এইমাত্র পাওয়া

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ২৫ শতাংশ বোনাসের চেক ছাড়, বিটিএ’র ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) শিক্ষক-কর্মচারীদের ঈদুল আজহার উৎসব ভাতার চেক ছাড় হয়েছে। উৎসব ভাতার চেক অনুদান বণ্টনকারী চারটি রাষ্ট্রীয় ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জুন) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।

বরাবরের মতো এবারও স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা মূল বেতনের ২৫ শতাংশ ও কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা পাবেন। তবে বর্তমান মূল্যস্ফীতিতে শিক্ষক কর্মচারীদের শতভাগ উৎসব ভাতা প্রদান না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ) এর কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যক্ষ মো. বজলুর রহমান মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শেখ কাওছার আহমেদ।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁরা বলেন, দেশের সিংহভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী দ্বারা। পরিতাপের বিষয় এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মাত্র ১,০০০ টাকা বাড়ি ভাড়া, ২৫% উৎসব ভাতা এবং ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। অথচ একই কারিকুলামের অধীন একই সিলেবাস, একই একাডেমিক সময়সূচি, একইভাবে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজে নিয়োজিত থেকেও আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছে পাহাড়সম বৈষম্য।

অধ্যক্ষ মো. বজলুর রহমান মিয়া শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, সারাদেশে প্রায় ৫ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের বেসিক বেতনের পুরো অংশ সরকার দিলেও দুই ঈদে মাত্র ২৫ শতাংশ উৎসব ভাতা দেয়া হয়। ফলে চাকরিতে প্রবেশের পর একজন শিক্ষক উৎসব ভাতা পান তিন থেকে চার হাজার টাকা। কলেজের শিক্ষক পান সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা। আমরা সরকারের কাছে জাতীয়করণের দাবির পাশাপাশি বর্তমান মূল্যস্ফীতিতে শিক্ষক কর্মচারীদের শতভাগ উৎসব ভাতার দাবি জানিয়েছিলাম। আমরা ভেবেছিলাম আসন্ন ঈদে শতভাগ উৎসব বোনাস দেওয়া হবে। কিন্তু সেই ২৫ শতাংশ উৎসব ভাতাই প্রদান করা হলো যা ৫ লাখ শিক্ষকদের মধ্যে এক চরম ক্ষোভের সঞ্চারণ হয়েছে। অবিলম্বে শতভাগ উৎসব ভাতার দাবি কার্যকর করার আহ্বান জানান এই শিক্ষক নেতা।

বিটিএ’র সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শেখ কাওছার আহমেদ শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি, মুদ্রাস্ফীতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বর্তমান বাজারে এই সামান্য টাকায় কোনোভাবেই প্রয়োজন মেটানো সম্ভব নয়। ফলে পাঁচ লাখ শিক্ষকের মনে নেই ঈদের আনন্দ। আমরা অবিলম্বে এই ২৫ শতাংশ ভাতা বাতিল করে শতভাগ ভাতা দেওয়ার দাবি জানাই।

উল্লেখ, ২০০৪ সাল থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বেতনের ২৫ শতাংশ ও কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা পেয়ে আসা শিক্ষকরা মূল বেতনে শতভাগ উৎসব ভাতা, সরকারি শিক্ষকদের মতো চিকিৎসা ভাতা ও বাড়ি ভাড়া দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। 

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২০/০৬/২০২৩   

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.