নিজস্ব প্রতিবেদক।।
৩৪ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না ৪৯টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ৭৭৭ জন শিক্ষক। তাই বেতনভাতার দাবিতে গতকাল রোববার থেকে রাজধানীর আগারগাঁও কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তারা। বেতনভাতা বঞ্চিত এই শিক্ষকরা জুলাই ২০২০ থেকে বেতনভাতাদি না পাওয়ায় এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জানান, কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারি ৪৯টি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের মানোন্নয়ন ও শিক্ষক স্বল্পতা দূরীকরণের লক্ষ্যে ২০১০ সালের জুলাই মাসে সরকার ‘স্কিলস অ্যান্ড ট্রেনিং এনহান্সমেন্ট (স্টেপ)’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। দুই ধাপে প্রকল্পটি ৩০ জুন ২০১৯ সাল পর্যন্ত চলমান ছিল। তারপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে ৩০ জুন ২০১৯ তারিখের পত্রের মাধ্যমে প্রকল্পের জনবল দিয়ে শিক্ষাকার্যক্রম চালুর পরিপত্র জারি হয়।
আন্দোলনকারীরা বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ার সব ধাপ সম্পন্ন করে ২৩ ডিসেম্বর ২০১২ নিয়োগপত্র পান বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানসহ ৭৭৭ জন শিক্ষক। যাদের সরকারি চাকরির বয়স ইতোমধ্যে শেষ এবং বর্তমানে তারা পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তারা বলেন, প্রকল্প শেষে চাকরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের জন্য প্রধানমন্ত্রী ২২ মে ২০১৯ অনুমতি প্রদান করেন এবং সরকারের থোক বরাদ্দ থেকে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে বেতনভাতাদিও প্রদান করা হয়। যা ২০২০ সালের জুন মাস পর্যন্ত চলমান ছিল, কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। আমাদের জানা মতে, বর্তমানে ফাইলটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে।
শিক্ষকরা বলেন, আমাদের মধ্যে এমন অনেকে রয়েছেন যারা পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাদের অনেকের বেতন না হওয়ায় বাবা-মায়ের চিকিৎসা করাতে পারছেন না, সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে পারছেন না। যত দিন পর্যন্ত দাবি আদায় না হয়, তত দিন আমাদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
সরকার কারিগরি শিক্ষাকে যুগোপযোগী এবং জনপ্রিয়করণের মাধ্যমে ২০২০ সালে ২০%, ২০৩৯ সালে ৩০% এবং ২০৪১ সালে ৫০% উন্নীত করার পরিকল্পনা নেয়, যা বাস্তবায়নে বেতনভাতা বঞ্চিত ৭৭৭ জন শিক্ষক পাঠকার্যক্রমে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন এবং সরকারের লক্ষ্যমাত্রাকে সফল করতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আন্দোলনকারী শিক্ষকরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যাটি দ্রুত সমাধান করে বেতনভাতাদি প্রদান না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন এবং দীর্ঘদিনের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ অবসানের জন্য বকেয়া বেতনভাতা প্রদান ও চাকরি দ্রুত রাজস্ব খাতে আত্তীকরণের দাবি করেন।
জানা যায়, ২০১১ সালে তৎকালীন শিক্ষাসচিব কর্তৃক জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয় এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সমন্বয়ে ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক, সরকারি ৪৯ পলিটেকনিকে রাজস্ব শূন্য পদে, দুই ধাপে মোট সরকারি সকল বিধি অনুসরণপূর্বক ১০১৫ জন শিক্ষককে নিয়োগ প্রদান করেন এবং শিক্ষকদের বেতন তৎকালীন কারিগরি অধিদফতরে পরিচালিত স্টেপ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রদানের ব্যবস্থা করে। উল্লেখ্য, এর আগে বেতনভাতার দাবিতে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ পলিটেকনিক টিচার্স ফেডারেশন এবং আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান (কারিগরি শাখা বাংলাদেশ) সংগঠনের আয়োজনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৩/০৫/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
