অপ্রতিরোধ্য কিশোর গ্যাং এখন আরও বেপরোয়া

ঢাকাঃ অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং। সারাদেশে নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে ওরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। একে অপরকে ক্ষমতা দেখাতে কয়েকজন মিলে পাড়া-মহল্লায় বিভিন্ন নামে গ্যাং গ্রুপ গড়ে তুলছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে কিশোররা। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব, চাঁদাবাজি, চুরি-ছিনতাই, মাদক ব্যবসায় জড়াচ্ছে। স্কুলপড়ুয়া কিশোররাও বিভিন্ন গণপরিবহন থেকে চাঁদাবাজি ও প্রেম নিয়ে বিরোধের জেরে অহরহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে।

অর্থের বিনিময়ে অর্থদাতার প্রতিপক্ষের ওপরও আক্রমণ চালাচ্ছে উঠতি বয়সী ছেলেরা। এমনকি সামান্য অর্থের বিনিময়ে খুনোখুনিতেও জড়িয়ে পড়ছে তারা। দখলবাজিতেও জুড়ি নেই তাদের। শুধু কী তাই। টিকটক ও নাটক-সিনেমার আড়ালে অপরাধ করার জন্যও কিশোর গ্যাং বানানো হচ্ছে বলে গোয়েন্দাদের তথ্যে উঠে এসেছে একাধিকবার।

অভিযান চালিয়েও কিশোর অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। পরাধ বিশ্লেষজ্ঞরা জানান, কিশোর গ্যাংয়ের সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করে স্থানীয় ‘বড় ভাই’রা। ‘হিরোইজম’ প্রকাশ করতে পাড়া-মহল্লায় কিশোর গ্যাং গড়ে উঠছে। ঢাকায় আন্ডারওয়ার্ল্ডের খুনোখুনিতে কিশোর ও তরুণদের ব্যবহারের ঘটনাও ঘটছে। তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, খোদ রাজধানীতে ভয়ংকর কিশোর গ্যাংয়ের সংখ্যা শতাধিক। এসব গ্যাং গ্রুপের সদস্য সংখ্যা কমপক্ষে পাঁচ হাজার। পশ্চিমা সংস্কৃতি অনুসরণ করে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে কিশোরীরা জড়িয়ে পড়ছে। এদের হাতে দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি বিদেশী অবৈধ অস্ত্র রয়েছে। এদের অনেকেই রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অবস্থান করে। আবার কেউ কেউ শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অনুচর হিসেবে কাজ করছে। এরা নিত্য নতুন অভিনব ‘হেয়ার স্টাইল’ করে পাড়া, মহল্লা, অলিগলি ও ফুটপাতে জমিয়ে আড্ডা দেয়। উচ্চ স্বরে গান করে। মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার ক্ষেত্রে বয়সের কোনো বাছ-বিচার নেই। এলাকাভেদে এদের রয়েছে পৃথক গ্রুপ। আধিপত্য ধরে রাখার জন্য এরা লিপ্ত হচ্ছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। এদের কর্মকা-ে আতঙ্কগ্রস্ত এলাকার ব্যবসায়ী, ঠিকাদারসহ অনেকেই টাকা দিয়ে রেহাই পাওয়ার চেষ্টা করে।

গত ২৫ মে মদের টাকা সংগ্রহ করতে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে ইজিবাইক চালক কিশোর শাকিলকে নৃশংসভাবে খুন করে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে কিশোর গ্যাংয়ের লিডার জনিসহ (২১) চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গত এপ্রিল মাসে মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে খুন হয়েছে লেগুনার লাইনম্যান মোহাম্মদ নবী হোসেন। একই থানায় কিশোর গ্যাংয়ের হাতে বেশ কয়েকটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। ২০২১ সালে মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে কামরাঙ্গীরচর পূর্ব রসূলপুরে ১ থেকে ৬ নম্বর রোড এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের হাতে চারটি খুনের ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি আলোচিত কয়েকটি খুনের পর আবারও আলোচনায় আসে কিশোর গ্যাং। গত ২১ মে সংঘবদ্ধ একটি আন্তর্জাতিক টেলিগ্রাম গ্রুপে জড়িয়ে হাজার হাজার কিশোরী-তরুণীকে ব্ল্যাকমেইল করে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। এ সময় ৯ কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সূত্র জানায়, গত পাঁচ বছরে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে অন্তত দুই শতাধিক কিশোর খুন হয়েছে। গত পাঁচ মাসে রাজধানীতে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে কমপক্ষে ২০জন খুন হয়েছে। গত বছর কিশোর গ্যাংয়ের হাতে খুন হয়েছে কমপক্ষে ৩০জন। এর আগের বছর প্রায় ৫০ জন কিশোর খুন হয়েছে। আর গত ১৭ বছরে ঢাকায় কিশোর অপরাধীদের হাতে ১২৫ জন খুন হয়েছেন। এদিকে ছিনতাইকারী কিশোর গ্যাংয়ের হাতে অন্ততপক্ষে দুই শতাধিক পথচারী আহত হয়েছে। পরে তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, কিশোর অপরাধ দমন চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন সময় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে কিশোর অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন করা হচ্ছে। এলাকায় এলাকায় লিফলেটও বিতরণ করা হচ্ছে। তারপরও কিশোর অপরাধীদের দৌরাত্ম্য থামানো যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধের জন্য সারা দেশের কিশোর অপরাধীদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য বলছে, বর্তমানে সারাদেশে কিশোর অপরাধীদের ১৭৫টি দল সক্রিয় রয়েছে। এসব দলে ২ হাজার ৪০জন কিশোর রয়েছে। কিশোর অপরাধের ঘটনায় এখন পর্যন্ত সারা দেশে ৮০০টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি প্রায় ১ হাজার।

