এইমাত্র পাওয়া

শিক্ষকদের নিয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যানের আশঙ্কা

প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ। দ্রুত বিকাশমান ও পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে শিক্ষক সমাজ পিছিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

প্রযুক্তি নির্ভর চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষকদের ব্যাপক ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০১৯ উদযাপন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ইউজিসিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ প্রণয়ন কমিটির সদস্য ও বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন জাতীয় কমিটির সমন্বয়ক অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও গ্লোবাল ক্যাম্পেইন ফর এডুকেশনের প্রতিনিধি রাশেদা কে চৌধুরী, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. শামসুল আলম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এম এ মান্নান এবং ইউসেপ বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক তাহসিনা আহমেদ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, শিক্ষকরা জাতির পথ পদর্শক। তারা সঠিক কাজ করতে না পারলে সমাজ অন্যভাবে চালিত হবে। একজন ভালো শিক্ষক সমাজে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারেন বলে মনে করেন তিনি।

শিক্ষকদেরকে শতভাগ অঙ্গিকারবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকরা দেশের ভবিষ্যৎ নির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। এছাড়া, তিনি ছাত্র-শিক্ষক সর্ম্পক বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী প্রাথমিক শিক্ষার মান বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বরোপ করেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মান ভালো না হওয়ায় শিক্ষার উপরের স্তরের মান কাঙ্ক্ষিত হচ্ছে না। যার ফলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে কাঙিক্ষত ফল পাচ্ছে না।

সমাজে শিক্ষকদের মর্যাদা নিশ্চিতের পাশাপাশি শিক্ষকদেরকে তিনি গাইড বই পড়ানো ও কোচিং থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা সমাজে সমস্যা তৈরি করছে বলে জানান তিনি।

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এম এ মান্নান বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে কার্যকরী পদ্ধতি চালু করা প্রয়োজন।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. শামসুল আলম বলেন, ইউজিসিকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। দেশের চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় দিয়ে ইউজিসি কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে ৪৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এ বিশাল কর্মযজ্ঞ ৭২’এর ইউজিসি দিয়ে দেখভাল করা সম্ভব নয়। ইউজিসিকে যথেষ্ট ক্ষমতা দিয়ে একটি উচ্চশিক্ষা কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। শিক্ষায় সংস্কার ও জবাবদিহিতা আনায়নে এটি জরুরি।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.