আমিনুল ইসলাম :
মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ৩০ লাখ মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের স্মরণে ‘বিজয় ফুল’ তৈরির প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে সারা দেশ জুড়ে।
বিগত বছরের ন্যায় এবারও শিক্ষার্থীরা তৈরি করছে বিজয় ফুল। জাতীয় ফুল শাপলাকে বিজয় ফুলের প্রতীক হিসেবে তৈরি করছে শিক্ষার্থীরা। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ছয় দফাকে স্মরণ করিয়ে দিতে এ ফুলে থাকবে ছয়টি পাপড়ি। ছয়টি পাঁপড়ি ও কলি নিয়ে হবে বিজয় ফুল। ফুলের পাঁপড়ি ছয়টি বঙ্গবন্ধুর ছয় দফাকে স্মরণ করাবে। আর মাঝখানের কলিটি হবে ৭ মার্চের প্রতীক- উন্নত মম শির।
আর এই বিজয় ফুলের ডিসপ্লে নিয়ে দেশের সব প্রতিষ্ঠানে হচ্ছে প্রতিযোগিতা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গল্প ও কবিতা রচনা, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, একক অভিনয় ও চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রতিযোগিতা। বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা তদারক করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। আর জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা বাস্তবায়ন করবে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সার্বিকভাবে প্রতিযোগিতার তত্ত্বাবধান করবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
এই প্রতিযোগিতা তিনটি স্তরে অনুষ্ঠিত হয় । ক দল : শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণি, খ দল : ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি এবং গ দল : নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত।
‘বিজয় ফুল’ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের জনগণ তাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে বছরের একটি বিশেষ দিনে পোশাকে বিশেষ প্রতীক ধারণ করে থাকে। যেমন- যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স ও বেলজিয়াম প্রতিবছর ১১ নভেম্বর প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নিহত তাদের বীর শহীদদের স্মরণে ‘রিমেমব্রান্স ডে’ উদযাপন করে। যেসব যোদ্ধা এবং সাধারণ মানুষ যুদ্ধে নিহত হয়েছেন, ওইদিন তাদের স্মরণে পোশাকে লাল পপি ফুল ধারণ করে থাকেন। সেই ধারণা থেকেই বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের স্মরণে ডিসেম্বরে বিজয় ফুলের প্রচলনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেখানে শাপলা ফুল তৈরি করার প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে শিক্ষার্থীরা।
বিজয় দিবস উপলক্ষে নতুন প্রজন্মের কাছে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা উপলব্ধি এবং সংগ্রামী ইতিহাস জানার উদ্দেশ্যে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘বিজয় ফুল’ তৈরির প্রতিযোগিতা ও ‘বিজয় ফুল উৎসব’ আয়োজনের সঙ্গে অন্যান্য প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের তৈরি করা কাগজের ফুল বিক্রি করে অর্জিত অর্থ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার অথবা প্রতিবন্ধীদের সহায়তায় প্রদান করা হবে। বিজয় ফুল তৈরির প্রতিযোগিতার পাশাপাশি স্কুল পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলা ও শুদ্ধভাবে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। এই তিন ইভেন্টে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে প্রধানমন্ত্রী পুরস্কার বিতরণ করবেন।
লেখক: আমিনুল ইসলাম
শিক্ষক
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
