এইমাত্র পাওয়া

জানা গেল আরও যেসব অভিযুক্তের নাম

শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্রীকে রাতভর র‌্যাগিং ও নির্যাতনের ঘটনায় দেশব্যাপী তোলপাড় চলছে। গত শনিবার থেকে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রশাসন ও হল কর্তৃপক্ষের করা তদন্ত কমিটির ডাকে ক্যাম্পাসে এসে শনিবার সেই রাতের বর্ণনা দিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী। ভুক্তভোগীকে নিয়ে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেছেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা।

এরআগে গত ১৪ই ফেব্রুয়ারি প্রশাসন, হল প্রভোস্ট, ছাত্র-উপদেষ্টা ও প্রক্টর বরাবর গণরুমে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের লিখিত অভিযোগ করেন ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ভুক্তভোগী ছাত্রী ফুলপরী খাতুন। অভিযোগপত্র সূত্রে, ১১ ও ১২ই ফেব্রুয়ারি দুই দফায় দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের গণরুমে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হন ফুলপরী। এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড়, বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ, গলায় গামছা পেঁচিয়ে ঝুলানো, ময়লা গ্লাস চেটে পরিষ্কার করানোসহ নানাভাবে নির্যাতন করা হয় তাকে। এসব ঘটনা বাইরে জানালে ধারণকৃত ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয় তাকে। শাখা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরার নেতৃত্বে তাবাসসুমসহ ৭ থেকে ৮ জন এই নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ পত্রে উল্লেখ আছে। ঘটনার অভিযুক্ত সানজিদা ও তাবাসসুমকে শনাক্ত করতে পারলেও বাকি অভিযুক্তদের সবাইকে চিনতে না পারায় তাদের ব্যাপারে কিছু বলতে পারেননি ভুক্তভোগী। এদিকে ঘটনার ৬ দিন পেরিয়ে গেলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে পারেনি প্রশাসন ও হল প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি। কয়েকজন ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

তারা বলেছেন, গণরুমে যেসব নির্যাতনের বর্ণনা ভুক্তভোগী দিয়েছে সেসব সত্য। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সানজিদা ও তাবাসসুম ছাড়াও সেখানে আইন বিভাগের ছাত্রী ইসরাত জাহান মীম, চারুকলা বিভাগের হালিমা খাতুন ঊর্মি ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের মাওয়াবিয়া নির্যাতনের ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিল। তারা সকলেই ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী। তবে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তারা। মীম বলেন, ‘আমি নির্যাতনের সময় ছিলাম না। আমি আমার রুমেই ছিলাম। শুধু অন্তরা আপুর নির্দেশে ওই মেয়েকে ৩০৬ নম্বর রুম থেকে দোয়েল-১ নামক গণরুমে রেখে চলে আসি।’ প্রত্যক্ষদর্শী এক ছাত্রী জানান, ঘটনার রাতে সানজিদার নেতৃত্বে দুইজন এসে ভুক্তভোগীকে গণরুমে নিয়ে যান। তবে বাকি দুইজনকে চিনতে পারেননি প্রত্যক্ষদর্র্শী।

এদিকে নির্যাতিতা ছাত্রীর লিখিত অভিযোগের পর ১৫ই ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও হল প্রশাসন পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওইদিন বিকাল ৪টায় হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী গাজী মো. মহসীন। ১৬ই ফেব্রুয়ারি বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসককে তিনদিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটিকে ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। এ সময় অভিযুক্ত সানজিদা ও তাবাসসুমকে ক্যাম্পাসের বাইরে রাখতে বলা হয়। ১৭ই ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর হল ছেড়ে চলে যান অভিযুক্তরা। পরে ১৮ই ফেব্রুয়ারি তদন্ত কমিটির ডাকে বাড়ি থেকে ক্যাম্পাসে আসেন ভুক্তভোগী ফুলপরী খাতুন। তারা বাবা ও মামাও সঙ্গে আসেন। একইদিনে তদন্তের স্বার্থে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিজ্ঞপ্তিতে নির্যাতনের ঘটনার বিষয়ে কারও নিকট কোনো তথ্য-প্রমাণাদি থাকলে তা লিখিত আকারে বা সশরীরে প্রশাসন কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. রেবা মণ্ডল ও সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটির অফিসে ২০শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আজ অভিযুক্তদের ক্যাম্পাসে ডাকা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ড. রেবা মণ্ডল বলেন, আমাদের তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এখন কিছু বিষয় বলা যাচ্ছে না। তবে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমরা কাজ শেষ করতে পারবো। প্রক্টর ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ বলেন, প্রশাসন ও হল কর্তৃপক্ষের করা তদন্ত কমিটির ডাকে গত শনিবার ভুক্তভোগী ছাত্রী এসেছিলো। আজ সকাল ১০টায় অভিযুক্ত দুই ছাত্রীকেও ডাকা হয়েছে।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২০/০২/২৩   


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.