ছাত্রীদের হিজাব পরতে বারণ করায় প্রধান শিক্ষক গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া: ছাত্রীদের হিজাব পরতে বারণ করার অপরাধে কুষ্ঠিয়ার কুমারখালীর একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আর ওই ঘটনার কথা জানাজানি হতেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে অবিলম্বে ধৃত প্রধান শিক্ষকের মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে। যদিও পুলিশ এবং গ্রামবাসীদের দাবি, শুধু হিজাব পরতেই বারণ করেননি ওই শিক্ষক, তিনি মহা নবীকে নিয়েও কটুক্তি করেছেন। অন্যের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, কুষ্ঠিয়ার কুমারখালীর কয়া চাইল্ড হেভেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু সালেহ দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্রীদের হিজাব ও বোরকা না পরার জন্য চাপ দিয়ে চলেছিলেন। কেন ধর্মীয় আচরণে বাধা দিচ্ছেন কেন তা জানতে গত সোমবার এক অভিভাবক অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে দেখা করেন। দুজনের মধ্যে বেশ কথা কাটাকাটি হয়। স্কুল থেকে ফিরেই ওই অভিভাবক স্থানীয়দের জানান, প্রধান শিক্ষক আবু সালেহ শুধু হিজাব ও বোরকা পরারই বিরোধিতা করেননি। মহা নবীকে নিয়েও কটূক্তি করেছেন। ওই কথা শোনার পরেই উত্তেজিত হয়ে পড়েন আন্যান্য অভিভাবকরা।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষ কয়া বাইতুল মামুন জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। নিমিষেই গোটা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায় তার জন্য পুলিশ গিয়ে গ্রামবাসীদের আশ্বস্ত করেন, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাতেই এনামুল হক নামে এক অভিভাবক ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। বুধবার ভোরে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ওসি মো. মহসীন হোসাইন জানান, বুধবার রাতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে করা হয়েছে।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২২/০২/২৩    

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.