গোয়েন্দা সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারাদেশের ১৭৩টি কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহানগরীতেই রয়েছে ১২৩টি। এসব গ্যাং সদস্য ফেসবুক ও ইন্টারনেটে গ্রুপ তৈরি করে ইভটিজিং, ধর্ষণ, খুন, মাদক গ্রহণ, চাঁদাবাজি, ভাড়াটে সন্ত্রাসী হিসেবে দখলবাজি, আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এ ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে খুনের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে। গ্যাং কালচারে জড়িয়ে পড়া এসব কিশোর অপরাধীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে না পারলে ভবিষ্যতে সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে বলে শঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে।

পুলিশের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, হিরোইজম ও অ্যাডভেঞ্চার চিন্তাভাবনা থেকেই কিশোরদের মধ্যে গ্যাং কালচার শুরু হলেও তারা এখন ভয়ংকর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। মাদকের নেশায় জড়িয়ে পড়া থেকে শুরু করে তারা চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা, ঝুঁকিপূর্ণ বাইক ও কার রেসিং, হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ, মারামারি ও এলাকাভিত্তিক আধিপত্যের ঘটনা ঘটাচ্ছে। বখাটেপনা, বুলিং, র‌্যাগিং ইত্যাদি নিয়েও কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে নিজেদের মারামারি ও হতাহতের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) বিপ্লব বিজয় তালুকদার জানান, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের একটি ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। এই ডাটাবেজে কিশোর গ্যাংয়ের কোনো সদস্য গ্রেপ্তার হলে সে কী ধরনের অপরাধ করেছে তার বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে ৫০টি থানার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের খসড়া তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এই ডাটাবেজে ডিএমপি ৮ ডিভিশনে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত রয়েছে ৩৩৬ কিশোর। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মামলা হয়েছে। আর কমপক্ষে ২৫টি স্পটে ৩০টি কিশোর গ্যাং রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি কিশোর গ্যাং রয়েছে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে। এই এলাকায় কমপক্ষে ৩টি কিশোর গ্যাং রয়েছে। এরা লালবাগ ও হাজারীবাগ থানা এলাকায় দাঁড়িয়ে বেড়ায়। এরপর রয়েছে রমনা, মোহাম্মদপুর, উত্তরা, বাড্ডা। এ ছাড়া রাজধানীর উত্তরা, পুরনো ঢাকার বংশাল, নয়াবাজার, বাগদাসা লেনে টানা পার্টি ও মাদকের নেতৃত্বে দেয় কিশোর গ্যাংয়ে লিডার ডন, মাইকেল ইকবাল, মাইকেল সুমন ও চোরট্রা নামে একজন।

এদিকে বাবু বাজার ব্রিজের ওপর পরিবহনে চাদাঁবাজিতে নেতৃত্বে দেয় মাইকেল সুমন। কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের তথ্যমতে, কেন্দ্রে থাকা কিশোরদের ২০ শতাংশ হত্যা এবং ২৪ শতাংশ নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আসামি। ২০২০ সালের প্রথম ছয় মাসে ৮২১টি মামলায় গ্রেপ্তার সংখ্যা ১ হাজার ১৯১।

কিশোর অপরাধ নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বেশি রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায়। সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেন, গোটা মোহাম্মদপুর এলাকার বিভিন্ন গণপরিবহন থেকে চাঁদা তুলছে কিশোর গ্যাংরা। তাদের চাহিদা মতো চাঁদা না দিলেই হামলা, ভাঙচুরসহ নানা হুমকি ধমকি চলে। ভুক্তভোগীরা জানান, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ, জমিদখল আর কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ করছে স্থানীয় সন্ত্রাসী বাদল ওরফে কিলার বাদল। ১৯৯৯ সালে কাটাসুরে ডিস ব্যবসায়ী ইকবালকে হত্যার মধ্য দিয়ে কিলিং মিশন শুরু হয় এই গ্রুপের। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন বিভাগের ডিসি মো : ফারুক হোসেন জানান, সন্ত্রাসী বাদলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। সে পলাতক রয়েছে। তাকে ও তার বাহিনীর সদস্যদের ধরার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, অভিযুক্ত কাউকে ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই। ২০০৩ সালে ব্রাশ ফায়ারে দুটি হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে। এখানে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য রয়েছে. কাইল্যা সুমন, লালু, তাজেল গাজী, হালিম, গ্যারেজ সোহেল, লটারি জসিম, ঘাট বাবু, ক্যাশিয়ার শাহজাহানসহ আরো অনেকে। একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, মোহাম্মদপুর এলাকায় অন্তত সাতটি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-গ্রুপ টোয়েন্টিফাইভ, লাড়া দে, লেভেল হাই, দেখে ল-চিনে ল, কোপাইয়া দে ও ঝিরঝির গ্রুপ নামের গ্যাং।

