একসঙ্গে আড়াই হাজারেরও অধিক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তিকে আমরা সাধুবাদ জানাই। এর মাধ্যমে প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীই কেবল সরকারি বেতনের আওতায় আসেননি, একই সঙ্গে এসব পরিবারের হাজারো সদস্যের মুখেও হাসি ফুটবে বলে আমরা মনে করি।
এমপিও বা মান্থলি পেমেন্ট অর্ডারভুক্ত হওয়ার কারণে যাদের বেতন নিয়মিত হবে, তাদের হয়তো এমন অনেকেই থাকবেন, যারা দিনের পর দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেবা দিয়ে এসেছেন অথচ ঠিকমতো বেতনও পাননি। আমরা জানি, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে একজন শিক্ষককে কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। নিরলসভাবে মেধা, পরিশ্রম ও সময় দেওয়ার পরও যখন কেউ তার পারিশ্রমিক না পান কিংবা পরিশ্রম অনুযায়ী বা চাহিদার তুলনায় সামান্য পান, তাতে একজন শিক্ষকের পরিবার চালানোই দায়। দীর্ঘদিন পর এমপিওভুক্তির বিষয়টি বৃহস্পতিবার সমকালের প্রধান শিরোনামে এসেছে ‘এমপিওর দ্বার খুলল’ হিসেবে। বঞ্চিত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য এমপিওভুক্তি নিঃসন্দেহে প্রণোদনা হিসেবেই কাজ করবে।
এর মাধ্যমে তারা আগের তুলনায় নিজেদের শিখন-শিক্ষণে, পঠন-পাঠনে ও প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজ করবেন বলেই আমরা মনে করি। যেখানে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিপুল অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই বেসরকারি, সেখানে অন্তত শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন সরকারিভাবে নিশ্চিত করার ওপর আমরা গুরুত্ব আরোপ করতে চাই। এ জন্য সরকারের বেঁধে দেওয়া শর্তাবলি প্রতিষ্ঠানগুলোকে মানতেই হবে। মূলত শিক্ষকদের নিয়োগ বিধিমালা, পরীক্ষার ফল, শিক্ষার্থী সংখ্যা, শিক্ষার মান ইত্যাদি বিষয় সামনে রেখেই একটি প্রতিষ্ঠানকে এমপিওর জন্য মনোনীত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী সে নীতিমালার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে যথার্থই বলেছেন, ‘আপনারা নীতিমালা অনুযায়ী সব নির্দেশনা পূরণ করতে পেরেছেন বলে এমপিওভুক্ত হয়েছেন। কাজেই এটা ধরে রাখতে হবে। কেউ যদি এটা ধরে রাখতে ব্যর্থ হন, সঙ্গে সঙ্গে তার এমপিওভুক্তি বাতিল হবে।
কারণ এমপিওভুক্তি হয়ে গেছে, বেতন তো পাবই, ক্লাস করানোর দরকার কী, পড়ানোর দরকার কী- এ চিন্তা করলে কিন্তু চলবে না।’ প্রধানমন্ত্রীর আগাম সতর্কতা জরুরি এ জন্য যে, এর আগে এমনও হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির পর উল্টো শিক্ষার মান কমে গেছে। এ জন্য আমরা মনে করি, সরকারের তরফ থেকে নিয়মিত তদারকি করা দরকার। যেসব স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত হয়েছে, সেগুলোর নজরদারি যেমন প্রয়োজন, একই সঙ্গে বাকি যে প্রায় সাড়ে চার হাজার প্রতিষ্ঠান ব্যর্থ হলো তারা কেন শর্ত পূরণ করতে পারেনি, তাও বের করা চাই। কারণ এসব প্রতিষ্ঠানে লাখ লাখ শিক্ষার্থী পড়ছে, তারা যথাযথ শিক্ষা পাচ্ছে কি-না, সেখানে আদৌ পড়াশোনা হচ্ছে কি-না, তা দেখার দায়িত্বও সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
এসব স্কুল, কলেজ কিংবা মাদ্রাসাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে এমপিওর যোগ্য হলে এমপিওভুক্ত করে ফেলাই যথাযথ সিদ্ধান্ত। এমপিওর দ্বার বছরের পর বছর বন্ধ হয়ে থাকা শিক্ষার মানোন্নয়নের প্রতিবন্ধক হিসেবেই আমরা মনে করি। আমরা বলি, শিক্ষকতা সমাজের সবচেয়ে সম্মানিত পেশা। যদিও তারা সেভাবে মূল্যায়ন পান না। নানাভাবেই শিক্ষকরা বঞ্চিত। শিক্ষকদের জন্য আলাদা বেতন কাঠামোসহ তাদের বেতন গ্রেড ও মর্যাদা বৃদ্ধির আন্দোলন অনেক দিনের। দিনের পর দিন শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে না থেকে দাবি আদায়ে রাজপথে দেখাটা আমাদের জন্যও লজ্জার।
আমরা মনে করি, প্রত্যেক শিক্ষকেরই এমপিওভুক্তি প্রয়োজন। এবারের এমপিওভুক্তিতে ১০-১২ হাজার শিক্ষক এ সুবিধা পেলেও অর্ধলক্ষাধিক শিক্ষককে হয়তো আবার এমপিওভুক্তির প্রত্যাশায় থাকতে হবে। তারা যেন চিরবঞ্চিত না হন, তা দেখা দরকার। সরকারের নানামুখী উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দৃশ্যমান। একই সঙ্গে শিক্ষায়ও সরকারের বিনিয়োগ বাড়লে তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের মানবসম্পদেরই উন্নয়ন। নতুন এমপিওভুক্তিতে সরকারের অতিরিক্ত উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হবে, তাতে কল্যাণ দেশেরই। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান ও সব শিক্ষক-কর্মচারীকে অভিনন্দন।সুত্র সমকাল
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
