মোটরসাইকেলে সেতু দেখতে এসেছেন। তিনি যানজটে আটকে ছিলেন অনেক সময়। তবু তিনি আনন্দিত। তাই স্বপ্নের সেতু দেখতে উপচে পড়া ভিড়। বসেছে হরেক রকমের ভ্রাম্যমাণ দোকান।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের মধ্যে ইতঃপূর্বে দলীয় গ্রুপিং ও কোন্দলের কারণে বিভিন্ন সময়ে নানানভাবে সেতুর টেন্ডার, স্থান নির্বাচন ও অর্থ বরাদ্দে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল। সাবেক এমপি আব্দুর রউফ সেতুর অধিকাংশ কাজ সমাপ্ত করালেও উদ্বোধনে ব্যর্থ হন। সবশেষে বর্তমান এমপি ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্মীয়তার সুবাদে অর্থ ছাড় করে কাঙ্ক্ষিত সেতুর কাজ উদ্বোধন করাতে সক্ষম হয়েছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এমপি আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুর কাজ উদ্বোধন করেন। গড়াই নদীর ওপর নির্মাণাধীন চতুর্থ এই সড়ক সেতুর প্রকল্পে নাম দেয়া আছে ‘কুমারখালী লালন বাজার হইতে বাঁশগ্রাম জিসি ভায়া পান্টি রাস্তার ৩০০ মিটার চেইনেজে ৬৫০ মিটার দৈর্ঘ্য পিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ।

৮৯ কোটি ৯১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৯১ টাকা ব্যয়ে ৬৫০ মিটার দৈর্ঘ্য পিসি গার্ডার সেতুটি ওয়াকওয়েসহ ৯ দশমিক ৮০ মিটার চওড়া। এ ছাড়াও সেতুর দুই পাড়ে মোট ৫০০ মিটার দৈর্ঘ্য এপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে।

কুমারখালী উপজেলার ৫ ইউনিয়নে ৫ লাখ মানুষ জীবিকার তাগিদে কুমারখালী শহরে যাতায়াত করে। বর্ষা মৌসুমে নৌকা আর শুকনো মৌসুমে ধু ধু বালুতে হেঁটে গড়াই নদী পার হতেন এ এলাকার মানুষ। কয়েক যুগ ধরে এলাকার মানুষ গড়াই নদীর ওপর সেতু নির্মাণের দাবি করে আসছিল।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৬/০৭/২০২৩   

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.