শিক্ষক রাজন চাকরি করেন কোম্পানিতে, সাত বছর ধরে বেতন তুলছেন স্কুল থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ টানা সাত বছর কোম্পানিতে চাকরি করছেন। চাকরির সুবাধে এবং কর্মে পারদর্শিতার জন্য পাচ্ছেন অ্যাওয়ার্ড। সেই অ্যাওয়ার্ড ফেসবুকে পোস্ট করে জাহির করছেন নিজের কৃতিত্ব। এই অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার কথা ছিল শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে কিন্তু পেয়েছেন কোম্পানি থেকে। সাত বছর অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেও বেতন তুলছেন এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে। ক্লাস নেওয়া তো দূরে থাক কোনো দিন বিদ্যালয়ে না গে্লেও সরকার থেকে প্রাপ্ত বেতন ভাতা ঠিকই যাচ্ছে তাঁর পকেটে। তিনি রাজন বিকাশ চাকমা। রাঙ্গামাটি জেলার বরকল উপজেলার বড় হরিণা জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয়ের কৃষি শিক্ষক। সাত বছর ধরে বিদ্যালয়ে না গিয়েও বেতন-ভাতা তোলার ক্ষেত্রে তাঁকে সহযোগিতা করছেন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক উল্লাশ চাকমা। কারণ বেতন থেকে প্রতিমাসে পাঁচ হাজার টাকা যায় তাঁর  পকেটে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরকল উপজেলার বড় হরিণা জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয়ের এমপিওভুক্ত সহকারি শিক্ষক (কৃষি) রাজন বিকাশ চাকমা ২০১৭ সালে এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে নিয়োগ পাবার পর থেকে আজ পর্যন্ত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে একটি ক্লাসও নেননি। তাঁকে চেনেও না কোনো শিক্ষার্থী। কাগজে কলমে বিদ্যালয়ের শিক্ষক হলেও তিনি চাকরি করছেন বেসরকারি একটি কোম্পানিতে। যার প্রমাণ মেলে রাজন বিকাশ চাকমার ফেসবুক পোস্ট থেকেই।  শ্রেষ্ঠ মার্কেটিং অফিসারের অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছেন তিনি। তবে টানা সাত বছর কোম্পানিতে চাকরি করলেও এই শিক্ষকের এমপিও শিটে দেখা যায় নিয়মিত তিনি। সর্বশেষ জুলাই মাসের এমপিও শিটেও তাঁকে নিয়মিত দেখানো হয়েছে।

এ বিষয়ে গত ৯ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগও দিয়েন বিদ্যালয়টির একজন অভিভাবক। তবে কোনো প্রতিকার মেলেনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে লিখিত অভিযোগকারী শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও প্রধান শিক্ষকের সহযোগীতায় সে কোনো প্রকার বিদ্যালয়ে উপস্থিত না সরকারি যাবতীয় সুযোগ-সুবিধাসহ এমপিও  নিয়মিত ভোগ করে আসছেন। এই বিষয় নিয়ে অনেক বার স্কুলের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষককে বলা হলেও, প্রধান শিক্ষক সভাপতিকে ম্যানেজ করার কারণে অবস্থার কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘটে নাই।

তিনি আরও বলেন,  শিক্ষক রাজন বিকাশ চাকমা বিদ্যালয়ে কাগজে কলমে থেকে এসিআই সীড লিঃ (এসিআই গ্রুপ অব কোম্পানী একটি শাখা) এর রাঙ্গামাটি ও খাগড়াহুড়ি দুই জেলার মার্কেটিং অফিসার হিসাবে সাত বছরের অধিক সময় ধরে চাকরি এবং একই সাথে  বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা  করে দুই জায়গা থেকে নিয়মিত বেতন-ভাতাদি উত্তোলন করে আসছেন। যা এখনও কোম্পানীতে কর্মরত আছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা হলে তারা এই নামের কোনো শিক্ষককে চেনেন না এমনকি কোনো দিন স্কুলে দেখেননি বলেও জানান।

এই প্রতিবেদক অভিযুক্ত শিক্ষক রাজন বিকাশ চাকমার মুঠোফোনে কল করলে প্রথমত এসিআই সীড লিঃ কোম্পানির প্রতিনিধি কল ধরেন এবং বলেন তিনি এই প্রতিষ্ঠানের বর্তমানে চাকরি করছেন না। কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এগ্রোসাল কোম্পানিতে চাকরি করছেন। তার কাছ থেকে রাজন বিকাশ চাকমার মুঠোফোন নম্বর নিয়ে কোম্পানির পরিচয় দিয়ে কথা বললে অকপটে এগ্রোসাল কোম্পানিতে চাকরি করছেন বলে স্বীকার করেন রাজন বিকাশ চাকমা। এরপর এই প্রতিবেদক বড় হরিণা জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয়ের কৃষি শিক্ষক। সাত বছর ধরে বিদ্যালয়ে না গিয়েও বেতন-ভাতা তোলার  বিষয়ে কথা তুললে তিনি তার ভুল হয়েছে স্বীকার করে বলেন, আমি আপনাকে একটু পরে কল দিচ্ছি বলে সেই মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ করে দেন।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক উল্লাশ চাকমার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করে এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বরকল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুলতান আহমেদ শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, আমার জানামতে সে ঐ স্কুলের কৃষি শিক্ষক। এরকম টা করার কথা নয়। তবে অবশ্যই খোঁজ নিয়ে দেখব।

এ বিষয়ে বরকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা আমিন শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, আমি উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্বে।  উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা কে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলছি।

জানতে চাইলে রাঙ্গামাটি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মৃদুল কান্তি তালুকদার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৮/০৮/২০২৩   

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.