ঢাকাঃ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতার পড়াশোনায় যেমন বৈচিত্র্য ও সৃজনশীল বিষয় রয়েছে, ঠিক তেমনি এ বিষয়ে পড়াশোনা করে বিভিন্ন সেক্টরে বৈচিত্র্যময় ক্যারিয়ার গড়া যায়। এ বিষয়ের পড়াশোনা এবং ক্যারিয়ার নিয়ে বিস্তারিত থাকছে আজকের আলোচনায়।
প্রভাষক, সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগ, নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি, খুলনা এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে মানবিক ইউনিট অথবা সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে অনার্সে ভর্তি হতে হবে। অনেকেই মনে করে, এই বিষয়ে শুধু মানবিকের শিক্ষার্থীরা পড়তে পারবে; বিষয়টা পুরোপুরি ঠিক নয়। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়েই বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও মানবিকের শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারে। তবে মানবিকের শিক্ষার্থীদের জন্য আসনসংখ্যা বেশি। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে ভর্তির ক্ষেত্রে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বা দাখিল ও আলিম পরীক্ষার ফলাফলের আলাদা যোগ্যতা চেয়ে থাকে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির বিজ্ঞপ্তিতে যোগ্যতার বিষয়ে উল্লেখ থাকে।
যেখানে পড়া যায়
দেশের সরকারি ও বেসরকারি অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে পড়াশোনা করে চার বছর মেয়াদি বিএসএস (সম্মান) ও এক অথবা দুই বছর মেয়াদি এমএসএস ডিগ্রি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি খুলনা, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি প্রভৃতি।
যা পড়ানো হয়
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পড়াশোনা করে তাদের বলা হয় ‘জ্যাক অব অল ট্রেডস বা সবজান্তা শমসের’। কেননা, এখানে বিভিন্ন ধরনের কোর্স পড়ানো হয়। সেগুলো পড়ার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী সমাজ ও গণমাধ্যম সম্পর্কে বিস্তর জ্ঞান লাভ করে। এর মধ্যে অন্যতম হলো কমিউনিকেশন, জার্নালিজম, রিপোর্টিং, অ্যাডভান্স রিপোর্টিং, ফিচার রাইটিং, এডিটিং অ্যান্ড পেজ মেকআপ, অনলাইন জার্নালিজম, ইলেকট্রনিক জার্নালিজম, মোবাইল জার্নালিজম, ডেভেলপমেন্ট জার্নালিজম, ফটো জার্নালিজম, পিস জার্নালিজম, মিডিয়া সোসাইটি অ্যান্ড কালচার, জেন্ডার কমিউনিকেশন, পাবলিক কমিউনিকেশন, গণমাধ্যম আইন, গণমাধ্যম গবেষণা, চলচ্চিত্র তত্ত্ব, জনসংযোগ ইত্যাদি।
চাকরি বা ক্যারিয়ারের সুযোগ
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতার পড়াশোনায় যেমন বৈচিত্র্য ও সৃজনশীল বিষয় রয়েছে, ঠিক তেমনি এ বিষয়ে পড়াশোনা করে বিভিন্ন সেক্টরে বৈচিত্র্যময় ক্যারিয়ার গড়া যায়। দেশে-বিদেশে দিন দিন টিভি, সংবাদপত্র, অনলাইন নিউজ পোর্টাল বেড়েই চলেছে। তাই গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতার গ্র্যাজুয়েটরা খুব সহজেই সাংবাদিকতা পেশায় নিজেদের নিয়োজিত করতে পারেন। সাংবাদিক বলতে অনেকে মনে করে, ক্যামেরা হাতে নিয়ে মিছিল, মিটিং আর মাঠে দৌড়ে বেড়াতে হবে। কিন্তু আপনি চাইলে রেডিও, টিভি, পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টালের ডেস্ক জব তথা সাব এডিটির, নিউজ রুম এডিটর হতে পারেন। চলচ্চিত্রের বিভিন্ন শাখায় ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। সরকারি-বেসরকারি প্রায় সব অফিসে জনসংযোগ কর্মকর্তার পদ রয়েছে, যেখানে সাংবাদিকতার গ্র্যাজুয়েটদের অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। বিভিন্ন বিজ্ঞাপন সংস্থা, পাবলিক রিলেশন ফার্ম, দেশি-বিদেশি এনজিও, গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠানে উচ্চ বেতনে চাকরি করার সুযোগ রয়েছে। অনেকের ধারণা, সাংবাদিকতায় পড়ে শুধু সাংবাদিকই হওয়া যায়। বিষয়টা মোটেও ঠিক নয়। আপনি চাইলে ব্যাংকার হতে পারবেন, বিসিএস ক্যাডার হতে পারবেন, প্রাইমারি স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তা ছাড়া অন্য সাবজেক্টের গ্র্যাজুয়েটদের মতো বাংলাদেশের গতানুগতিক অন্যান্য সরকারি চাকরি করার সুযোগ তো রয়েছেই।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
