এইমাত্র পাওয়া

অস্ত্র দেখিয়ে ব্যবসায়ীর ৪৫ হাজার টাকা লুট

শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আবারো ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন এক ব্যক্তি। এবার দিনদুপুরে ছিনতাইয়ের শিকার ইসহাক সোহেল (৩২) নামে এক পোশাক ব্যবসায়ী।

রবিবার বিকাল চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহরুল হক হল সংলগ্ন সড়কে এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। দু’জন অস্ত্রধারী রিকশার গতিরোধ করে সঙ্গে থাকা নগদ ৪৫ হাজার টাকা কেড়ে নেয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সোহেল বলেন, আমি চারটার দিকে দোকানের জন্য মালামাল কিনতে রিকশাযোগে নীলক্ষেতের দিকে যাচ্ছিলাম। রিকশা জহরুল হক হল অতিক্রম করার পর কেউ একজন ভুল নামে আমাকে চিৎকার করে ডাকতে থাকে। আমি প্রথমে মনোযোগ না দেয়ার চেষ্টা করি। একটু পরে তারা রিকশার গতিরোধ করে আমাকে টেনে ধরে নামান। পরে কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাকে মারতে শুরু করেন। এ সময় তাদের একজন নিজেকে ‘আওয়ামী লীগ’ নেতা মামুন পরিচয় দেন।

এরপর সে তার কোমরে থাকা পিস্তল দেখিয়ে আমার সঙ্গে থাকা টাকাসহ সব দিয়ে দিতে বলে। অন্যথায় মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
তিনি বলেন, রিকশাচালক তাদের বাধা দিতে গেলে তাকেও একাধিক চড়-থাপ্পড় মারে অস্ত্রধারীরা। পরে আমার ব্যাগ থেকে ৪৫ হাজার টাকা জোর করে নিয়ে নেয়। টাকা নেয়ার পর তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরের দিকে চলে যায়। বিকাল বেলায় ওই সময়টাতে সড়কে লোকজন খুব বেশি ছিল না বলে সাহায্যের জন্য কাউকে ডেকেও পাননি বলেও জানান ভুক্তভোগী সোহেল। এ ঘটনায় মামলা করবেন কিনা জানতে চাইলে সোহেল জানান, এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। আমি অসহায় মানুষ। মামলা করলে আবার বিপদে পড়বো কিনা বুঝতে পারছি না।

ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রকাশ্যে অস্ত্র দেখিয়ে ছিনতাইয়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, এ বিষয়ে আমি এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অভিযোগ পাইনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করে থাকলে তাতে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মারধর ও শ্লীলতাহানির ঘটনা। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে অপর্যাপ্ত লাইটিং, সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকা ও দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুযোগে একটি চক্র নিয়মিত এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। অনেক সময় এসব কর্মকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠছে। এসব ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপরতা দেখালেও কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না অপরাধমূলক এসব কর্মকাণ্ড।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২০/০২/২৩   


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.