নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
সরকারি হাসপাতালেই আলাদা শিফটে চিকিৎসকদের প্র্যাকটিস করার সুযোগ দিচ্ছে সরকার। অর্থাৎ সরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসকরা চেম্বার করবেন। তবে বেসরকারি হাসপাতালে চেম্বারের মতো খরচ এখানে থাকছে না। ১৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা খরচ এক্ষেত্রে নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী মার্চ থেকে এই কার্যক্রম শুরু করতে চাচ্ছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত নীতিমালা নিয়ে বৈঠক হয়। এ বিষয়ে আরও কয়েকটি বৈঠকের প্রয়োজন আছে বলে জানান স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবং নীতিমালা প্রণয়ন সংক্রান্ত কমিটির প্রধান সাইদুর রহমান। তিনি বলেন, আজ বৈঠক হয়েছে। তবে আরও বৈঠক প্রয়োজন আছে। আমরা চাচ্ছি মার্চ থেকেই এই নীতিমালা কার্যকর করতে
এর আগে গত ২২শে জানুয়ারি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছিলেন, মার্চ থেকে সরকারি হাসপাতাল এবং মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকদের তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের অনুমতি দেয়া হবে।
চিকিৎসকদের এই সুযোগ করে দিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ‘ইনস্টিটিউশনাল প্র্যাকটিস নীতিমালা’ নামে একটি খসড়া তৈরি করেছে। এতে বলা হয়েছে, ৩০০ টাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক (প্রফেসর, অ্যাসোসিয়েট ও অ্যাসিসটেন্ট প্রফেসর) ও ১৫০ টাকায় এমবিবিএস চিকিৎসক দেখাতে পারবেন রোগীরা।
রোগী দেখার টাকা সরকারি তহবিলে জমা হবে; পরবর্তীতে তা চিকিৎসক, কর্মচারী ও হাসপাতালের ফান্ডে বণ্টন করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে নীতিমালায়।
বর্তমানে দেশের সব সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকরা রোগী দেখেন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত। এরপর বেশিরভাগ চিকিৎসক বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখে থাকেন। খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রোগী দেখবেন চিকিৎসকরা। তবে বিকালে অফিস শেষে মানুষ যাতে সেবা নিতে পারে সেজন্য ৩টা থেকে ৭টা পর্যন্ত রোগী দেখার সময় নির্ধারণের পরিকল্পনা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের।
নীতিমালা অনুযায়ী, রোস্টার ভিত্তিতে প্রফেসর, অ্যাসোসিয়েট ও অ্যাসিসটেন্ট প্রফেসররা দুই দিন করে রোগী দেখবেন। এক্ষেত্রে টিকিট নেয়া যাবে দুপুর আড়াইটা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ফি ৩০০ টাকা। এই ৩০০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পাবেন চিকিৎসক, চিকিৎসকের সহকারী পাবেন ৫০ টাকা এবং বাকি ৫০ টাকা জমা হবে হাসপাতালের তহবিলে। আর এমবিবিএস চিকিৎসকের ১৫০ টাকা ফি’র মধ্যে চিকিৎসক পাবেন ১০০ টাকা, সহকারী ২৫ ও সরকারি তহবিলে জমা হবে ২৫ টাকা।
সূত্রে জানায়, সরকারি হাসপাতালের অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও ল্যাব ব্যবহারের জন্য চিকিৎসকদের ফির একটি অংশ সরকারি তহবিলে জমা পড়বে। প্রথম পর্যায়ে ৩১শে মার্চের মধ্যে দেশের ৫০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ২০টি জেলা হাসপাতাল, আটটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও পাঁচটি বিশেষায়িত হাসপাতালে এই সেবা চালু হবে। পরবর্তীতে, আগামী ৩১শে আগস্টের মধ্যে দেশের সব হাসপাতালে ইনস্টিটিউশনাল প্র্যাকটিস চালু করা হবে বলে জানা যায়।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৪/০২/২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