কামরাঙ্গীরচরে পূর্ব রসূলপুর ১ নম্বর থেকে ৯ নম্বর গলি পর্যন্ত কিশোর গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ করে সিরাজ। সরকারি দলের ছাত্র সংগঠনের এক প্রভাবশালী নেতা পুরো কামরাঙ্গীরচর এলাকা কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করে। এরা মাদক ব্যবসা, জমিদখল, সন্ত্রাস, চাদাঁবাজির সঙ্গে জড়িত। ২০১৮ সালে ডিএমপির লালবাগ বিভাগে মাদক ব্যবসায়ী, গডফাদার, পৃষ্ঠপোষক ও মদতদাতাদের হালনাগাদ তালিকায় উঠে এসেছিল তাদের অনেকের নাম। বসিলা, কেরানীগঞ্জ, পুরনো ঢাকার বংশাল, নয়াবাজার, বাগদাসা লেন, গেন্ডারিয়া, মিল্ক ব্র্যাক, উত্তরাসহ বেশ কয়েকটি এলাকা। একে পর এক অভিযানে পর এসব থানা কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাতœ থামছে না। তুচ্ছ কারণে তারা খুনাখুনিতে জড়িয়ে পড়ছে।

গত আট বছর ধরেই আলোচনায় রয়েছে কিশোর গ্যাং। তবে গত সাড়ে চার বছর ধরে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সাঁড়াশি অভিযানের মুখে গ্যাংগুলোর তৎপরতা কম ছিল। গত ছয় বছরে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে কমপক্ষে ৫ শতাধিক কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত সাড়ে তিন শতাধিক সদস্যকে সাজা দিয়েছে। সাজাপ্রাপ্তদের অধিকাংশই গাজীপুর ও টঙ্গীর কিশোর সংশোধনাগারে রয়েছে।

সম্প্রাতিক সময়ে আবারও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বেড়ে গেছে। ইতোমধ্যে এই কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা থামানো জন্য সারাদেশের বিভাগ, জেলা, উপজেলায় কিশোর গ্যাংয়ের তালিকা তৈরি শুরু করছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান, করোনা মহামারির জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে যুব সমাজের কাজ ছিল না, সে সময় কিশোর গ্যাং তৈরি হয়েছিল মোড়ে মোড়ে। তার একটা বাজে প্রভাব এখনো সমাজে রয়েছে। সেখানেও আমাদের কাজ করতে হবে। ইতোমধ্যে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা কিশোর গ্যাংয়ের ডাটাবেজ তৈরি করে তা নির্মূলে কাজ শুরু করে দিয়েছে। কাউন্সিলের মাধ্যমের তাদের অপরাধের পথ থেকে ফেরানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

র‌্যাবের প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ৭০টি কিশোর গ্যাং সক্রিয়। এর মধ্যে উত্তরায় ২২টি ও মিরপুরে ১০টি গ্যাং সক্রিয়। এ ছাড়া তেজগাঁও, ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুর, হাজারীবাগ, মহাখালী, বংশাল, মুগদা, চকবাজার ও শ্যামপুরে একাধিক গ্যাং সক্রিয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা খুন, ছিনতাই-চাঁদাবাজি, শ্লীলতাহানি ও ইভটিজিং এবং মাদক ব্যবসার মতো অপরাধে বেশি জড়াচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তাদের নিয়ন্ত্রক বা পৃষ্ঠপোষকের ভূমিকায় সমাজের কিছু ‘বড় ভাই’ রয়েছে।

সূত্রগুলো জানায়, ঢাকার শিশু আদালতে শিশু-কিশোরদের মামলার বিচার হতো। ২০১৯ সালের ১৯ জানুয়ারির পর থেকে এসব মামলার বিচার ঢাকার ৯টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে চলছে। ঢাকার শিশু আদালতে ২০১৮ সালের ৩১ নবেম্বর পর্যন্ত ৮৬টি খুনের মামলার বিচারকাজ চলে। ২০০৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরে এসব খুনের ঘটনা ঘটে। পরবর্তী দুই বছরে (২০১৯-২০২০) ঢাকায় আরও ৩৪টি খুনের ঘটনা ঘটে। আর ২০২১ থেকে ২০২২ সালে আগস্ট পর্যন্ত ৫১টি খুনের মামলা বিচার কাজ চলছে। এসবের মধ্যে কয়েক খুনের মামলার বিচারের রায় হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৮/০৬/২০২৩   

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.